রেওয়ায়ত ৪২. সা'দ ইবন ওয়াক্কাস (রাঃ) যখন কূফার আমীর ছিলেন তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) কূফায় সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর নিকট আসিলেন এবং তাহাকে মোজার উপর মসেহ করিতে দেখিলেন। ইবন উমর (রাঃ) তাহার এই মসেহ-এর প্রতি অস্বীকৃতি জানাইলেন। সা'দ (রাঃ) তাঁহাকে বলিলেনঃ আপনার পিতার নিকট গেলে ইহা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিবেন। আবদুল্লাহ্ (রাঃ) (মদীনায়) আগমন করিলেন; কিন্তু তাহার পিতাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে ভুলিয়া গেলেন। সা'দ পরে (মদীনায়) আসিলেন এবং ইবন উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলেনঃ আপনার পিতার নিকট সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিয়াছেন কি? তিনি বলিলেনঃ না। অতঃপর আবদুল্লাহ (রাঃ) তাহার পিতাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করিলেন। উমর (রাঃ) উত্তরে বলিলেন; যদি মোজাদ্বয়ের মধ্যে তোমার উভয় পা পবিত্র অবস্থায় (ওযুর পরে) ঢুকাও তবে (পুনরায় ওযুর সময়) তুমি মোজার উপর মসেহ কর। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলিলেনঃ আমাদের এক ব্যক্তি পায়খানা-প্রস্রাব হইতে আসিলে তাহার জন্যও কি এই হুকুম? উমর (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, তোমাদের কেউ মলমূত্র ত্যাগ করিয়া আসিলে তাহার জন্যও এই হুকুম।
রেওয়ায়ত ৪৩. নাফি’ হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বাজারে (প্রস্রাবের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে) প্রস্রাব করিলেন। তারপর অযু করিলেন এবং তাহার মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধুইলেন এবং মাথা মসেহ করিলেন। তারপর তিনি মসজিদে প্রবেশ করার পর তাহাকে জানাযার নামায পড়াইবার জন্য আহ্বান করা হইল, তিনি মোজার উপর মসেহ করিলেন, তারপর জানাযার নামায পড়িলেন।
রেওয়ায়ত ৪৪. সাঈদ ইবন আবদুর রহমান ইবন রুকাইশ আশআরী (রহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি কোবা আসিলেন, তারপর প্রস্রাব করিলেন। অতঃপর তাহার নিকট পানি আনা হইলে তিনি ওযু করিলেন, মুখমণ্ডল ধুইলেন, হস্তদ্বয় ধুইলেন কনুই পর্যন্ত, মাথা মসেহ করিলেন, আর মোজার উপর মসেহ করিলেন, তারপর মসজিদে আসিলেন এবং নামায পড়িলেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে নামাযের ওযুর মত, অতঃপর তাহার মোজা পরিধান করিয়াছে। তারপর সে প্রস্রাব করিয়াছে। তারপর মোজা বাহির করিয়া লইয়াছে। অতঃপর মোজা উভয় পায়ে পরিধান করিয়াছে। সেই ব্যক্তি ওযু পুনরায় করিবে কি? তিনি বলিলেনঃ সে মোজা বাহির করিয়া লইবে। তারপর ওযু করিবে এবং উভয় পা ধুইবে। যে লোক উভয় পা মোজায় ওযুর মত পবিত্রাবস্থায় দাখিল করিয়াছে, সেই লোক মোজায় মসেহ করিতে পারবে। আর যে ওযুর মত পবিত্রাবস্থায় উভয় পা মোজায় দাখিল করে নাই সে মোজা মসেহ করিবে না। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক লোক সম্পর্কে, যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে তাহার পরিধানে মোজা থাকা অবস্থায়, কিন্তু সে মোজায় মসেহ করিতে তুলিয়া গিয়াছে। (এই অবস্থায়) তাহার ওযু (ওয়ূর অঙ্গসমূহ) শুকাইয়া গিয়াছে এবং সে নামায পড়িয়াছে। (তাহার হুকুম কি ) তিনি বলিলেনঃ সেই ব্যক্তি মোজার উপর মসেহ করিবে এবং নামায পুনরায় পড়িবে, ওযু পুনরায় করিতে হইবে না। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক লোক সম্পর্কে, যে তাহার দুই পা (প্রথমে) ধুইয়াছে, তারপর মোজা পরিধান করিয়াছে, অতঃপর ওযু শুরু করিয়াছে। তিনি বলিলেনঃ সে মোজা খুলিয়া ফেলিবে, তারপর ওযু করিবে এবং (যথারীতি) উভয় পা ধুইবে।
রেওয়ায়ত ৪৫. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি তাহার পিতাকে মোজার উপর মসেহ করিতে দেখিয়াছেন। তিনি মোজা মসেহ করার সময় ইহার অতিরিক্ত কিছু করিতেন না; মোজার উপরের অংশে মসেহ করিতেন, তলদেশ মসেহ করিতেন না। মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেনঃ মোজা মসেহ কিরূপে সম্পাদন করিতে হয়? ইবন শিহাব তাহার এক হাত মোজার নিচে দাখিল করিলেন এবং অপর হাত মোজার উপর স্থাপন করিলেন। অতঃপর উভয় হাত মসেহ-এর জন্য চালিত করিলেন। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ মোজা মসেহ-এর ব্যাপারে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইবন শিহাবের মতামত আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।
রেওয়ায়ত ৪৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যখন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর নাক দিয়া রক্ত বাহির হইত, তখন নামায হইতে তিনি ফিরিয়া যাইতেন। অতঃপর ওযু করিতেন এবং পুনরায় আসিয়া অবশিষ্ট নামায পড়িতেন, আর তিনি (এই অবস্থায়) কথা বলিতেন না।
রেওয়ায়ত ৪৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নাক দিয়া রক্ত নির্গত হইলে তিনি বাহির হইতেন এবং রক্ত পরিষ্কার করিতেন, তারপর প্রত্যাবর্তন করিয়া নামায যতটুকু পড়িয়াছেন উহার (উপর ভিত্তি করিয়া) অবশিষ্ট নামায পড়িতেন।
হাদিস 79 — Muwatta Malik 2:48
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّهُ رَأَى سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ رَعَفَ وَهُوَ يُصَلِّي فَأَتَى حُجْرَةَ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأُتِيَ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ رَجَعَ فَبَنَى عَلَى مَا قَدْ صَلَّى .
রেওয়ায়ত ৪৮. ইয়াযিদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুসাইত লাইসী (রহঃ) বলেনঃ তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে দেখিয়াছেন, তিনি যখন নামায পড়িতেছিলেন তখন তাহার নাক দিয়া রক্ত বাহির হইল তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী উম্মু সালমার হুজরায় আসিলেন। তাহার জন্য পানি আনা হইল, তিনি ওযু করিলেন, তারপর প্রত্যাবর্তন করিলেন এবং নামায যতটুকু বাকি ছিল তাহা আদায় করিলেন।