রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যখন কেহ বাগান হইতে প্রথম ফল আনিত তখন তাহা প্রথমত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে লইয়া আসিত। তিনি উহা লইয়া বলিতেন, হে আল্লাহ, আমাদের ফলে বরকত দান করুন। আমাদের শহরে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা আপনার বন্ধু ও নবী ইবরাহীম (আঃ) মক্কার জন্য দু'আ করিয়াছিলেন। আমি আপনার নিকট মদীনার জন্য দুআ করিতেছি। আমি আপনার বান্দা ও নবী যেরূপ ইবরাহীম (আঃ) মক্কার জন্য দু'আ করিয়াছিলেন আমি তদ্রুপ মদীনার জন্য দুআ করিতেছি। দু'আর শেষে তিনি সকলের চাইতে ছোট যে ছেলেকে তথায় পাইতেন তাহাকে ডাকিয়া উহা তাহাকে দিয়া দিতেন।
রেওয়ায়ত ৩. যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ)-এর মুক্ত দাস ইউহান্নাস হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় তাহার এক দাসী আসিয়া বলিলঃ হে আবু আবদুর রহমান, আমি মদীনা ছাড়িয়া যাইতে চাই। কেননা এইখানে অভাব-অনটনে কষ্ট পাইতেছি। ইবনে উমর (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ হতভাগ্য! বস। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলিতেছিলেন : যে ব্যক্তি মদীনার অভাব-অনটন ও কষ্ট সহ্য করিবে, আমি কিয়ামতে তাহার সাক্ষী হইব অথবা তাহার জন্য সুপারিশ করিব।
হাদিস 1601 — Muwatta Malik 45:4
সহিহ
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، بَايَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الإِسْلاَمِ فَأَصَابَ الأَعْرَابِيَّ وَعْكٌ بِالْمَدِينَةِ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقِلْنِي بَيْعَتِي . فَأَبَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ جَاءَهُ فَقَالَ أَقِلْنِي بَيْعَتِي . فَأَبَى ثُمَّ جَاءَهُ فَقَالَ أَقِلْنِي بَيْعَتِي . فَأَبَى فَخَرَجَ الأَعْرَابِيُّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا الْمَدِينَةُ كَالْكِيرِ تَنْفِي خَبَثَهَا وَيَنْصَعُ طِيبُهَا " .
রেওয়ায়ত ৪. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট তাহার ইসলাম গ্রহণের বায়’আত করিল, মদীনায় তাহার জ্বর আসিতে লাগিল। সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিতে লাগিল, হে আল্লাহর নবী! আপনি আমার বায়’আত ভঙ্গ করিয়া দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা অস্বীকার করিলেন। সে পুনরায় আসিয়া বলিল, হে আল্লাহর নবী, আমার বায়’আত ভঙ্গ করিয়া দিন। অতঃপর সে মদীনা হইতে বাহির হইয়া পড়িল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেনঃ মদীনা লোহার ভাট্টির মতো, সে ময়লা বাহির করিয়া খাঁটি সোনা বানাইয়া দেয়।
রেওয়ায়ত ৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ শুনিয়াছি যে আমাকে এমন লোকালয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হইয়াছে যাহা অন্যান্য লোকালয়কে খাইয়া ফেলিবে। লোকে তাহাকে ইয়াস্রাব বলিয়া থাকে আর উহা হইল মদীনা। উহা মন্দ লোকদেরকে বাহির করিয়া দেয় যেমন লোহার ভাট্রি লোহার ময়লা বাহির করিয়া দেয়।
হাদিস 1603 — Muwatta Malik 45:6
সহিহ
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَخْرُجُ أَحَدٌ مِنَ الْمَدِينَةِ رَغْبَةً عَنْهَا إِلاَّ أَبْدَلَهَا اللَّهُ خَيْرًا مِنْهُ " .
রেওয়ায়ত ৬. উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যদি কোন ব্যক্তি মদীনার প্রতি ঘৃণা করিয়া তথা হইতে বাহির হইয়া পড়ে, তবে আল্লাহ তা’আলা উহাকে তাহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ব্যক্তি দান করিয়া থাকেন।
রেওয়ায়ত ৭. সুফিয়ান ইবনে আবু যুহায়র (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন ইয়ামান বিজিত হইবে। তথা হইতে লোক সফর করিয়া মদীনায় আগমন করিবে। তাহারা নিজেদের বাড়িঘর এবং যাহা তাহাদের ইচ্ছা হইবে মদীনা হইতে লইয়া যাইবে, অথচ মদীনা তাহাদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তাহারা তাহা বুঝিতে পারিত! শাম বিজিত হইবে, তথা হইতে কিছু লোক মদীনায় আগমন করিবে এবং নিজেদের বাড়িঘর এবং যাহারা তাহদের কথা মান্য করিবে তাহাদেরকে মদীনা হইতে লইয়া যাইবে, অথচ মদীনা তাহাদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তাহারা তাহা বুঝিতে পারিত! ইরাক বিজিত হইবে। তথা হইতে কিছু সংখ্যক লোক সফর করিয়া মদীনা আগমন করিবে এবং তাহাদের বাড়িঘর এবং যাহারা তাহাদের কথা মান্য করিবে তাহাদেরকে মদীনা হইতে লইয়া যাইবে, অথচ মদীনা তাহদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তাহারা জানিতে পারিত! ইয়ামন, শাম ও ইরাক বিজিত হওয়ার পর অনেকে তথাকার আবহাওয়া ও জিনিসপত্র সস্তা দেখিয়া নিজেদের বাড়িঘর এবং যাহারা তাহাদের সহিত যাইতে ইচ্ছা করিয়াছিল তাহাদেরকে মদীনা হইতে লইয়া গেল এবং তথায় যাইয়া বসতি ঠিক করিল। অতঃপর নানা ফিতনা-ফাসাদে আক্রান্ত হইল।
রেওয়ায়ত ৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমরা মদীনাকে অতি উত্তম অবস্থায় ত্যাগ করিবে, এমন কি তথায় কুকুর ও ব্যাঘ্ৰ আসিবে এবং মসজিদের খুঁটি ও মিম্বরে পেশাব করবে। সাহাবায়ে কিরাম প্রশ্ন করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ সময় মদীনার ফলমূল কে ভোগ করিবে? তিনি বলিলেন, ক্ষুধার্ত জস্তুরা ও পশু পাখিরা।
রেওয়ায়ত ৯. মলিক (রহঃ) বলেন, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) যখন মদীনা হইতে যাইতেছিলেন তখন মদীনার প্রতি লক্ষ্য করিয়া স্বীয় দাস মুযাহিমকে বলিতেছিলেন, হয়ত তুমি ও আমি সমস্ত লোকের মধ্যে হইব যাহাদেরকে মদীনা বাহির করিয়া দিয়াছে।
রেওয়ায়ত ১০. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উহুদ পাহাড়ের প্রতি দৃষ্টি করিতেন তখন বলিতেন, এই পাহাড় আমার প্রিয় আর আমি এই পাহাড়ের প্রিয়। হে আল্লাহ! ইবরাহীম (আঃ) মক্কাকে হরম করিয়াছেন, আমি মদীনার উভয় মধ্যস্থলকে হরম করিতেছি। পার্থক্য এই যে, আল্লাহর হরমে খিয়ানত করিলে উহার ক্ষতিপূরণ অনিবার্য হয়, আর রাসূলের হরমের খিয়ানত করিলে উহা অনিবার্য হয় না। অনেকের মতে এখানেও উহা অনিবার্য হয়।