রেওয়ায়ত ২১৫. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) দীর্ঘক্ষণ জামরা-ই-উলা এবং জামরা-ই-বুসতার নিকট দাঁড়াইয়া থাকিতেন। তাকবীর-এ-তাশরীক ও হামদ পড়িতেন এবং দু'আ করিতে থাকিতেন। জামরা-ই-আকাবা শেষ কঙ্কর নিক্ষেপের নিকট তিনি দাঁড়াইতেন না।
রেওয়ায়ত ২১৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন কোন আহলে-ইলমের নিকট তিনি শুনিয়াছেন যে, কঙ্কর এত ছোট হওয়া উচিত যাহাতে দুই আঙুল দ্বারা নিক্ষেপ করা যায়। মালিক (রহঃ) বলেন, আমার মতে উহা হইতে কঙ্কর সামান্য বড় হওয়া উচিত। নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ ১২ তারিখের সূর্যস্ত পর্যন্ত যে ব্যক্তি মিনায় অবস্থান করিবে ১৩ তারিখে কঙ্কর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত সে যেন ফিরিয়া না যায়।
রেওয়ায়ত ২১৮. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য সাধারণত পায়ে হাটিয়া লোকজন আসা-যাওয়া করিত। সর্বপ্রথম মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রাঃ) আরোহী অবস্থায় নিক্ষেপ করেন।
রেওয়ায়ত ২১৯. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ)-এর নিকট মালিক (রহঃ) জিজ্ঞাসা করিয়াদিলেনঃ কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) কোথা হইতে জামরা-ই-আকাবার কঙ্কর নিক্ষেপ করিতেন। তিনি বলিলেনঃ যে স্থান হইতে সুবিধা এবং সহজ হইত সেই স্থান হইতেই তিনি উক্ত সময় কঙ্কর নিক্ষেপ করিতেন। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিলঃ অসুস্থ ও শিশুদের তরফ হইতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা যায় কিনা? উত্তরে তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইহা জায়েয। তবে অসুস্থ ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় অনুমান করিয়া স্বীয় স্থানে থাকিয়াই ‘আল্লাহু আকবার’ বলিবে এবং একটি কুরবানী করিবে। আইয়্যামে তাশরীকের মধ্যে যদি সুস্থ হইয়া পড়ে তবে নিজে কঙ্কর নিক্ষেপ করিবে এবং একটি কুরবানী দিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ওযু ব্যতীত কঙ্কর নিক্ষেপ করিলে বা সায়ী করিলে উহা পুনরায় আদায় করিতে হইবে না বটে কিন্তু জানিয়া-শুনিয়া এইরূপ করা উচিত নহে।
রেওয়ায়ত ২২১. আবুল বাদ্দা ইবন আসিম ইবন আদী (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের রাখালগণকে মিনা ব্যতীত অন্য স্থানেও রাত্রি যাপন করার অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। দশ তারিখ এবং উহার পরদিন ও উহার পরবর্তী দিন (১১ ও ১২ তারিখ) সে রমিয়ে জমর (কঙ্কর নিক্ষেপ) করিবে। চতুর্থ দিন অর্থাৎ ১৩ তারিখও যদি সে সেখানে অবস্থান করে তবে কঙ্কর নিক্ষেপ করিবে।
রেওয়ায়ত ২২২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) আতা ইবন আবি রাবাহ (রহঃ)-কে উল্লেখ করিতে শুনিয়াছেন- উটের রাখালদিগকে কঙ্কর নিক্ষেপের অনুমতি দেওয়া হইয়াছে। আতা ইবন রাবাহ বলেনঃ এই অনুমতি প্রথম যুগ হইতে প্রচলিত ছিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আবুল বাদ ইবন আসিম ইবন আলী বর্ণিত উপরিউক্ত হাদীসটির মর্মার্থ হইল, সে দশ তারিখে রমী করার পর এগার তারিখ অতিবাহিত হইয়া গেলে বার তারিখে আসিয়া এগার এবং বার উভয় তারিখের রমী করবে। কারণ ওয়াজিব হওয়ার পূর্বে কোন বস্তুর কাযা হয় না; যখন তাহার উপর ওয়াজিব হইল এবং সেইদিন অতিবাহিত হইল তখন সেইদিনের রমী কাযা করিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ২২৩. আবু বকর ইবন নাফি' (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- সফিয়া বিনত আবি উবায়দের ভ্রাতৃকন্যার মুযদালিফায় নিফাস শুরু হয়। শেষে তিনি এবং তাহার ভ্রাতৃকন্যা সেখানেই থাকিয়া যান। দশ তারিখ যখন তাহারা মিনায় পৌছিলেন তখন সূর্য উঠিয়া গিয়াছিল। মিনায় পৌছার পর আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) উভয়কে কঙ্কর নিক্ষেপের নির্দেশ দিলেন। তবে তাহাদের উপর কোন বদলার হুকুম দেন নাই। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিলঃ কেউ যদি মিনার দিবসগুলির কোন তারিখের রমী করিতে তুলিয়া যায় আর এইদিকে সূর্যও অস্তমিত হইয়া যায় তবে সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ রাতে বা দিনে যখনই স্মরণ হইবে রমী করিয়া নিবে। নামাযের কথা ভুলিয়া গেলে যেমন রাত্রে বা দিনে যখনই স্মরণ হয় তখনই পড়িয়া নিতে হয়, এখানেও তাহাই করিবে। তবে মিনা হইতে চলিয়া যাওয়ার পর যদি স্মরণ হয় তবে তাহার উপর কুরবানী দেওয়া ওয়াজিব হইবে।
রেওয়ায়ত ২২৪. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আরাফাতের ময়দানে সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। হজ্জের আরকান ও আহকাম সম্পর্কে তাহাদিগকে শিক্ষা দেন। অন্যান্য কথার মধ্যে তিনি ইহাও বলেন যে, মিনা আগমন এবং কঙ্কর নিক্ষেপের পর স্ত্রীসহবাস এবং সুগন্ধি দ্রব্য ব্যতীত তোমাদের জন্য সবকিছুই হালাল হইয়া যাইবে। বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ (তাওয়াফে যিয়ারত বা ইফাযা) না করা পর্যন্ত তোমাদের কেউ যেন সুগন্ধি দ্রব্য ও স্ত্রী স্পর্শ না করে।