রেওয়ায়ত ২১. মালিক (রহঃ) বলেন, আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) বলিয়াছেনঃ গনীমতের মধ্যে ঘোড়ার দুই অংশ এবং অশ্বারোহীর এক অংশ। মালিক (রহঃ) বলেন, আমি উক্ত ধরনের অভিমতই শুনিয়া আসিয়াছি। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল- একজন যদি কয়েকটি ঘোড়া জিহাদে নিয়া আসে তবে সে প্রত্যেকটিরই কি আলাদা হিস্যা পাইবে? তিনি বলিলেনঃ না, আমি এইরূপ শুনি নাই, যে ঘোড়াটির উপর আহরণ করিয়া যুদ্ধ করিয়াছে সেইটির হিস্যাই কেবল সে পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, আমার মতে তুর্কী ঘোড়া এবং সংকর জাতীয় ঘোড়াও সাধারণ ঘোড়ার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হইবে। কেননা কুরআনুল করীমে ইরশাদ হইয়াছেঃ “ঘোড়া, গাধা ও খচ্চর তোমাদের আরোহণের জন্য আমি সৃষ্টি করিয়াছি।” (নাহলঃ ৮) আল্লাহ্ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, “কাফেরদের মুকাবিলায় যথাশক্তি যুদ্ধাস্ত্র এবং ঘোড়া তৈরি রাখ যাহাতে ইহাদের দ্বারা আল্লাহর শক্র এবং তোমাদের শক্রকে সন্ত্রস্ত রাখিতে পার। (আনফালঃ ৬০) সুতরাং সরকার যখন গ্রহণ করিয়া নেন তখন আমার মতে তুর্কী ও সংকর জাতীয় ঘোড়াও সাধারণ ঘোড়ার অন্তর্ভুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)- কে কেহ জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, তুর্কী ঘোড়ারও কি যাকাত দিতে হইবে? উত্তরে তিনি বলিয়াছেনঃ ঘোড়ারও আবার যাকাত ওয়াজিব হয় নাকি?
রেওয়ায়ত ২২. আমর ইবন শোয়াইব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, হুনায়নের জিহাদ হইতে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাবর্তন করিয়া জিয়িরানা নামক স্থানের উদ্দেশে যাইতেছিলেন, তখন তাহার নিকট আসিয়া লোকেরা গনীমতের হিস্যা চাহিতে লাগিল, এমনকি লোকের চাপে তাহারা উট বৃক্ষের নিকট চলিয়া গেল এবং তাহার চাদর কাটায় আটকাইয়া পিঠ হইতে পড়িয়া গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমার চাদর আমাকে দাও। তোমরা কি মনে কর, যে জিনিস আল্লাহ তোমাদেরকে দিয়াছেন তাহা তোমাদেরকে আমি বাঁটিয়া দিব না? যাঁহার হাতে আমার প্রাণ তাঁহার কসম, তিহামা প্রান্তরের বাবলা গাছের মতো এত অধিক সংখ্যক পশুও যদি আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদিগকে দান করেন তাহাও তোমাদের মাঝে আমি বন্টন করিয়া দিব। তোমরা আমাকে কৃপণ, ভীরু ও মিথ্যাবাদী হিসাবে দেখিতে পাইবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট হইতে অবতরণ করিয়া লোকের সামনে দাঁড়াইলেন। অতঃপর বলিলেনঃ কেহ যদি একটি সুতা বা সুচ নিয়া যায় তবে তাহাও দিয়া দাও। গনীমত হইতে কিছু চুরি করা লজ্জা ও জাহান্নামের কারণ হয় এবং কিয়ামতের দিনও ইহা লজ্জা এবং মহাদোষের কারণ হইবে। অতঃপর তিনি মাটি হইতে বকরী বা উটের একটা পশম হাতে নিয়া বলিলেনঃ যাহার হাতে আমার প্রাণ সে সত্তার কসম, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদিগকে যে সম্পদ দিয়াছেন উহাতে এতটুকু হিস্যাও আমার নাই। হ্যাঁ, গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ আমি পাই। উহা তোমাদের নিকটই প্রত্যাবর্তিত হয়।
হাদিস 981 — Muwatta Malik 21:23
দাঈফ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ، قَالَ تُوُفِّيَ رَجُلٌ يَوْمَ حُنَيْنٍ وَإِنَّهُمْ ذَكَرُوهُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَزَعَمَ زَيْدٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ " . فَتَغَيَّرَتْ وُجُوهُ النَّاسِ لِذَلِكَ فَزَعَمَ زَيْدٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ صَاحِبَكُمْ قَدْ غَلَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " . قَالَ فَفَتَحْنَا مَتَاعَهُ فَوَجَدْنَا خَرَزَاتٍ مِنْ خَرَزِ يَهُودَ مَا تُسَاوِينَ دِرْهَمَيْنِ .
রেওয়ায়ত ২৩. যাইদ ইবন খালিদ জুহানী (রহঃ) বলিয়াছেন, হুনায়নের জিহাদে এক ব্যক্তি মারা যায়। অন্যরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসিয়া এই সংবাদ জানাইলে তিনি বলিলেনঃ তোমরা তোমাদের এই সঙ্গীর জানাযা পড়িয়া নাও। এই কথা শুনিয়া সকলের মুখ ফ্যাকাশে হইয়া গেল। কারণ মৃত ব্যক্তির কোন দোষের কারণেই হয়ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়াইতে অস্বীকার করিতেছেন। যাইদ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলিয়াছিলেন, এই ব্যক্তি গনীমত হইতে চুরি করিয়া কিছু নিয়া গিয়াছিল। যাইদ (রাঃ) বলেনঃ আমরা ঐ ব্যক্তির আসবাবপত্র খুলিয়া উহাতে ইহুদীদের পুতি হইতে সামান্য কয়েকটি পুতি পাইলাম, দুই দিরহাম পরিমাণ যাহার মূল্য হইবে।
হাদিস 982 — Muwatta Malik 21:24
দাঈফ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ الْكِنَانِيِّ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى النَّاسَ فِي قَبَائِلِهِمْ يَدْعُو لَهُمْ وَأَنَّهُ تَرَكَ قَبِيلَةً مِنَ الْقَبَائِلِ - قَالَ - وَإِنَّ الْقَبِيلَةَ وَجَدُوا فِي بَرْدَعَةِ رَجُلٍ مِنْهُمْ عِقْدَ جَزْعٍ غُلُولاً فَأَتَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبَّرَ عَلَيْهِمْ كَمَا يُكَبِّرُ عَلَى الْمَيِّتِ .
রেওয়ায়ত ২৪. আবদুল্লাহ ইবন মুগীরা ইবন আবু বুরদা কেনানী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগের সকল কবীলার লোকদের কাছে আসিয়া তাহাদের জন্য দোয়া করিয়াছিলেন। কিন্তু একটি কবীলার জন্য দোয়া করেন নাই। এই কবীলার একটি লোকের বিছানার নিচে আকীক পাথরের তৈরি একটি চুরি করা হার পাওয়া গিয়াছিল। এই কবীলার নিকট আসিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুর্দাদের বেলায় যেমন তাকবীর পড়া হয় তদ্রুপ তাকবীর পাঠ করিয়াছিলেন।
হাদিস 983 — Muwatta Malik 21:25
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، سَالِمٍ مَوْلَى ابْنِ مُطِيعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ حُنَيْنٍ فَلَمْ نَغْنَمْ ذَهَبًا وَلاَ وَرِقًا إِلاَّ الأَمْوَالَ الثِّيَابَ وَالْمَتَاعَ - قَالَ - فَأَهْدَى رِفَاعَةُ بْنُ زَيْدٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غُلاَمًا أَسْوَدَ يُقَالُ لَهُ مِدْعَمٌ فَوَجَّهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى وَادِي الْقُرَى حَتَّى إِذَا كُنَّا بِوَادِي الْقُرَى بَيْنَمَا مِدْعَمٌ يَحُطُّ رَحْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ سَهْمٌ عَائِرٌ فَأَصَابَهُ فَقَتَلَهُ فَقَالَ النَّاسُ هَنِيئًا لَهُ الْجَنَّةُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَلاَّ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ الشَّمْلَةَ الَّتِي أَخَذَ يَوْمَ حُنَيْنٍ مِنَ الْمَغَانِمِ لَمْ تُصِبْهَا الْمَقَاسِمُ لَتَشْتَعِلُ عَلَيْهِ نَارًا " . قَالَ فَلَمَّا سَمِعَ النَّاسُ ذَلِكَ جَاءَ رَجُلٌ بِشِرَاكٍ أَوْ شِرَاكَيْنِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " شِرَاكٌ أَوْ شِرَاكَانِ مِنْ نَارٍ " .
রেওয়ায়ত ২৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ খায়বরের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সহিত আমরা রওয়ানা হইয়াছিলাম। এই যুদ্ধে আমরা সোনা-রূপা হস্তগত করিতে পারি নাই, তবে অনেক আসবাবপত্র ও কাপড় আমাদের হস্তগত হইয়াছিল। রিফা'আ ইবন যাইদ (রাঃ) মিদ’আম নামের একজন দাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাদিয়া দিয়াছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াদি-এ কুরার দিকে যাত্রা করেন। সেইখানে পৌছার পর মিদ’আম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের উটের হাওদা নামাইতেছিল এমন সময় কোথা হইতে একটি তীর আসিয়া তাহার শরীরে বিদ্ধ হয় এবং সে মারা যায়। লোকেরা তখন বলাবলি করিতে লাগিল, মিদ’আমের জন্য জান্নাত মুবারক হউক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, কখনো নহে। যাহার হাতে আমার প্রাণে সেই সত্তার কসম, খায়বরের যুদ্ধে গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে যে চাদর সে চুরি করিয়া নিয়া গিয়াছিল উহা এখন তাহার গায়ে আগুন হইয়া জ্বলিতেছে। এই কথা শুনিয়া এক ব্যক্তি একটা কি দুইটা ফিতা আনিয়া হাযির করিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলিলেনঃ এই একটি বা দুইটি ফিতাও আগুনের ছিল।
রেওয়ায়ত ২৬. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ যে জাতির মধ্যে গনীমতের মাল চুরি করার প্রবণতা প্রকাশ পায় আল্লাহ্ তাহাদের মনে দুশমনের ভয় ঢুকাইয়া দেন। যে জাতির মধ্যে যিনা বেশি হয়, তাহদের মধ্যে মৃত্যুর আধিক্য ঘটে। যে জাতি মাপে কম দেয় আল্লাহ তাহাদের রিযিক কাটিয়া দেন। যে জাতি ন্যায়বিচার করে না তাহাদের মধ্যে রক্তপাত বেশি হইবে। আর যে জাতি চুক্তির খেলাফ করে, আল্লাহ তাহাদের উপর দুশমনকে চাপাইয়া দেন।
রেওয়ায়ত ২৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যাহার হাতে আমার প্রাণ তাঁহার কসম, আমি চাই একবার আল্লাহর পথে শহীদ হই, আবার জীবিত হই; আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই; আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই। আবু হুরায়রা (রাঃ) তিনবার এই কথা উল্লেখ করিয়া বলিতেন, আমি সাক্ষী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরনের কথা বলিয়াছিলেন।
রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা দুই ব্যক্তিকে দেখিয়া হাসিবেন। তাহারা ছিলেন একজন অন্যজনের হত্যাকারী। তাহারা উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করিবেন। একজন তো আল্লাহর পথে জিহাদ করিতে করিতে শহীদ হন। পরে তাহার হত্যাকারী ইসলাম গ্রহণ করিয়া তিনিও আল্লাহর পথে জিহাদ করিয়া শাহাদত বরণ করেন।
রেওয়ায়ত ২৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যাহার হাতে আমার প্রাণ তাহার কসম, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে আহত বা যখমী হইবে, আর কে আল্লাহর রাহে আহত হইয়াছে তাহাকে তিনিই ভাল জানেন, সেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন এমনভাবে উঠিবে যে, তখন তাহার শরীর হইতে রক্ত প্রবাহিত হইতে থাকিবে। ইহার রং রক্তের রঙের মতোই হইবে, কিন্তু ইহা হইতে মেশক আম্বরের মতো সুগন্ধ ছড়াইতে থাকিবে।
রেওয়ায়ত ৩০. যাইদ ইবন আসলাম (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিতেন, হে আল্লাহ! এমন ব্যক্তির হাতে আমাকে হত্যা করাইও না যে ব্যক্তি তোমাকে একটি সিজদাও করিয়াছে।