রেওয়ায়ত ৩৮. আবু নুয়ায়ম ওহ্ব ইবন কায়সান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি এমন এক রাকাআত নামায পড়িয়াছে যাহাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে নাই তাহার নামায হয় নাই, অবশ্য যদি সেই ব্যক্তি ইমামের পশ্চাতে (নামায পড়িয়া) থাকে (তবে তাহার নামায শুদ্ধ হইয়াছে।)
রেওয়ায়ত ৩৯. আবুস সায়িব মাওলা’ হিশাম ইবন যুহরা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে এইরূপ বর্ণনা করিতে শুনিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি নামায পড়িয়াছে, কিন্তু সে নামাযে উম্মুল কুরআন পড়ে নাই, তাহার নামায অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ-না-তামাম। আবুস সায়িব (রহঃ) বলিলেনঃ আমি প্রশ্ন করিলাম, হে আবু হুরায়রা (রাঃ)! আমি অনেক সময় ইমামের পিছনে (নামায পড়িয়া) থাকি (তখন কিভাবে পড়িব?)। তিনি আমার বাজুতে চিমটি কাটিয়া বলিলেনঃ হে পারস্যের অধিবাসী! তুমি উহা মনে মনে পড়। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছেন- আমি নামাযকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার বান্দা ও আমার মধ্যে আধা-আধি ভাগ করিয়াছি। উহার অর্ধেক আমার, অর্ধেক আমার বান্দার। আর আমার বান্দার জন্য তাহাই যাহা সে চায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমরা পাঠ কর; (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) (বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য সমস্ত প্রশংসা), আল্লাহ (ইহার উত্তরে) বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করিয়াছে। বান্দা বলে (الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ) (যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু) আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুন বর্ণনা করিয়াছে। বান্দা বলে (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) (কর্মফল দিবসের মালিক), আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করিয়াছে। বান্দা বলে (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) (আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি), আল্লাহ বলেনঃ এই আয়াতটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে আধা-আধি বিভক্ত। আর আমার বান্দার জন্য তাহাই যাহা সে চায়। বান্দা বলেঃ (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ) (আমাদিগকে সরলপথ প্রদর্শন কর, যাহাদিগকে তুমি অনুগ্রহ দান করিয়াছ, যাহারা ক্রোধ-নিপতিত নহে, পথভ্রষ্ট নহে।) আল্লাহ্ বলেনঃ এই আয়াতগুলি আমার বান্দারই। (অর্থাৎ এই প্রার্থনা আমার বান্দার পক্ষ হইতে) এবং তাহার জন্য উহা যাহা সে চায়।
রেওয়ায়ত ৪০. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেনঃ ইমাম যে সকল নামাযে নীরবে কিরাআত পড়িতেন সেই নামাযে তিনি ইমামের পিছনে কিরাআত পড়িতেন।
রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রহঃ) য়াযিদ ইবন রূমান (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন; যেসব নামাযে ইমাম সরবে কিরাআত পড়িতেন না সেই সব নামাযে নাফি ইবন জুবায়র ইবন মুতয়িম (রহঃ) ইমামের পিছনে কিরাআত পড়িতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন যে, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন- এই বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার মনঃপূত।
রেওয়ায়ত ৪৪. ইবন উকায়মা লায়সী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরবে কুরআন পাঠ করা হইয়াছে এমন একটি নামায সমাপ্ত করিলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমাদের কেউ এখন (নামাযে) আমার সাথে কুরআন পড়িয়াছ কি? উত্তরে এক ব্যক্তি বলিলঃ হ্যাঁ, আমি পড়িয়াছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ ইহার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি (মনে মনে) বলিতেছিলাম, আমার কী হইল, কুরআন পাঠে আমার সাথে মুকাবিলা করা হইতেছে কেন! ইহা শুনিয়া লোকেরা (নামাযে ইমামের পিছনে) কুরআন পড়া হইতে বিরত হইলেন। যে নামাযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরবে কুরআন পাঠ করিয়াছিলেন, সেইরূপ নামাযেই তিনি (কোন সাহাবী কর্তৃক কুরআন পড়িতে) শুনিয়াছিলেন।
হাদিস 192 — Muwatta Malik 3:25
সহিহ
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ " هَلْ قَرَأَ مَعِي مِنْكُمْ أَحَدٌ آنِفًا " . فَقَالَ رَجُلٌ نَعَمْ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا جَهَرَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِرَاءَةِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ " هَلْ قَرَأَ مَعِي مِنْكُمْ أَحَدٌ آنِفًا " . فَقَالَ رَجُلٌ نَعَمْ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا جَهَرَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِرَاءَةِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
হাদিস 193 — Muwatta Malik 3:26
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ آمِينَ .
আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন ইমাম আমীন (امين) বলেন তখন তোমরাও আমীন বল। কেননা যাহার আমীন ফেরেশতাদের আমীন-এর সহিত একত্রে উচ্চারিত হয় তাহার পূর্বের গুনাহ মাফ করা হয়। ইবন শিহাব (রহঃ) (এই হাদীসের একজন রাবী) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিতেন, আমীন।
রেওয়ায়ত ৪৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন তোমাদের কেউ আমীন বলে তখন আসমানের ফেরেশতাগণও আমীন বলেন। ফলে যদি এক আমীন (যাহা তোমাদের কেউ বলিয়াছে) দ্বিতীয় আমীন'-এর সাথে (যাহা ফেরেশতাগণ বলিয়াছেন) মিলিত হয় তবে তাহার পূর্বের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করা হয়।