রেওয়ায়ত ১২. ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ জুম'আর দিন ইমামের খুতবা প্রদানের সময় যাহার নকসীর হইয়াছে, তারপর সে (মসজিদ হইতে) বাহির হইয়া গিয়াছে এবং সে প্রত্যাগমন করিয়াছে এমন সময় যখন ইমাম নামায সমাপ্ত করিয়াছেন, তবে সে চার রাকাআত পড়িবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম'আর দিন ইমামের সহিত এক রাকাআত পড়ে, তারপর তার নকসীর হয়, (সে কারণে) সে বাহির হইয়া যায়, অতঃপর ইমাম কর্তৃক দুই রাকাআত সমাপ্ত করার পর সে ফিরিয়া আসে তবে সেই ব্যক্তি আর এক রাকাআত পড়িয়া নিবে, যদি কোন কথা না বলিয়া থাকে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন ; যাহার নকসীর হইয়াছে অথবা মসজিদ হইতে বাহির হওয়ার জন্য কোন কারণ উপস্থিত হইয়াছে, তবে তাহাকে বাহির হওয়ার জন্য ইমামের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে না।
রেওয়ায়ত ১৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাব (রহঃ)-কে আল্লাহ্ পাকের এই বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করিয়াছেনঃ[1] (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ) ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) উক্ত আয়াতকে এইরূপ পড়িতেন, (إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَامْضُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ) যখন জুম'আর নামাযের আযান দেওয়া হয় তখন খুতবা ও নামাযের জন্য গমন কর। ইয়াহুইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কিতাবুল্লাহতে উল্লিখিত সাঈ'-এর অর্থ হইল আমল ও কাজ (দৃষ্টান্তস্বরূপ তিনি উল্লেখ করিয়াছেন যেমন) আল্লাহ পাক ইরশাদ করিয়াছেনঃ[2] (وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الأَرْضِ) আরও ইরশাদ করা হইয়াছেঃ[3] (وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى وَهُوَ يَخْشَى) আরও ইরশাদ করিয়াছেনঃ[4] (ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَى) ইরশাদ করা হইয়াছেঃ[5] (إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى) ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কিতাবে যে সাঈ'-এর কথা উল্লেখ করিয়াছেন তাহা দ্বারা পায়ে দৌড়ান, দ্রুত গমন অথবা হাঁটা উদ্দেশ্য নহে উদ্দেশ্য হইতেছে কাজ ও বাস্তবায়ন ।
হাদিস 238 — Muwatta Malik 5:14
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ " فِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ " . وَأَشَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ يُقَلِّلُهَا .
রেওয়ায়ত ১৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম'আ দিবসের উল্লেখ করলেন, (সেই প্রসঙ্গে) তিনি বলিয়াছেনঃ এই দিবসে এমন এক মুহূর্ত রহিয়াছে কোন মুসলিম বান্দা নামাযে দণ্ডায়মান অবস্থায়, সেই মুহূর্তটির সদ্ব্যবহার করিলে তখন যদি সে আল্লাহ তা'আলা হইতে কোন বস্তুর সওয়াল করে, তবে আল্লাহ তাহাকে সেই বস্তু প্রদান করবেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হস্ত দ্বারা ইঙ্গিত করিলেন সেই সময়টির স্বল্পতা বুঝাইবার জন্য।
রেওয়ায়ত ১৬. আবু সালমা ইবন আবদির রহমান (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলিয়াছেনঃ আমি (সিনাই) পর্বতের দিকে গমন করিলাম, সেখানে কা'ব আহবার (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করিলাম এবং তাহার সাথে বসিলাম। তারপর তিনি তাওরাত হইতে আমার নিকট বর্ণনা করিলেন, আমি তাহাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করিলাম। আমি তাহার নিকট যাহা বর্ণনা করিলাম তাহাতে ইহাও ছিল যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেন- দিবসগুলির (মধ্যে যাহাতে সূর্যের উদয় হয়) জুম'আর দিনই সর্বোত্তম। সেইদিনই আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হইয়াছে, সেইদিনই তাঁহাকে (জান্নাত হইতে) বাহির করা হইয়াছে, সেই দিবসেই তাহার প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করা হইয়াছে, সেই দিবসেই তিনি মৃত্যুবরণ করিয়াছেন এবং সেই (জুম'আর) দিনেই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হইবে। এমন কোন প্রাণী নাই, যে প্রাণী জুম'আর দিন ভোরবেলা হইতে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে চিৎকার না করে। সেই দিবসে একটি মুহূর্ত রহিয়াছে কোন মুসলিম বান্দা সেই মুহূর্তটিতে নামায পড়া অবস্থায় আল্লাহর নিকট কোন বস্তুর প্রার্থনা করিলে অবশ্যই তিনি তাহাকে উহা প্রদান করিবেন। কাব বলিলেনঃ ইহা প্রতি বৎসরে একদিন। তখন আমি বলিলামঃ বরং প্রতি জুম'আয়। অতঃপর কাব তাওরাত পাঠ করিলেন এবং বলিলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক বলিয়াছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ আমি অতঃপর বসরায় ইবন আবি বাসরা গিফারীর সাথে সাক্ষাৎ করিলাম। তিনি বলিলেনঃ কোথা হইতে আগমন করিলে? (উত্তরে) আমি বলিলামঃ তুর’ হইতে। তারপর তিনি বলিলেনঃ সেখানে গমনের পূর্বে যদি আমি তোমাকে পাইতাম, তবে তোমার যাওয়াই হইত না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি, তিনটি মসজিদ ব্যতীত (অন্য কোন স্থানের জন্য) সওয়ারীর আয়োজন করা যায় না- (১) মসজিদুল হারাম, কাবাগৃহ, (২) আমার এই মসজিদ ও (৩) মসজিদ ইলিয়া বা বায়তুল মুকাদ্দাস। বর্ণনাকারী সংশয় প্রকাশ করিয়াছেন- (অর্থাৎ তৃতীয়টি) তিনি ইলিয়ার মসজিদ অথবা বায়তুল মুকাদ্দাস বলিয়াছেনঃ (ইলিয়া শহরেই বায়তুল মুকাদ্দাস অবস্থিত)। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ অতঃপর আমি আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম (রাঃ)-এর সহিত মিলিত হইলাম এবং কা'ব আহবার এর সাথে আমার বৈঠকের কথা বর্ণনা করিলাম, আর জুম'আর দিন সম্পর্কে যে হাদীস তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছি উহাও বলিলাম। (কথা প্রসঙ্গে) আমি বলিলাম, কাব বলিয়াছেন- ইহা (কবুলিয়াতের মুহূর্ত) বৎসরে একদিন। (ইহা শুনিয়া) আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম (রাঃ) বলিলেনঃ কা'ব ঠিক বলেন নাই। অতঃপর আমি বলিলামঃ কা'ব (রাঃ) তাওরাত পাঠ করিয়া বলিলেন, হ্যাঁ, উহা প্রতি জুম'আর দিন। আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বলিলেনঃ কা'ব (এইবার) সত্য বলিয়াছেন। আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেনঃ সেই মুহুর্তটি কোন মুহূর্ত তুমি জান কি? আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ আমি তাহাকে বলিলামঃ আপনি আমাকে সেই মুহুর্তটির কথা বলিয়া দিন। এই বিষয়ে আপনি কৃপণতা করবেন না। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বললেনঃ ইহা জুম'আর দিনের শেষ সময়। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ আমি বলিলাম, উহা জুম'আ দিবসের শেষ মুহুর্তে কিরূপে হইতে পারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, “নামাযের হালতে কোন মুসলিম বান্দা উক্ত মুহুর্তের সাক্ষাৎ লাভ করিলে.....” অথচ দিবসের শেষ মুহূর্তে নামায পড়া যায় না। তারপর আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি (ইহা) বলেন নাই, যে ব্যক্তি কোন স্থানে বসিয়া নামাযের অপেক্ষা করিবে সে যেমন নামাযেই রহিয়াছে, যতক্ষণ সে নামায সমাপ্ত না করে? আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি বলিলাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ তবে উহা তাহাই।
রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ তাহার নিত্যব্যবহার্য কাপড় ব্যতীত জুম'আর জন্য দুইটি কাপড় তৈয়ার করিয়া রাখিলে ইহাতে কোন দোষ নাই। নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইহরাম অবস্থায় না থাকিলে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তেল ও খুশবু না লাগাইয়া জুম'আয় গমন করিতেন না।
রেওয়ায়ত ১৮. আবদুল্লাহ্ ইবন আবি বকর ইবন হাযম (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনাকারী জনৈক রাবী হইতে বর্ণনা করেন- তিনি (আবু হুরায়রা) বলতেনঃ তোমাদের কাহারও যাহরুল হাররা তে নামায পড়া ইহা হইতে ভাল যে, সে বসিয়া থাকিবে অর্থাৎ সময় থাকিতে নামাযের জন্য মসজিদে যাইবে না। অতঃপর ইমাম যখন জুম'আর দিন খুতবা দিতে দাঁড়াইবেন তখন (তাড়াহুড়া করিয়া যাওয়ার সময়) সে মানুষের ঘাড়ে পা রাখিয়া যাইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ ইমাম যে সময় খুতবা পাঠ করিতে ইচ্ছা করেন সে সময় লোকজনের ইমামের দিকে মুখ করিয়া বসাটাই আমাদের নিকট সুন্নত, তাহাদের মধ্যে যাহারা কিবলার দিকে মুখ করিয়া আছে অথবা যাহারা কিবলার দিকে মুখ করিয়া বসে নাই, সকলেই ইমামের দিকে মুখ করিবে।
রেওয়ায়ত ২০. মালিক (রহঃ) সাফওয়ান ইবন সুলায়ম (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, সাফওয়ান (রহঃ) ইহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে বর্ণনা করিয়াছেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। সাফওয়ান (রহঃ) বলিয়াছেন, কোন প্রকার ওযর অথবা রোগ ছাড়া যে ব্যক্তি তিন দফা জুম'আ পড়ে নাই, আল্লাহ্ তাহার হৃদয়ে মোহর ছাপ মারিয়া দিবেন।