وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَانَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَالْتَمَسَ النَّاسُ وَضُوءًا فَلَمْ يَجِدُوهُ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَضُوءٍ فِي إِنَاءٍ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ يَدَهُ ثُمَّ أَمَرَ النَّاسَ يَتَوَضَّئُونَ مِنْهُ - قَالَ أَنَسٌ - فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ فَتَوَضَّأَ النَّاسُ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ .
রেওয়ায়ত ৩২. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন সময় দেখিলাম যখন আসরের নামাযের সময় নিকটবর্তী। লোকজন ওযুর জন্য পানি তালাশ করিলেন, কিন্তু তাহারা পানি পাইলেন না। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি পাত্রে কিছু পানি আনা হইল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত সেই পাত্রে রাখিলেন। তারপর লোকজনকে উহা হইতে ওযু করার নির্দেশ দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি হযরতের অঙ্গুলিসমূহের নিচ হইতে পানি নির্গত হইতে দেখিলাম, লোকজন ওযু করিলেন। এমনকি তাহাদের (দলের) সর্বশেষ ব্যক্তিও ওষু করিলেন।
রেওয়ায়ত ৩৩. নুআয়ম ইবন আবদুল্লাহ মুজমির (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে এবং তাহার ওযুকে উত্তমরূপে সম্পাদন করিয়াছে, অতঃপর নামাযের উদ্দেশ্যে বাহির হইয়াছে, সে নামাযে থাকিবে (সওয়াবের দিক দিয়া নামাযে বলিয়া গণ্য হইবে) যতক্ষণ নামাযের নিয়ত রাখিবে এবং তাহার জন্য প্রতিটি প্রথম পদ উত্তোলনে একটি করিয়া নেকী লেখা হইবে, আর প্রতিটি দ্বিতীয় পদ উত্তোলনের পরিবর্তে তাহার পাপ মোচন করিয়া দেওয়া হইবে। তাই তোমাদের কেউ ইকামত শুনিতে পাইলে দৌড়াইবে না, কারণ তোমাদের মধ্যে সেই লোকই বেশি সওয়াবের অধিকারী যাহার ঘর মসজিদ হইতে অধিক দূরে। শ্রোতারা বলিলেনঃ এইরূপ কেন, হে আবু হুরায়রা? তিনি বলিলেনঃ কদমের আধিক্যের কারণে।
রেওয়ায়ত ৩৪. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) শুনিয়াছেন যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল, মল-মূত্র ত্যাগের কারণে পানি দ্বারা ইস্তিন্জা (মল-মূত্র ত্যাগের পর বিশেষ স্থান ধৌত করা) করা সম্পর্কে। সাঈদ (রহঃ) বললেনঃ ইহা অবশ্য মেয়েদের ইস্তিন্জা।
হাদিস 65 — Muwatta Malik 2:34
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ " .
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْمَلُوا وَخَيْرُ أَعْمَالِكُمُ الصَّلاَةُ وَلاَ يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ إِلاَّ مُؤْمِنٌ " .
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট হাদীস পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে শরীয়ত তোমাদের জন্য নির্ধারিত করা হইয়াছে উহার উপর তোমরা দৃঢ়তার সহিত থাক, পূর্ণ ইস্তিকামাত বা দৃঢ়তার সামর্থ্যও তো তোমাদের নাই। কাজ করিতে থাক। তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল নামায। মু'মিন ব্যতীত অন্য কেউ ওযুর যথাযোগ্য হিফাযত (ওযুতে যাহিরী ও বাতেনী পরিচ্ছন্নতা অর্জনের প্রতি লক্ষ্য রাখার নাম মুহাফিযাত) করে না।
রেওয়ায়ত ৩৮. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ আনসারী (রাঃ)-কে মসহ আলাল ইসাবাহ (পাগড়ির উপর হাত বুলাইয়া যাওয়া) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল। তিনি বলিলেনঃ না, (ইহা যথেষ্ট নহে) যতক্ষণ পানি দ্বারা চুল মসেহ করা না হয়।
রেওয়ায়ত ৪০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যখন তিনি বালক তখন আবু উবায়দার কন্যা, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর স্ত্রী, সফিয়া (صفية)-কে তাহার ওড়না নামাইয়া পানি দ্বারা মসেহ করিতে তিনি দেখিয়াছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ পাগড়ি ও ওড়নার উপর মসেহ করা সম্পর্কে মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলে তিনি বলিলেনঃ কোন পুরুষ কোন নারীর পক্ষে (যথাক্রমে) পাগড়ি কিংবা ওড়নার উপর মসেহ করা জায়েয নহে। তাহারা উভয়েই তাহাদের মাথা মসেহ করিবে। মালিক (রহঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে কিন্তু মাথা মসেহ করিতে ভুলিয়া গিয়াছে, (এই অবস্থায়) তাহার ওযুর অঙ্গসমূহ শুকাইয়া গিয়াছে, এখন সে কি করিবে? তিনি উত্তরে বলিলেনঃ আমার মতে সে তাহার মাথা মসেহ করিবে। আর যদি সে (মসেহ ব্যতীত) ওযু দ্বারা নামায পড়িয়া থাকে তবে সে নামায পুনরায় পড়িবে।
হাদিস 71 — Muwatta Malik 2:40
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ زِيَادٍ، مِنْ وَلَدِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَهَبَ لِحَاجَتِهِ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ - قَالَ الْمُغِيرَةُ - فَذَهَبْتُ مَعَهُ بِمَاءٍ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَكَبْتُ عَلَيْهِ الْمَاءَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثُمَّ ذَهَبَ يُخْرِجُ يَدَيْهِ مِنْ كُمَّىْ جُبَّتِهِ فَلَمْ يَسْتَطِعْ مِنْ ضِيقِ كُمَّىِ الْجُبَّةِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يَؤُمُّهُمْ وَقَدْ صَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّكْعَةَ الَّتِي بَقِيَتْ عَلَيْهِمْ فَفَزِعَ النَّاسُ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَحْسَنْتُمْ " .
রেওয়ায়ত ৪১. মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্ৰস্ৰাব-পায়খানার প্রয়োজনে বাহিরে গেলেন। মুগীরা বলেন, আমি পানি লইয়া তাহার সঙ্গে গমন করিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহার প্রয়োজন পূর্ণ করিয়া) আসিলেন, আমি তাহার হস্তদ্বয়ের উপর পানি ঢালিলাম, তিনি তাহার মুখমণ্ডল ধুইলেন। তারপর তাহার হস্তদ্বয জুব্বার আস্তিন হইতে বাহির করিতে চেষ্টা করিলেন। জুব্বার আস্তিনের সংকীর্ণতার দরুন তিনি (বাহির করিতে) সক্ষম হইলেন না। তাই জুব্বার নিচ দিয়া উভয় হাত বাহির করিলেন, তারপর দুই হাত ধুইলেন, মাথা মসেহ করলেন এবং মোজার উপর মসেহ করিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তশরীফ আনিলেন, তখন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) (লোকের) ইমামতি করিতেছিলেন, তিনি এক রাকাত সমাপ্তও করিয়াছেন। যেই এক রাকাত তাঁহাদের অবশিষ্ট ছিল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদের সহিত সেই রাকাত পড়িলেন। লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিয়া (তাহার অনুপস্থিতিতে নামায আরম্ভ করায় বেআদবী হইয়াছে ভাবিয়া) ঘাবড়াইয়া গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার নামায সমাপ্ত করার পর বলিলেনঃ তোমরা ভাল করিয়াছ।