حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، اسْتَفْتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرٌ وَلَمْ تَقْضِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْضِهِ عَنْهَا " .
রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন-সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন, আমার মাতার ইন্তেকাল হইয়া গিয়াছে। তিনি একটা মানত করিয়াছিলেন, কিন্তু পূর্ণ করিয়া যাইতে পারেন নাই। এখন কি করা যায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তাহার তরফ হইতে তুমিই উহা আদায় করিয়া দাও।
রেওয়ায়ত ২. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার ফুফু বর্ণনা করিয়াছেন, তাহার দাদী মসজিদ-ই কোবায় হাঁটিয়া যাওয়ার মানত করিয়াছিলেন, কিন্তু ইহা পূরণ করার পূর্বেই তাহার ইন্তেকাল হইয়া যায়। তখন আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) ঐ মানত আদায় করিয়া দেওয়ার জন্য তাহার কন্যাকে নির্দেশ দেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কাহারো তরফ হইতে হাঁটিয়া যাওয়ার মানত পূরণ করা জরুরী নহে।
রেওয়ায়ত ৩. আবদুল্লাহ ইবন আবু হাবীব (রাঃ) বলেন, আমার বয়স তখন অল্প। এক ব্যক্তিকে বলিলাম “বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হাঁটিয়া যাওয়ার নযর বা মানত করিলাম” কোন ব্যক্তি এই কথা না বলিয়া “বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হাঁটিয়া যাওয়া আমার উপর ওয়াজিব” এরূপ বলিলে ইহাতে কোন দোষ নাই। ঐ ব্যক্তি আমাকে তখন বলিল, আমার হাতে এই শসাটি তুমি নিয়া যাও, আর এইটুকু বল দেখি, “বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হাটিয়া যাওয়া আমার উপর ওয়াজিব।” আমি বলিলামঃ হ্যাঁ, বলিতেছি এবং ঐ কথা বলিয়া দিলাম। তখন আমি অল্প বয়স্ক ছিলাম। তাই প্রথমে কিছু চিন্তা করি নাই। কিন্তু পরে বুঝ হওয়ার পর চিন্তা হইল। অন্য লোকেরা বলিতে লাগিল, এখন তোমার উপর বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হাঁটিয়া যাওয়া ওয়াজিব হইয়াছে। শেষে সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে আমি এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনিও আমাকে বলিলেনঃ হ্যাঁ, বায়তুল্লাহ পর্যন্ত তোমাকে হাঁটিয়া যাইতে হইবে। শেষ পর্যন্ত আমি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হাঁটিয়া যাইয়া এই নযর পুরা করিলাম । মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতেও হুকুম ইহাই।
রেওয়ায়ত ৪. উরওয়াহ ইবন উয়াইনী লাইসী (রাঃ) বর্ণনা করেন-আমার দাদী বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হাটিয়া যাওয়ার মানত করিয়াছিলেন। তিনি যখন মানত পূরণ করিতে যাত্রা করেন আমিও তাহার সহিত চলিলাম। শেষে হাঁটিতে হাঁটিতে অত্যন্ত ক্লান্ত হইয়া পড়িলে তিনি স্বীয় গোলামকে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিতে প্রেরণ করেন। আমিও তাহার সহিত গেলাম। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) জবাবে বলিলেনঃ এখন সে কিছুতে আরোহণ করিয়া যাক। পরে যে স্থান হইতে আরোহণ করিয়াছিল সেই স্থান হইতে পুনরায় তাহাকে হাঁটিয়া যাইতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার সহিত এই ধরনের ব্যক্তিকে একটি কুরবানীও করিতে হইবে। মালিক (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন-সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) এবং আবু সালমা ইবন আবদুর রহমানও এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর মতো অভিমত ব্যক্ত করেন।
রেওয়ায়ত ৫. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হাটিয়া যাওয়ার মানত করিয়াছিলাম, কিন্তু কোমরের ব্যথায় আক্রান্ত হইয়া পড়ি। তাই বাহনে চড়িয়া আমাকে মক্কায় আসিতে হইল। আতা ইবন আবূ রাবাহ (রহঃ) অন্যদেরকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তাহারা বলিলেনঃ তোমাকে একটা কুরবানী দিতে হইবে । মদীনায় আসিয়া সেখানকার আলিমদের নিকটও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিলাম। তাহারা বলিলেনঃ যে স্থান হইতে সওয়ার হইয়াছিলে সেই স্থান হইতে তোমাকে আবার হাঁটিয়া যাইতে হইবে। শেষে আমি তাহাই করিলাম। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পায়ে হাঁটিয়া যাওয়া আমার ওপর ওয়াজিব। এই কথা বলিয়া যদি কেহ হাঁটিয়া যাত্রা শুরু করে এবং পরে অপারক হইয়া যায় তবে সে সওয়ার হইয়া যাইবে এবং পরবর্তী সময়ে যে স্থান হইতে সে অপারক হইয়াছিল সেই স্থান হইতে পুনরায় হাঁটিয়া যাইবে। হাঁটিতে না পারিলে যতদূর সামর্থে কুলায় হাঁটিয়া যাইবে আর বাকীটুকু সওয়ার হইয়া যাইবে এবং একটি উট বা গরু কুরবানী করিবে। সম্ভব না হইলে একটি বকরী কুরবানী করিবে। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, যদি কেহ অন্য একজনকে বলে, তোমাকে আমি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত বহন করিয়া লইয়া যাইব, তবে কি হকুম হইবে? তিনি বলিলেন, যদি এই কথা বলার সময় কথকের এই নিয়্যত হইয়া থাকে যে, তাহার ঘাড়ে উঠাইয়া নিয়া যাইবে এবং এইভাবে নিজেকে কষ্টে ফেলাই তাহার উদ্দেশ্য হয়, তবে তাহার উপর কিছুই ওয়াজিব হইবে না বরং সে পায়ে হাঁটিয়া যাইবে এবং একটি কুরবানী দিবে। আর বলার সময় যদি তাহার কিছু নিয়্যত না থাকে, তবে সে সওয়ার হইয়া যাইবে এবং ঐ ব্যক্তিকেও সঙ্গে নিয়া যাইবে। কারণ সে তাহাকে বহন করিয়া লইয়া যাওয়ার অঙ্গীকার করিয়াছিল। ঐ ব্যক্তি যদি সঙ্গে যাইতে না চায় তবে তাহার উপর কিছুই ওয়াজিব হইবে না। কেননা সে আপন অঙ্গীকার রক্ষা করিয়াছে। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল-কেহ যদি নির্দিষ্ট কতিপয় মানতের শপথ করে যাহা প্রতি বৎসর চেষ্টা করিলেও সারা জীবনে পূরণ করা অসম্ভব, যেমন সে বলিল, পায়ে হাটিয়া বায়তুল্লাহ যাইব বা এক হাজার বার হজ্জ করিব, ভাই অথবা পিতার সহিত কথা বলিব না ইত্যাদি। সে কি একটি মানতই পূরণ করিবে, না সবগুলিই তাহাকে পূরণ করিতে হইবে? মালিক (রহঃ) বললেন, আমার মতে সবগুলিই তাহাকে পূরণ করিতে হইবে, যতদিন এবং যতদূর পর্যন্ত সম্ভব হয় সে উহা পূরণ করিতে থাকিবে এবং নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করিয়া যাইবে।
হাদিস 1015 — Muwatta Malik 22:2
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ، وَثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَحَدُهُمَا يَزِيدُ فِي الْحَدِيثِ عَلَى صَاحِبِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً قَائِمًا فِي الشَّمْسِ فَقَالَ " مَا بَالُ هَذَا " . فَقَالُوا نَذَرَ أَنْ لاَ يَتَكَلَّمَ وَلاَ يَسْتَظِلَّ مِنَ الشَّمْسِ وَلاَ يَجْلِسَ وَيَصُومَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُرُوهُ فَلْيَتَكَلَّمْ وَلْيَسْتَظِلَّ وَلْيَجْلِسْ وَلْيُتِمَّ صِيَامَهُ " . قَالَ مَالِكٌ وَلَمْ أَسْمَعْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ بِكَفَّارَةٍ وَقَدْ أَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُتِمَّ مَا كَانَ لِلَّهِ طَاعَةً وَيَتْرُكَ مَا كَانَ لِلَّهِ مَعْصِيَةً .
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ হুমায়দ ইবন কায়স (রাঃ) এবং সাউর ইবন দীলী (রাঃ) তাহারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে তাহার নিকট রেওয়ায়ত বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একবার রৌদ্রে দাঁড়াইয়া থাকিতে দেখিতে পাইলেন। তিনি বলিলেনঃ এই ব্যক্তির কি হইয়াছে? তাহারা বলিলেনঃ এই ব্যক্তি মানত করিয়াছে যে, সে কাহারও সহিত কথা বলিবে না, ছায়ায় দাড়াইবে না, কোথাও বসিবে না এবং সর্বদাই সে রোযা রাখিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম তখন বলিলেনঃ তাহাকে বলিয়া দাও, সে যেন কথা বলে, ছায়ায় দাঁড়ায় ও বসে, আর যেন রোযা পুরা করিয়া নেয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাফফারার নির্দেশ দিয়াছেন বলিয়া আমি শুনি নাই। তিনি তাহাকে যাহা ইবাদত তাহা পূরণ করা এবং যাহা নাফরমানী তাহা বর্জন করার নির্দেশ দিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৮. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে সে অবশ্যই তাহার আনুগত্য করিবে আর যে আল্লাহর নাফরমানী করিবে সে তাহার নাফরমানী করিবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ গুনাহর কাজ করার মানত যদি কেহ করে তবে সে যেন ঐ গুনাহ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের এই কথার মর্ম হইল-যে সমস্ত কাজের সওয়াব নাই তেমন কাজে মানত করিয়া উহা ভাঙ্গিয়া ফেলিলে তবে তাহার উপর কিছুই ওয়াজিব হইবে না। যেমন কেহ শাম বা মিসর বা রাবাযা যাওয়ার মানত করিল। তদ্রুপ কাহারও সঙ্গে কথা না বলার মানত করিল অথবা মন্দ কাজ করার কসম করিল, যেহেতু এইসব কাজে আল্লাহর ফরমানবরদারী নাই। এইগুলি পূরণ না করিলে কিছুই ওয়াজিব হইবে না। যে কাজে আল্লাহর আনুগত্য রহিয়াছে সেই ধরনের কাজে মানত করিলে ইহা পূরণ করা জরুরী হয়।
রেওয়ায়ত ৯. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) বলিতেন, কথায় কথায় লা ওয়াল্লাহি, বালা ওয়াল্লাহি (না, আল্লাহর কসম, হ্যাঁ আল্লাহর কসম) ধরনের কসম করা য়ামীনে লাগব হইবে (অর্থাৎ শরীয়তের দৃষ্টিতে উহা কসম বলিয়া ধর্তব্য হইবে না)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ য়ামীনে লাগব হইল সত্য মনে করিয়া কোন বিষয়ে কসম করা অথচ পরে উহা বিপরীত বলিয়া সাব্যস্ত হয়। এই বিষয়ে ইহাই উত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ভবিষ্যতে কোন কাজ করা না করা সম্পর্কে কসম করা হইলে তাহা পূরণ করা বাধ্যতামূলক, عقد اليمين যেমন কেহ বলিলঃ আল্লাহর কসম, এই কাপড়টি আমি দশ দীনারে বিক্রয় করিব না। কিন্তু পরে দশ দীনারে উহা বিক্রয় করিয়া দিল বা কেহ বলিলঃ আল্লাহর কসম, এই ব্যক্তির গোলামকে আমি মারিব, পীর মারিল না ইত্যাদি। এই ধরনের কসমের কাফফার ওয়াজিব হয়। আর য়ামীনে লাগব-এর জন্য কাফফারা নাই। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ য়ামীনে গুমুস হইল কাহাকেও খুশী করিবার জন্য বা ওযর গ্রহণ করানোর জন্য বা কাহারো ধন-সম্পত্তি আত্মসাৎ করিবার উদ্দেশ্যে জানিয়া-শুনিয়া মিথ্যা কসম করা। এই ধরনের কসমের গুনাহ এত মারাত্মক যে, ইহার কাফফারা হয় না।