وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ، يَقُولُ بَيْدَاؤُكُمْ هَذِهِ الَّتِي تَكْذِبُونَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا مَا أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ عِنْدِ الْمَسْجِدِ يَعْنِي مَسْجِدَ ذِي الْحُلَيْفَةِ .
রেওয়ায়ত ৩২. সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) তাহার পিতা আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট শুনিয়াছেন, তিনি বলেনঃ এই স্থানটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম ইহরাম বাধিয়াছিলেন বলিয়া তোমরা ভুল ধারণা করিয়া থাক। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফাস্থ মসজিদের নিকট হইতে লাব্বায়কা বলিয়াছেন।
হাদিস 736 — Muwatta Malik 20:32
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ أَرْبَعًا لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِكَ يَصْنَعُهَا . قَالَ وَمَا هُنَّ يَا ابْنَ جُرَيْجٍ قَالَ رَأَيْتُكَ لاَ تَمَسُّ مِنَ الأَرْكَانِ إِلاَّ الْيَمَانِيَيْنِ وَرَأَيْتُكَ تَلْبَسُ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ وَرَأَيْتُكَ تَصْبُغُ بِالصُّفْرَةِ وَرَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوُا الْهِلاَلَ وَلَمْ تُهْلِلْ أَنْتَ حَتَّى يَكُونَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَمَّا الأَرْكَانُ فَإِنِّي لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمَسُّ إِلاَّ الْيَمَانِيَّيْنِ وَأَمَّا النِّعَالُ السِّبْتِيَّةُ فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلْبَسُ النِّعَالَ الَّتِي لَيْسَ فِيهَا شَعَرٌ وَيَتَوَضَّأُ فِيهَا فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَلْبَسَهَا وَأَمَّا الصُّفْرَةُ فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْبُغُ بِهَا فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَصْبُغَ بِهَا وَأَمَّا الإِهْلاَلُ فَإِنِّي لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ .
রেওয়ায়ত ৩৩. উবায়দ ইবন জুরায়জ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে বলিলেনঃ হে আবু আবদুর রহমান! এমন চারটি বিষয় আপনার মধ্যে দেখিতে পাই যাহা আপনার অন্যান্য সাথীর মধ্যে দেখিতে পাওয়া যায় না। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ সেইগুলি কি? বলত শুনি। ইবন জুরায়জ বলিলেনঃ তাওয়াফের সময় আপনাকে রুকনে য়্যামানী এবং হাজরে আসওয়াদই কেবল ছুঁইতে দেখা যায়, লোমশূন্য চামড়ার জুতা আপনি পরিধান করিয়া থাকেন, আপনি হলুদ রঙের খেজাব ব্যবহার করেন, মক্কায় অবস্থান করিলে আপনি যিলহজ্জ মাসের আট তারিখে ইহরাম বাঁধিয়া থাকেন অথচ অন্যরা চাঁদ দেখামাত্র ইহরাম বাধিয়া নেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) জবাবে বলিলেনঃ রুকনে য়্যামানী ও হাজরে আসওয়াদ ব্যতীত অন্য কোন রুকন স্পর্শ করিতে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখি নাই। লোমশূন্য জুতা পরিতেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিয়াছি এবং সেই জুতা পরিধান করা অবস্থায় তিনি ওযুও করিতেন। তাই উহা পরিতে আমার ভাল লাগে। হলুদ রঙের খেজাবও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ব্যবহার করিতে দেখিয়াছি তাই আমার তাহা ভাল লাগে। আর ইহরাম সম্বন্ধে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিয়াছি যতক্ষণ তাহাকে লইয়া যাত্রার জন্য উট না দাঁড়াইত ততক্ষণ তিনি তালবিয়া পড়িতেন না।
রেওয়ায়ত ৩৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ বিজ্ঞ আলিমগণের নিকট শুনিয়াছি, তাহারা বলিতেনঃ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা মহিলাদের বেলায় প্রযোজ্য নহে। মহিলাগণ আস্তে পড়িবেন যেন কেবল নিজেরাই আওয়ায শুনিতে পান। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মসজিদের ভিতরে তালবিয়ার আওয়ায খুব বেশি উচু করিবে না। বরং এতটুকু শব্দে পড়িবে যেন নিজে এবং পাশের লোকটি কেবল শুনিতে পায়। তবে মিনা মসজিদ এবং মসজিদুল হারামে উচ্চস্বরে ‘লাব্বায়কা’ পাঠ করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কতিপয় আলিমের নিকট শুনিয়াছি, প্রত্যেক নামাযের পর এবং চড়াই উতরাই-এর সময় লাব্বায়কা পাঠ করা মুস্তাহাব।
রেওয়ায়ত ৩৬. খাল্লাদ ইবন সায়িব আনসারী (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ জিবরীল (আঃ) আসিয়া আমাকে নির্দেশ দিয়া গেলেন আমার সঙ্গীদের যেন উচ্চস্বরে ‘লাব্বায়কা’ বলার নির্দেশ দেই।
হাদিস 740 — Muwatta Malik 20:36
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَأَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْحَجِّ فَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ فَحَلَّ وَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ أَوْ جَمَعَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَلَمْ يُحِلُّوا حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ .
রেওয়ায়ত ৩৮. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ (হাজ্জাতুল বিদা) বিদায় হজ্জের সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত রওয়ানা হইলাম। আমাদের মধ্যে কেহ কেহ শুধু উমরার, আর কেহ কেহ উমরা ও হজ্জ উভয়ের, আর কেউ শুধু হজ্জের ইহরাম বাধিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বাধিয়াছিলেন শুধু হজ্জের ইহরাম। সুতরাং যাহারা শুধু উমরার ইহরাম বাধিয়াছিলেন তাহারা উমরা করিয়াই ইহরাম খুলিয়া ফেলিয়াছেন। আর যাহারা হজ্জ ও উমরা উভয়ের বা শুধু হজ্জের ইহরাম বাধিয়াছিলেন তাহারা দশ তারিখ পর্যন্ত আর ইহরাম খুলেন নাই।
হাদিস 741 — Muwatta Malik 20:37
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْرَدَ الْحَجَّ .
রেওয়ায়ত ৪২. জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- মিকদাদ ইবন আসওয়াদ (রাঃ) সুকইয়াতে[1] আলী ইবন আবূ তালিব (রাঃ)-এর নিকট আসিলেন। আলী (রাঃ) তখন উটের বাচ্চাগুলিকে পানিতে গোলা আটা এবং ঘাস খাওয়াইতেছিলেন। মিকদাদ (রাঃ) বললেনঃ উসমান ইবন আফফান (রাঃ) হজ্জে কিরান করিতে নিষেধ করিতেছেন। ইহা শুনিয়া আলী (রাঃ) ঐ অবস্থায়ই উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইয়া গেলেন। তখনও তাহার হাতে আটা লাগিয়াছিল। আজ পর্যন্ত আমি তাহার হাতের আটার দাগ ভুলিতে পারি নাই। তিনি উসমান (রাঃ)-এর নিকট গিয়া বলিলেনঃ আপনি হজ্জে কিরান নিষেধ করেন। তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইহাই আমার মত। আলী (রাঃ) ক্রোধাৰিত হইয়া বাহির হইয়া গেলেন এবং বলিলেনঃ (لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ بِحَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ مَعًا) হে আল্লাহ, আমি হজ্জ ও উমরা উভয়ের এক সঙ্গে তালবিয়া পাঠ করিলাম।[2] মালিক (রহঃ) বলেনঃ হজ্জে কিরানের ইহরামকারী ব্যক্তি দশ তারিখে কুরবানীর পশু যবেহ না করা (তাহার সঙ্গে পশু هدى থাকিলে) এবং মিনায় গিয়া ইহরাম না খোলা পর্যন্ত নিজের চুল কাটিবে না। এবং ইহরাম অবস্থায় যাহা নিষিদ্ধ তাহা করিবে না।
রেওয়ায়ত ৪৪. মালিক (রহঃ) কতিপয় বিজ্ঞ আলিমের নিকট শুনিয়াছেন, তাহারা বলেনঃ কেহ প্রথমে কেবল উমরার ইহরাম বাঁধিল, পরে সে যদি উমরার সহিত হজ্জেরও ইহরাম বাঁধিতে চাহে তবে তাওয়াফ ও সায়ী বায়নাস্-সাফা ওয়াল মারওয়ার (সাফা ও মারওয়ার পর্বতদ্বয়ের মধ্যবর্তী নির্দিষ্ট স্থানে দৌড়ান) পূর্ব পর্যন্ত তাহা পারে। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহাই করিয়াছিলেন। তিনি একবার বলিয়াছিলেনঃ যদি বায়তুল্লাহু পৌছিতে বাধাপ্রাপ্ত হই তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় যাহা করিয়াছিলেন আমিও তাহাই করিব। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ উমরার ইহরাম বাঁধিয়াছিলেন। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে বলিলেন, যাহাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু রহিয়াছে তাহারা এই সঙ্গে হজ্জের ইহরামও বাধিয়া নিবে। অতঃপর একত্রে উভয় ইহরাম খুলিবে।