রেওয়ায়ত ৫১. মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যে রাত্রে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে ছুরিকাঘাত করা হয়, সেই রাত্রে জনৈক ব্যক্তি[1] উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিল। উমর (রাঃ)-কে ফজরের নামাযের জন্য জাগানো হইল। উমর (রাঃ) বলিলেনঃ হ্যাঁ, আমি এই অবস্থায়ও নামায পড়িব। যে ব্যক্তি নামায ছাড়িয়া দেয়, ইসলামে তাহার কোন অংশ নাই। অতঃপর উমর (রাঃ) নামায পড়িলেন অথচ তাহার জখম হইতে তখন রক্ত প্রবাহিত হইতেছিল।
রেওয়ায়ত ৫২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ নকসীরের কারণে যে ব্যক্তির রক্ত প্রবল হইয়াছে এবং তাহার রক্ত পড়া বন্ধ হয় নাই সেই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদের মতামত কি? ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ অতঃপর সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিলেনঃ আমার মতে সে মাথার দ্বারা কেবল ইশারা করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে আমি যাহা কিছু শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার নিকট উত্তম।
হাদিস 84 — Muwatta Malik 2:53
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، أَمَرَهُ أَنْ يَسْأَلَ، لَهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ إِذَا دَنَا مِنْ أَهْلِهِ فَخَرَجَ مِنْهُ الْمَذْىُ مَاذَا عَلَيْهِ قَالَ عَلِيٌّ فَإِنَّ عِنْدِي ابْنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَسْتَحِي أَنْ أَسْأَلَهُ . قَالَ الْمِقْدَادُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " إِذَا وَجَدَ ذَلِكَ أَحَدُكُمْ فَلْيَنْضَحْ فَرْجَهُ بِالْمَاءِ وَلْيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ " .
রেওয়ায়ত ৫৩. মিকদাদ ইবন আসওয়াদ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) মিকদাদকে নির্দেশ দিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তাহার পক্ষে প্রশ্ন করার জন্য। প্রশ্নটি হলো এই-এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর নিকট যাওয়ায় তাহার লিঙ্গাগ্রে মযী (তরল পদার্থ, শুক্র নহে) বাহির হইয়াছে, সে ব্যক্তির প্রতি কি ওযু ওয়াজিব হইবে। আলী (রাঃ) বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা যেহেতু আমার স্ত্রী সেহেতু তাহাকে এই ধরনের প্রশ্ন করিতে আমি লজ্জাবোধ করি। মিকদাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উপরিউক্ত প্রশ্ন করিলে তিনি বলিলেন, তোমাদের কেউ অনুরূপ অবস্থার সম্মুখীন হইলে সে নিজের লজ্জাস্থান পানি দ্বারা ধৌত করিবে, তারপর নামাযের ওযুর ন্যায় ওযু করিবে।
রেওয়ায়ত ৫৪. আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমার ভিতর হইতে উহা মুক্তাদানার মত নির্গত হইতে আমি অনুভব করি। তোমাদের কেউ এই অবস্থা প্রাপ্ত হইলে সে তাহার লজ্জাস্থান ধুইয়া লইবে এবং নামাযের ওযুর মত ওযু করিবে। তিনি (উমর) ইহা দ্বারা মযীর বিষয় বলিতে চাহিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৫৫. জুনদাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে মযী সম্পর্কে প্রশ্ন করিলাম। তিনি বলিলেনঃ তুমি উহা প্রাপ্ত হইলে তোমার লজ্জাস্থানকে ধুইয়া লও এবং নামাযের ওযুর মত ওযু কর।
রেওয়ায়ত ৫৬. ইয়াহইয়াহ ইবস সাঈদ (রহঃ) শুনিয়াছেন- সাঈদ ইবন মুসায়াব (রহঃ)-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করতে সে বলিলঃ আমি নামায পড়িতেছি এই অবস্থায় আর্দ্রতা অনুভব করি। তবে আমি কি (নামায ছাড়িয়া) ফিরিয়া যাইব? সাঈদ বলিলেনঃ আমার রানের উপর দিয়া ভাসিয়া পড়িলেও আমি আমার নামায সমাপ্ত না করিয়া ফিরিব না।
রেওয়ায়ত ৫৭. সালত ইবন যুয়ায়দ (রহঃ) বলেনঃ আমি সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-কে আর্দ্রতা সম্পর্কে প্রশ্ন করিলাম; যা আমি অনুভব করি অর্থাৎ মনে সন্দেহ জাগে হয়তো আদ্ৰতা আছে। তিনি বলিলেনঃ তোমার কাপড়ের (লুঙ্গি অথবা পায়জামা) নিচে পানি ছিটাইয়া দাও। তারপর উহার ফিকির (চিন্তা) ছাড়।
রেওয়ায়ত ৫৮. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ আমি মারওয়ান ইবন হাকাম (রহঃ)-এর নিকট গেলাম, আমরা উভয়ে ওযূ কিসে ওয়াজিব হয় সেই বিষয়ে আলোচনা করিলাম। মারওয়ান বলিলেনঃ জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিলে ওযু করিতে হইবে। উরওয়াহ বলিলেনঃ আমি তো ইহা জানি না। মারওয়ান বলিলেনঃ বুসরা বিনত সফওয়ান (রাঃ) আমাকে খবর দিয়াছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিলে ওযু করিবে।
রেওয়ায়ত ৫৯. মুসআব ইবন সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রহঃ) বলেনঃ আমি সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর জন্য কুরআন হস্তে ধারণ করিতেছিলাম (যেন তিনি তিলাওয়াত করিতে পারেন), আমি নিজের শরীর চুলকাইলাম (বা ঘর্ষণ করিলাম)। সা'দ বলিলেনঃ সম্ভবত তুমি তোমার জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিয়াছ। আমি বলিলামঃ হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ তুমি ওঠ এবং ওযু কর; অতঃপর আমি উঠিলাম এবং ওযু করিয়া আবার প্রত্যাবর্তন করিলাম।
রেওয়ায়ত ৬০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ তোমাদের কেউ যদি স্বীয় জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করে, তবে সে ওযু করিবে, কারণ তাহার ওপর ওযু ওয়াজিব হইয়াছে।