রেওয়ায়ত ১৩. কাবসা বিনতে কা'ব ইবন মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবূ কাতাদা (রাঃ) তাহার নিকট আসিলেন। কাব্সা তাহার জন্য ওযুর পানি ঢালিতেছিলেন। এমন সময় একটি বিড়াল উহা হইতে পানি পান করার জন্য আসিল। আবূ কাতাদা পানির পাত্র ইহার জন্য কাত করিলেন, বিড়াল পানি পান করিল। কাবসা বলেনঃ তিনি আমাকে দেখিলেন আমি খুব বিস্ময়ের সহিত তাহার দিকে দেখিতেছি। তাই তিনি বলিলেনঃ হে ভাতিজী! তুমি কি আশ্চর্যবোধ করিতেছ? আমি (উত্তরে) বলিলামঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ বিড়াল নাপাক নহে, উহা তোমাদের আশেপাশে যাহারা অধিক ঘোরাফেরা করে, তাহাদের অন্তর্ভুক্ত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বিড়ালের মুখে নাজাসত (নাপাকী) না থাকিলে উহার মুখ (পাত্রে) দেওয়াতে কোন ক্ষতি নাই।
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أُمِّ وَلَدٍ، لإِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهَا سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي وَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ " .
রেওয়ায়ত ১৬. ইবরাহীম ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রহঃ)-এর উম্মে-ওয়ালাদ (তাহার নাম হুমায়দা বলা হইয়াছে) হইতে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে-সালমা (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন, আমি একজন স্ত্রীলোক। আমি আমার কাপড়ের ঝুল লম্বা রাখি আর আমি কোন কোন সময় চলাফেরা করি আবর্জনাযুক্ত স্থান দিয়া। উম্মে সালমা (রাঃ) বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেনঃ কাপড়ের ঝুলকে আবর্জনাযুক্ত রাস্তার পরবর্তী স্থান পবিত্র করিয়া দিবে।
রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি রবী’আ ইবন আবদুর রহমানকে কয়েকবার উদর হইতে পানি বমি করিতে দেখিয়াছেন, তখন তিনি ছিলেন মসজিদে। তিনি অতঃপর নামায আদায় করা পর্যন্ত মসজিদ হইতে বাহিরেও যাইতেন না এবং ওযুও করিতেন না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইয়াছে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি খাদ্যবস্তু বমি করিয়াছে, তাহার জন্য ওযু ওয়াজিব হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ তাহার জন্য ওযু ওয়াজিব নহে, ইহার জন্য সে কুলি করিবে এবং তাহার মুখ ধুইবে।
রেওয়ায়ত ১৮. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) সাঈদ ইবন যায়দ-এর এক (মৃত) পুত্রকে হানূত[1] লাগাইলেন এবং তাহার লাশ বহন করিলেন, অতঃপর ওযু না করিয়া মসজিদে প্রবেশ করিয়া তিনি নামায পড়িলেন। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ বমি করিলে ওযু করিতে হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ না। তবে ইহার জন্য কুলি করিবে এবং তাঁহার মুখ ধুইবে। তাহার উপর ওযু ওয়াজিব নহে।
হাদিস 48 — Muwatta Malik 2:17
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .
রেওয়ায়ত ১৯. আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাগের কাঁধের গোশত আহার করার পর ওযু না করিয়া নামায পড়িলেন।
হাদিস 49 — Muwatta Malik 2:18
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، مَوْلَى بَنِي حَارِثَةَ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ النُّعْمَانِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ خَيْبَرَ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالصَّهْبَاءِ - وَهِيَ مِنْ أَدْنَى خَيْبَرَ - نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَعَا بِالأَزْوَادِ فَلَمْ يُؤْتَ إِلاَّ بِالسَّوِيقِ فَأَمَرَ بِهِ فَثُرِّيَ فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَكَلْنَا ثُمَّ قَامَ إِلَى الْمَغْرِبِ فَمَضْمَضَ وَمَضْمَضْنَا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .
রেওয়ায়ত ২০. সুওয়ায়দ ইবন নুমান (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে খায়বরের যুদ্ধের বৎসর বাহির হইলেন। যখন তাহার সাহ্বা (صهباء) নামক স্থানে পৌছিলেন- উহা খায়বরের ঢালু অংশে অবস্থিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তথায়) অবতরণ করিলেন, তারপর আসর নামায পড়িলেন। অতঃপর সফরে আহারের জন্য রাখা খাদ্যবস্তু এবং উহার পাত্রসমূহ আনিতে বলিলেন, তাহার নিকট ছাতু ছাড়া অন্য কিছু উপস্থিত করা হইল না। তিনি নির্দেশ দিলেন, উহা গুলান হইল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহার করিলেন, আমরাও আহার করিলাম। অতঃপর মাগরিবের নামাযের জন্য উঠিলেন এবং কুলি করিলেন, আমরাও কুলি করিলাম। তারপর তিনি নামায পড়িলেন, অথচ আর ওযু করিলেন না।
রেওয়ায়ত ২২. উসমান ইবন আফফান (রাঃ) রুটি-গোশত আহার করিলেন, তারপর কুলি করিলেন, উভয় হাত ধুইলেন এবং হস্তদ্বয় দ্বারা মুখমণ্ডল মসেহ করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন অথচ পুনরায় ওযু করিলেন না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি জানিতে পারিয়াছেন যে, আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) এবং আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) আগুনে জ্বাল দেওয়া খাদ্যবস্তু আহার করিয়া ওযু করিতেন না।