রেওয়ায়ত ২৩. ইয়াহইয়াহ্ ইবন সাঈদ (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন আমির ইবন রবী'আ (রহঃ)-এর নিকট একটি প্রশ্ন করিলেন এমন এক লোক সম্পর্কে, যে নামাযের জন্য ওযু করিয়া আগুনে রন্ধন করা খাদ্যবস্তু আহার করিল, সে কি ওযু করিবে? তিনি বলিলেনঃ আমার পিতাকে দেখিয়াছি তিনি এইরূপ রাধা খাদ্য খাইতেন ও ওযু করিতেন না।
রেওয়ায়ত ২৪. আবূ নঈম ওহাব ইবন কায়সান (রহঃ) জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ আমি আবু বকর সিদীক (রাঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি গোশত খাইলেন, অতঃপর নামায পড়িলেন অথচ ওযু করিলেন না।
হাদিস 55 — Muwatta Malik 2:24
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دُعِيَ لِطَعَامٍ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ خُبْزٌ وَلَحْمٌ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَصَلَّى ثُمَّ أُتِيَ بِفَضْلِ ذَلِكَ الطَّعَامِ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .
রেওয়ায়ত ২৫. মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (খানার জন্য) দাওয়াত করা হইল, তাহার সমীপে রুটি-গোশত পেশ করা হইল। তিনি উহা হইতে আহার করিলেন, তারপর অযু করিলেন ও নামায পড়িলেন। অতঃপর সেই খাদ্যের অবশিষ্ট তাহার নিকট আনা হইল। তিনি উহা হইতে আহার করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন, আর ওযু করিলেন না।
রেওয়ায়ত ২৬. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) ইরাক হইতে আগমন করিলেন। তাহার নিকট আবূ তালহা ও উবাই ইবন কা'ব (রাঃ) আগমন করিলেন। আগুনে রন্ধন করা হইয়াছে এরূপ খাদ্য তাহাদের উভয়ের নিকট পেশ করা হইল। সকলে উহা হইতে আহার করিলেন, অতঃপর আনাস (রাঃ) উঠিলেন এবং ওযু করিলেন। (ইহা দেখিয়া) আবূ তালহা ও উবাই ইবন কা'ব (রাঃ) বলিলেনঃ হে আনাস! ইহা কি? ইহা কি ইরাকী আমল? আনাস (রাঃ) বলিলেনঃ আমি যদি ইহা না করিতাম (তবে ভাল হইত)। আবু তালহা ও উবাই ইবন কা'ব (রাঃ) উঠিলেন এবং নামায পড়িলেন, তাহারা ওযু করিলেন না।
হাদিস 57 — Muwatta Malik 2:26
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ الاِسْتِطَابَةِ فَقَالَ " أَوَلاَ يَجِدُ أَحَدُكُمْ ثَلاَثَةَ أَحْجَارٍ " .
রেওয়ায়ত ২৭. উরওয়াহ্ ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইস্তিতাবা[1] সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করা হইল। তিনি বলিলেনঃ তোমাদের একজন কি তিনটি পাথরও পায় না (যদ্বারা সে পবিত্রতা লাভ করিতে সক্ষম হয়?)
রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত – রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদ) কবরস্থানের দিকে গমন করিলেন। তিনি সেখানে পৌছার পর বলিলেনঃ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ “তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে মু’মিন সম্প্রদায়ের বাসস্থানে (অর্থাৎ গোরস্তানে) বসবাসকারিগণ! আমরা তোমাদের সহিত মিলিত হইব, ইনশাআল্লাহ।” আমার আকাঙ্ক্ষা, যদি আমার ভাইদিগকে দেখিতাম! তাহারা বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার ভাই নই কি? তিনি বলিলেনঃ তোমরা আমার আসহাব, আমার ভাই তাহারা যাহারা এখনও (ইহজগতে) আসেন নাই। আমি তাহদের অগ্রদূত হইব হাওযের নিকট। তাহারা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার উম্মতের মধ্যে যাহারা আপনার পরে আগমন করিবে আপনি তাহাদের পরিচয় পাইবেন কিভাবে? তিনি বলিলেনঃ তোমরা আমাকে বল দেখি, যদি কোন ব্যক্তির কাছে পায়ে ও ললাটে সাদা চিহ্নযুক্ত ঘোড়া থাকে এবং সেগুলি গাঢ় কাল রং-এর ঘোড়ার সহিত একত্র থাকে, তবে সেই ব্যক্তি কি তাহার (সাদা চিহ্নযুক্ত) ঘোড়া চিনিতে পারবে না? তাহারা বলিলেনঃ হ্যা, ইয়া রাসূলাল্লাহ! চিনিতে পরিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমার উম্মতকে আমি চিনিতে পারিব। কারণ তাহারা ওযুর দরুন রোজ কিয়ামতে জ্যোতির্ময় চেহারা এবং জ্যোতির্ময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়া উপস্থিত হইবে। আমি হাওযে তাহদের অগ্রদূত থাকিব। দলভ্রষ্ট উটকে যেরূপ তাড়াইয়া দেওয়া হয়, আমার হাওয হইতে কাহাকেও অদ্রুপ তাড়াইয়া দেওয়া হইলে আমি তাহাকে আহবান করিবঃ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ - ওহে (আমার নিকট) আস, (আমার নিকট) আস, (আমার নিকট) আস। তারপর আমাকে বলা হইবেঃ ইহারা (আপনার সুন্নতকে) আপনার পরে পরিবর্তন করিয়াছে। আমি বলিবঃ فَسُحْقًا فَسُحْقًا فَسُحْقًا -তবে দূর হও, দূর হও, দূর হও।
রেওয়ায়ত ২৯. হুমরান (রহঃ) (حُمْرَان) হইতে বর্ণিত, উসমান ইবন আফফান (রাঃ) (একদা) মাকাইদ (مَقَاعِد) বৈঠকখানায় বসিলেন। মুয়াযযিন আসিয়া তাহাকে আসরের নামাযের সংবাদ দিলেন। তিনি পানি আনাইলেন, তারপর ওযু করিলেন এবং বলিলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট একটি হাদীস বয়ান করিব। কিতাবুল্লাহর (কুরআনের) একটি আয়াত যদি না থাকিত তবে আমি তোমাদের নিকট হাদীস বয়ান করিতাম না। অতঃপর বললেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি ওযূ করে আর সে তাহার ওযূকে উত্তমরূপে সমাধা করার পর নামায আদায় করে, তার (পাপ) মার্জনা করা হবে অর্থাৎ পরবর্তী নামায সমাপ্ত করা পর্যন্ত অর্থাৎ পরবর্তী নামায আদায় করলেই এই মার্জনা পাওয়া যাবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমার ধারণা, উসমান (রাঃ) যেই আয়াতের কথা বলিয়াছেন তাহা এইঃ أَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِين সালাত কায়েম করবে দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। নিশ্চয় সৎকর্ম অসৎ কর্ম মিটাইয়া দেয়। (সূরা হুদঃ)
রেওয়ায়ত ৩০. আবদুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মুমিন বান্দা যখন ওযু করে এবং কুলি করে, তাহার মুখ হইতে পাপসমূহ বাহির হইয়া যায়। সে যখন মুখমণ্ডল ধৌত করে তাহার মুখমণ্ডল হইতে তখন পাপসমূহ বাহির হইয়া যায়। এমনকি চক্ষুদ্বয়ের পালকের নিচ হইতেও গুনাহ বাহির হইয়া যায়। তারপর যখন সে তাহার উভয় হাত ধোয় তখন পাপসমূহ হস্তদ্বয় হইতে বাহির হইয়া যায়; এমনকি তাহার উভয় হাতের নখসমূহের নিচ হইতেও গুনাহ বাহির হইয়া যায়। অতঃপর যখন সে তাহার মাথা মসেহ করে তাহার পাপসমূহ তখন তাহার মাথা হইতে বাহির হইয়া যায়; এমনকি তাহার উভয় কান হইতেও বাহির হইয়া যায়। যখন সে তাহার উভয় পা ধোয় তখন পাপসমূহ তাহার উভয় পা হইতে বাহির হইয়া যায়; এমনকি তাহার উভয় পায়ের সকল নখের নিচ হইতেও গুনাহ বাহির হইয়া যায়। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেনঃ অতঃপর সেই ব্যক্তির মসজিদে গমন এবং নামায পড়া তাহার জন্য নফল (অতিরিক্ত সওযাবের বস্তু)-স্বরূপ হয়।
রেওয়ায়ত ৩১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন মু'মিন বান্দা ওযু করে এবং তাহার মুখমণ্ডল ধোয় তখন তাহার মুখমণ্ডল হইতে সকল গুনাহ যাহা দেখার দরুন অর্জিত হইয়াছে, বাহির হইয়া যায়; পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ কাতরার (ফোঁটা) সঙ্গে অথবা (ইহার সমার্থবোধক) অনুরূপ কোন বাক্য। তারপর যখন সে তাহার উভয় হাত ধোয় তখন তাহার হস্তদ্বয় হইতে হস্তদ্বয় দ্বারা অর্জিত সকল পাপ বাহির হইয়া যায়। পানির সঙ্গে অথবা (বলিয়াছেন) পানির শেষ কাতরার সঙ্গে; এমনকি সে যাবতীয় পাপ হইতে পবিত্র হইয়া যায়।