রেওয়ায়ত ৬৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি হজ্জের মাসে উমরা করিয়া বাড়ি ফিরিয়া গেল, আবার সেই বৎসরেই হজ্জ করিল, ঐ ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব হইবে না। কারণ তাহার হজ্জ তামাত্তু বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মক্কার বাহিরের কোন ব্যক্তি যদি মক্কায় আসিয়া সেখানে স্থায়িভাবে বসবাস করিতে শুরু করে এবং হজ্জের মাসে উমরা করিয়া সেই বৎসরেই হজ্জ করে তবে তাহার হজ্জ তামাত্তু’ হইবে না। তাহার উপর কুরবানী বা রোযা কিছুই ওয়াজিব হইবে না। কেননা মক্কার নাগরিকত্ব গ্রহণ করায় সে মক্কাবাসীদের মত হইয়া গেল। আর মক্কার স্থায়ী বাসিন্দাদের হজ্জে তামাত্তু হয় না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল, মক্কার কোন স্থায়ী বাসিন্দা জিহাদ বা অন্য কোন সফরে বাহিরে চলিয়া গিয়াছিল, পরে সে মক্কায় বসবাস করার উদ্দেশ্যে আবার সেখানে ফিরিয়া আসিল, সে হজ্জের মাসে উমরার নিয়তে মক্কায় আসিয়া উমরা সমাধা করার পর ঐ বৎসর হজ্জও করিল, ঐ ব্যক্তির হজ্জ কি হজ্জে তামাত্তু’ হইবে? মালিক (রহঃ) বলিলেনঃ না, তাহর হজ্জ তামাত্তু বলিয়া গণ্য হইবে না এবং তাহার উপর কুরবানী বা রোযা কিছুই ওয়াজিব হইবে না। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ (ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ) অর্থাৎ ইহা তাহাদের জন্য যাহাদের পরিজনবর্গ মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নহে। (বাকারাঃ)
রেওয়ায়ত ৬৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন- শাওয়াল, যিলকা'দা ও যিলহজ্জ মাসে উমরা করিয়া যদি কেউ হজ্জ পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করে এবং হজ্জ করিয়া নেয় তবে তাহার এই হজ্জ হজ্জে তামাত্তু বলিয়া গণ্য হইবে। সামর্থ্য থাকিলে তাহার উপর কুরবানী ওয়াজিব হইবে। অসমর্থ হইলে হজ্জের সময় তিনদিন এবং হজ্জের পর বাড়ি ফিরিয়া সাত দিন তাহাকে রোযা রাখতে হইবে।
রেওয়ায়ত ৬৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক উমরা আরেক উমরার মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের জন্য কাফফারাস্বরূপ। জান্নাতই মকবুল হজ্জের প্রতিদান।
হাদিস 768 — Muwatta Malik 20:64
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يَقُولُ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ كُنْتُ تَجَهَّزْتُ لِلْحَجِّ فَاعْتَرَضَ لِي . فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اعْتَمِرِي فِي رَمَضَانَ فَإِنَّ عُمْرَةً فِيهِ كَحِجَّةٍ " .
রেওয়ায়ত ৬৯. সুমাই (রহঃ) আবু বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে আসিয়া আরয করিলঃ হজ্জের সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করা সত্ত্বেও একটি বাধার দরুন আমি হজ্জ করিতে পারি নাই, এখন কি করিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ রমযান মাসে উমরা করিয়া নাও। রমযান মাসের উমরাতে হজ্জের সমান সওয়াব রহিয়াছে।
রেওয়ায়ত ৭০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ হজ্জ ও উমরার মাসে তোমরা ব্যবধান রাখিও যাহাতে হজ্জ ও উমরা উভয়ই সম্পূর্ণরূপে আদায় হইতে পারে। ইহার উপায় হইল, হজ্জের মাসে তোমরা উমরা করিও না
রেওয়ায়ত ৭১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উসমান ইবন আফফান (রাঃ) যখন উমরা করিতেন, মদীনায় ফিরিয়া না যাওয়া পর্যন্ত উট হইতে অবতরণ করিতেন না। মালিক (রহঃ) বলেন, উমরা করা সুন্নত। এমন কোন মুসলিম দেখা যায় নাই যিনি ইহা পরিত্যাগ করার অনুমতি দেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ একই বৎসরে একাধিক উমরা করা জায়েয নহে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমরার ইহরাম বাধিয়া স্ত্রী সহবাস করিলে উমরা বিনষ্ট হইয়া যাইবে এবং তাহার উপর আরেকটি উমরা কাযা ও একটি কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে। তাই সত্বর তাহাকে উহার কাযা আদায় করিয়া নেওয়া উচিত। যে স্থান হইতে প্রথম উমরার ইহরাম বাঁধিয়াছিল সেই স্থান হইতেই তাছাকে এই কাযা উমরার ইহরাম বাধিতে হইবে, তবে প্রথম উমরার ইহরাম নির্দিষ্ট মীকাতের পূর্বে বাঁধিয়া থাকিলে কাযা উমরার মীকাত হইতে বাঁধিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমরার ইহরাম বাঁধিয়া কোন ব্যক্তি মক্কায় আসিল এবং জানাবত (গোসল ফরয হওয়া) অবস্থায় বা ওযু ব্যতিরেকে সে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিল। পরে ভুলবশত স্ত্রীসহবাস করিল। অতঃপর উমরার কথা তাহার মনে পড়িল। তখন সে গোসল বা ওযু করিয়া পুনরায় তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিবে এবং তদস্থলে অন্য একটি উমরা কাযা করিবে ও একটি কুরবানী দিবে। মহিলাও ইহরামরত অবস্থায় তদ্রুপ কিছু করিলে তাহাকেও (পুরুষদের মত) আমল করিতে হইবে। তান’য়ীম নামক স্থান হইতে উমরার ইহরাম বাঁধার ব্যাপারে মালিক (রহঃ) বলেনঃ হারম শরীফ হইতে বাহির হইয়া যে কোন স্থান হইতে উমরার ইহরাম বাঁধিতে পারবে। আল্লাহর ইচ্ছায় এই ইহরামই মুহরিমের জন্য যথেষ্ট। তবে মীকাত হইতে ইহরাম বাঁধা উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত স্থান হইতে ইহরাম বাঁধা নিঃসন্দেহে উত্তম এবং তান’য়ীম হইতে দূরে অবস্থিত।
হাদিস 771 — Muwatta Malik 20:67
দাঈফ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ أَبَا رَافِعٍ وَرَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَزَوَّجَاهُ مَيْمُونَةَ بِنْتَ الْحَارِثِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ .
রেওয়ায়ত ৭২. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বর্ণনা করেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার আযাদকৃত গোলাম আবু রাফি এবং জনৈক আনসারী ব্যক্তিকে পাঠাইলেন। তাহারা দুইজনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষে মায়মুনা বিনতে হারিসের নিকট বিবাহের পয়গাম দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মদীনা হইতে মক্কার পথে যাত্রা করেন নাই।
রেওয়ায়ত ৭৪. আবু গাতফান ইবন তরফ মূররী (রহঃ) বর্ণনা করেন- তাহার পিতা তরীফ ইহরাম অবস্থায় মক্কায় এক মহিলাকে বিবাহ করেন, কিন্তু উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা বাতিল বলিয়া ঘোষণা করেন।
রেওয়ায়ত ৭৫. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ মুহরিম ব্যক্তি বিবাহ করিবে না বা বিবাহের পয়গাম দিবে না, নিজের হউক বা অন্যের, সকল অবস্থায়ই তাহা নিষিদ্ধ।