রেওয়ায়ত ১৮. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব হইতে বর্ণিত একজন সিরিয়াবাসী তাহার স্ত্রীর সাথে অপর একজনকে (লিপ্ত) দেখিতে পাইয়া তাহাকে অথবা দুইজনকে মারিয়া ফেলিল। মু'আবিয়া (রাঃ) আবূ মূসা আশ আরী (রাঃ)-এর নিকট লিখিয়া পাঠাইলেন যে, আলী (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিয়া আমাকে জানাও তাহার কি সমাধান? অতঃপর আবু মূসা (রাঃ) তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা আমার দেশের বলিয়া মনে হয় না। সত্য করিয়া বল কোন দেশের ঘটনা, আমার মনে হয় তুমি আমাকে পরীক্ষা করিতেছ। আবু মূসা (রাঃ) বলিলেন, মু'আবিয়া (রাঃ) আমার নিকট লিখিয়া পাঠাইয়াছেন আপনাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য; আলী (রাঃ) বলিলেন, আমি হইলাম আবুল হাসান (হাসানের পিতা) যদি চার জন সাক্ষী আনিতে পারে তবে যেন তাহাকে উত্তমরূপে বন্দী করা হয়।
রেওয়ায়ত ১৯. সুনাইন ইবন আবী জমিলা (রহঃ) বনী সুলায়মান বংশোদ্ভূত, তিনি উমর (রাঃ)-এর জামানায় একটি শিশু পাইয়াছিলেন। তিনি বলেন যে, তাহাকে আমি উঠাইয়া উমর (রাঃ)-এর দরবারে হাযির হইলাম। উমর (রাঃ) বলিলেন, তুমি তাহাকে কেন উঠাইয়াছ? তিনি বলিলেন, আমি তাহাকে উঠাইয়া না আনিলে সে ধ্বংস হইয়া যাইত। এমন সময় পরিচিত এক ব্যক্তি বলিল, হে আমিরুল মু'মিনীন, আমি এই ব্যক্তিকে চিনি, সে খুব নেককার লোক। উমর (রাঃ) বলিলেন, সত্যই কি সে নেককার? সে বলিল, হ্যাঁ। অতঃপর উমর (রাঃ) বলিলেন, তুমি চলিয়া যাও, এই সন্তান আযাদ (মুক্ত), তুমি তাহার অভিভাবকত্ব পাইবে। আর আমরা তাহার খরচাদি বহন করিব। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট হারানো প্রাপ্ত সন্তান আযাদ। তাহার অভিভাবকত্ব মুসলিমদের জন্য, তাহারাই তাহার উত্তরাধিকারী এবং তাহারাই তাহার পক্ষে হইতে দীয়্যত (ক্ষতিপূরণ) দেবে।
রেওয়ায়ত ২০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, উতবা ইবন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) মৃত্যুর সময় তাহার ভাই সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাসকে বলিয়া গিয়াছিলেন যে, যামআ’-এর দাসীর সন্তান আমার, তুমি তাহাকে লইয়া আসিও। আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন সা’দ ঐ সন্তানকে আনিলেন ও গ্রহণ করিলেন এবং তিনি বলিলেন, সে আমার ভাই-এর সন্তান। তিনি আমাকে মৃত্যুর সময় অঙ্গীকার করাইয়াছিলেন। এইদিকে আবদ ইবন যামআ (রাঃ) বলিলেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর ছেলে ও আমার পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করিয়াছে। অবশেষে দুইজন বিতর্ক করিয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিলেন। সা'দ বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সে আমার ভাইয়ের সন্তান, মৃত্যুকালে আমার ভাই আমাকে অঙ্গীকার করাইয়া গিয়াছিল। অতঃপর আবদ ইবন যামআ' বলিলেন, আমার ভাই আমার পিতার দাসীর গর্ভে ও আমার পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করিয়াছে। তাহার পর সব শুনিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ‘হে আবদ ইবন যামআ', সে তোমারই ভাই, সে তোমারই কাছে থাকিবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, সন্তান তাহার মাতার স্বামীর অথবা মনিবেরই হইয়া থাকে আর ব্যভিচারীর জন্য প্রস্তরই নির্ধারিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদা বিনুত যামআকে বলেন, হে সাওদা! এই সন্তান হইতে পর্দা কর, কেননা তাহার আকৃতি উৎবার সদৃশ। অতঃপর সে আর সাওদাকে তাহার মৃত্যু পর্যন্ত দেখে নাই।
রেওয়ায়ত ২১. আবদুল্লাহ ইবন আবী উমাইয়া (রাঃ) হইতে বর্ণিত যে, এক স্ত্রীলোকের স্বামীর ইন্তেকাল হয়। অতঃপর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করার পর অন্য একজনের নিকট তাহার বিবাহ হয়। বিবাহের পর সেই স্বামীর নিকট সাড়ে চার মাস অতিবাহিত করার পর তাহার একটি পূর্ণাঙ্গ সন্তান ভূমিষ্ঠ হইল। অতঃপর তাহার স্বামী উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিল। উমর (রাঃ) অন্ধকার যুগের কয়েকজন বৃদ্ধা স্ত্রীলোককে ডাকাইলেন এবং তাহাদিগকে এই সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন। তখন তাহাদের একজন বলিল, আমি আপনাকে তাহার বৃত্তান্ত বলিতেছি। এই স্ত্রীলোকটি তাহার মৃত স্বামী হইতে গর্ভবতী হইয়াছিল। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তাহার রক্তস্রাব হইল, ইহাতে সন্তান শুকাইয়া যায়। অতঃপর দ্বিতীয় বিবাহের পর স্বামী তাহার সহিত সংগত হওয়ায় সন্তানের উপর পুরুষের বীর্য পতিত হয়। ইহাতে সন্তান নড়াচড়া করে এবং বড় হইতে থাকে। অতঃপর উমর (রাঃ) তাহাদের কথা সত্য বলিয়া মানিলেন এবং বিবাহ ভঙ্গ করিয়া দিলেন এবং বলিলেন যে, তোমাদের সম্বন্ধে কোন খারাপ কথা আমি শুনি নাই। অতঃপর সন্তানটি প্রথম স্বামীর ঔরসজাত বলিয়া সিদ্ধান্ত দিলেন।
রেওয়ায়ত ২২. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাঃ) অন্ধকার যুগের সন্তানকে যদি কেহ ইসলামের যুগে দাবি করিত তবে তাহার সাথে মিলাইয়া দিতেন। একবার দুইজন লোক একটি সন্তানকে নিজের বলিয়া দাবি করে। অতঃপর উমর (রাঃ) কেয়াফাবিদকে (লক্ষণ দেখিয়া পরিচয় নির্ণয়কারী) ডাকিয়া পাঠাইলেন। কেয়াফাবিশারদ সন্তানকে দেখিয়া বলিল, সন্তান দুইজনেরই। অতঃপর উমর (রাঃ) তাহাকে দোররা দ্বারা আঘাত করিলেন। তাহার পর সম্ভানের মাতাকে ডাকাইয়া বলিলেন তোমার বৃত্তান্ত খুলিয়া বল। সে একজনের দিকে ইঙ্গিত করিয়া বলিল যে, সে আমার নিকট আসা-যাওয়া করিত এবং আমি আমার বাড়ির উটের ঘরের কাছে থাকিতাম। ঐ সময়ে সে আমার সাথে সঙ্গম করিত। অতঃপর সে যখন ধারণা করিতে পারিল যে, আমি গর্ভবতী হইয়াছি তখন সে আর কাছে আসিত না, আর আমার রক্তস্রাব দেখা যাইত। তারপর এই দ্বিতীয়জন তাহার পর আমার নিকট আসিল। সেও আমার সহিত সঙ্গম করিল। এখন আমি জানি না, এই সন্তান দুইজনের মধ্য হইতে কাহার। ইহা শুনিয়া কেয়াফাবিদ খুশিতে আল্লাহু আকবর (আল্লাহ্ মহান) বলিয়া উঠিল। অতঃপর উমর (রাঃ) সন্তানকে বলিলেন, যাহার সাথে খুশি তুমি যাইতে পার।
রেওয়ায়ত ২৩. মালিক (রহঃ) বলেন যে, উমর (রাঃ) অথবা উসমান (রাঃ) এই দুইজনের মধ্যে একজন এক স্ত্রীলোকের ফয়সালা করিয়াছিলেন। সেই স্ত্রীলোকটি ধোঁকা দিয়া একজনকে বলিল, আমি আযাদ এবং তাহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইল। অতঃপর তাহাদের সন্তান হইয়াছিল। ফয়সালা দেওয়া হইয়াছিল, স্বামী তাহার সন্তানের মতো বালক-বালিকা স্ত্রীলোকটির মনিবকে দিবে এবং নিজের সন্তান মুক্ত করিয়া লইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, এই স্থানে মূল্য দান করিয়া দেওয়াই উত্তম।
রেওয়ায়ত ২৪. ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাঃ) বলেন যে, লোকদের হইল কি, তাহারা দাসীদের সাথে সহবাস করে এবং আযল[1] করে। ভবিষ্যতে যদি কোন দাসী আমার নিকট আসে এবং তাহার মনিব তাহার সাথে সঙ্গম করার স্বীকারোক্তি করে তবে আমি ঐ সন্তানকে মনিবের সাথে মিলিত করিয়া দিব, এখন তোমরা চাই আযল কর, চাই আযল না কর।
রেওয়ায়ত ২৫. সফিয়া বিনত আবী উবায়দ (রহঃ) হইত বর্ণিত, উমর (রাঃ) বলেন, মানুষের হইল কি? তাহারা দাসীর সাথে সহবাস করে। অতঃপর তাহাকে ছাড়িয়া দেয়। এখন হইতে যদি এমন কোন দাসী আমার নিকট আসে যাহার মনিব তাহার সাথে সঙ্গম করার স্বীকারোক্তি করে তবে সন্তানের বংশ তাহার সাথে জুড়িয়া দিব। এখন তোমরা তাহাকে ছাড়িয়া দাও, চাই রাখিয়া দাও। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমার মত এই যে, যদি কোন দাসী ক্ষতিকর কার্য করে তবে তাহার ক্ষতিপূরণ তাহার মনিব আদায় করিবে। দাসীকে ক্ষতির পরিবর্তে দেওয়া যাইবে না। কিন্তু যদি জরিমানা তাহার মূল্যের চাইতে বেশি হয় তবে তাহা ভিন্ন কথা।
হাদিস 1427 — Muwatta Malik 36:29
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ وَلَيْسَ لِعِرْقٍ ظَالِمٍ حَقٌّ " .
রেওয়ায়ত ২৬. উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যদি কেহ কোন পতিত জমি আবাদ করে তবে উহা তাহারই হইবে। উহাতে কোন জালিমের অধিকার নাই। মালিক (রহঃ) বলেন যে, জালিমের দখল বলিতে বোঝায় যে, জবরদস্তি কোন জমিতে গর্ত খনন, কিংবা গাছ লাগান, অথবা অন্য উপায়ে কজা করা। অথচ উহাতে তাহার কোন হক (অধিকার) নাই।