রেওয়ায়ত ২০৪. হিশাম ইবন উরওয়াহ্ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দুই রাকাআত কসর নামায আদায় করিয়াছিলেন। আবু বকর (রাঃ) এবং উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাঁহাদের আমলে দুই রাকাআত করিয়া পড়িয়াছিলেন। এমন কি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-ও তাহার খিলাফতের কিছুকাল দুই রাকাআত করিয়া পড়িয়াছেন, কিন্তু পরে তিনি চার রাকাআত করিয়া পড়িতে শুরু করেন।
রেওয়ায়ত ২০৫. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) যখন মক্কায় আসেন তখন দুই রাকাআত নামায আদায় করিলেন। অতঃপর বলিলেনঃ হে মক্কাবাসিগণ, তোমরা স্ব স্ব নামায পূর্ণ করিয়া নাও। কারণ আমরা মুসাফির (তাই আমাদিগকে কসর পড়িতে হইয়াছে)। পরে তিনি মিনায় গিয়া দুই রাকাআতই আদায় করিলেন। তবে সেখানেও তিনি নামাযের পর কিছু বলিয়াছিলেন বলিয়া আমরা সংবাদ পাই নাই।
রেওয়ায়ত ২০৬. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, মক্কায় উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) দুই রাকাআত নামায পড়াইয়া বলিয়াছিলেনঃ হে মক্কাবাসিগণ! আমরা মুসাফির! তোমরা তোমাদের নামায পূর্ণ করিয়া নাও। পরে মিনায়ও তিনি দুই রাকাআত নামায পড়েন। কিন্তু সেখানেও কিছু বলিয়াছিলেন বলিয়া আমরা সংবাদ পাই নাই। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিলঃ মক্কাবাসিগণ আরাফাতের ময়দানে চার রাকাআত পড়িবে, না দুই রাকাআত পড়িবে? অনুরূপভাবে আমীরে-হজ্জ যদি মক্কাবাসী হন তবে তিনি এই ব্যাপারে কি করিবেন? মক্কাবাসিগণ মিনায় থাকাকালে কসর (দুই রাক’আত) পড়িবে কিনা ? উত্তরে তিনি বলিলেনঃ মক্কাবাসিগণ যতক্ষণ মিনা ও আরাফাতে অবস্থান করিবে মক্কায় প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত কসরই পড়িবে। আমীরে-হজ্জও যদি মক্কাবাসী হন তিনিও কসর পড়িবেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মিনা এবং আরাফাতের বাসিন্দাগণ কসর পড়িবেন না, পূর্ণ নামায পড়িবেন।
রেওয়ায়ত ২০৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ১০ তারিখ একটু বেলা হইয়া আসিলে তাকবীর পড়া শুরু করেন। তাহার সঙ্গিগণও তাকবীর বলিতে শুরু করেন। পরের দিন তিনি একটু বেলা হইয়া আসিলে তাকবীর পড়া শুরু করেন এবং সঙ্গিগণও তখন পড়া শুরু করেন। তৃতীয় দিন সূর্য হেলিয়া যাওয়ার পর তিনি তাকবীর বলিলেন। সঙ্গিগণও তখন তাকবীর বলিলেন। সমস্বরে তাকবীর বলার এই আওয়ায মক্কা পর্যন্ত গিয়া পৌছায়। অন্যান্য মানুষ তখন বুঝিতে পারে যে, উমর (রাঃ) প্রস্তর নিক্ষেপের (রমীয়ে জামর) জন্য রওয়ানা হইয়া গিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট হুকুম হইল, আইয়্যামে তাশরীকের সময় প্রত্যেক নামাযের পর তাকবীর পড়িতে হইবে। ইমাম প্রথমে তাকবীর বলিবেন, মুকতাদিগণ তাহার অনুসরণ করবেন। বিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখের যুহর হইতে তাকবীর বলা শুরু করিবে এবং ১৩ তারিখ ফজরের সময় তাহা শেষ করবে। ইমাম-মুকতাদি সকলেই এই তাকবীর পাঠ করিবে। নারী-পুরুষ সকলের উপরই পাঠ করা ওয়াজিব। জামাতে নামায পড়ুক বা একাকী, মিনায় অবস্থানরত থাকুক বা অন্য কোনখানে, সকল অবস্থায়ই উহা পাঠ করিতে হইবে। ইমামুল-হজ্জ এবং মিনার ময়দানে অবস্থিত হাজীগণের অনুসরণ করিবে অন্যান্য লোক। তাকবীরের বেলায় তাহারা যখন মিনা হইতে প্রত্যাবর্তন করিবে ও ইহরাম ভঙ্গ করিবে, তখন মুহলিদের (ইহরাম অবস্থায় যাহারা নাই) অনুসরণ করিবে যাহাতে তাহাদেরই মত হয় অর্থাৎ মুহরিম ও মুহিল দুই দলের মধ্যে তাকবীর বলার ব্যাপারে পার্থক্য নাই। আর যাহারা হজ্জ সম্পাদনকারী নহে, তাহারা কেবল আইয়্যামে তাশরীকের বেলায় হাজীদের অনুসরণ করবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ কুরআনে উল্লিখিত ‘আইয়্যামে মা’দুদাত’ হইল আইয়্যামে তাশরীক।
হাদিস 909 — Muwatta Malik 20:205
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَاخَ بِالْبَطْحَاءِ الَّتِي بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَصَلَّى بِهَا . قَالَ نَافِعٌ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَفْعَلُ ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ২০৯. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলায়ফা ময়দানের প্রস্তুরাকীর্ণ স্থানে স্বীয় উট বসাইয়া নামায পড়িয়ছিলেন। নাফি’ (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তদ্রুপ করিতেন।মালিক (রহঃ) বলেনঃ হজ্জ সমাধা করিয়া মদীনা ফেরার পথে ‘মাআররাস’ নামক স্থানে প্রত্যেকে যেন নামায পড়ে। আর নামাযের ওয়াক্ত না হইলে ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত যেন অপেক্ষা করে এবং যত রাকাআত পড়া সহজ তাহা যেন পড়িয়া নেয়। কারণ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে শেষরাতে অবস্থান করিয়াছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-ও সেখানে স্বীয় উট বসাইতেন এবং অবস্থান করিতেন।
রেওয়ায়ত ২১১. মালিক (রহঃ) নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ লোকেরা আমার নিকট বলিয়াছেনঃ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) জামরা-এ-আকাবা বা প্রস্তর নিক্ষেপের স্থানের পশ্চাৎ হইতেই লোকদিগকে মিনার দিকে ফিরাইয়া দেওয়ার জন্য কিছুসংখ্যক লোক নিযুক্ত করিয়া রাখিতেন।
রেওয়ায়ত ২১৩. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ মিনায় অবস্থানের রাত্রিসমূহে কেউ যেন মিনা ব্যতীত অন্যত্র রাত্রি যাপন না করে।