রেওয়ায়ত ৭৩. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু মূসা আশ'আরী (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইলেন। তিনি বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাদের মতানৈক্য আমার নিকট খুব ভারী ও কষ্টদায়ক হইয়াছে এবং তাহা এমন একটি বিষয়ে যাহা আপনার সমীপে উল্লেখ করা আমি মহাব্যাপার মনে করি। আয়েশা সিদীকা (রাঃ) বললেনঃ কি বিষয় উহা? তুমি যে বিষয় তোমার মাতার নিকট প্রশ্ন করিতে পার, সেই বিষয়ে আমার নিকটও প্রশ্ন করিতে পার। তারপর আবু মূসা (রাঃ) বলিলেনঃ কোন লোক তাহার স্ত্রীর সহিত সহবাস করার পর সে ক্লান্ত হইয়াছে এবং বীর্য নির্গত হয় নাই। সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ (পুরুষের) লজ্জাস্থান (স্ত্রীলোকের) লজ্জাস্থান অতিক্রম করিলে গোসল ওয়াজিব হইবে। আবু মূসা (রাঃ) বলিলেনঃ আপনাকে জিজ্ঞাসা করার পর আমি এই বিষয় অন্য কাহারও নিকট আর কখনও জিজ্ঞাসা করিব না।
রেওয়ায়ত ৭৪. মাহমুদ ইবন লবীদ আনসারী (রাঃ) যায়দ ইবন সাবিত আনসারী (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন, সেই লোক সম্পর্কে যে লোক নিজের স্ত্রীর সহিত সহবাস করিয়াছে, তারপর ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছে, বীর্য বাহির হয় নাই। তিনি বলিলেনঃ সে গোসল করবে। মাহমুদ (রাঃ) বলিলেনঃ উবাই ইবন কা'ব (রাঃ) গোসল (এই অবস্থায়) জরুরী মনে করিতেন না। যায়দ (রাঃ) বললেন, মৃত্যুর পূর্বে উবাই ইবন কা'ব (রাঃ) এই মত প্রত্যাহার করিয়াছিলেন।
রেওয়ায়ত ৭৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) উল্লেখ করিলেন, রাত্রিতে তাহার জানাবত অর্থাৎ অপবিত্রতা হয় (স্বপ্লদোষ বা স্ত্রী সহবাসের দরুন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ তুমি ওযু কর এবং জননেন্দ্রিয় ধুইয়া ফেল, তারপর ঘুমাও।
হাদিস 108 — Muwatta Malik 2:77
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ إِذَا أَصَابَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَنَامَ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ فَلاَ يَنَمْ حَتَّى يَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ .
রেওয়ায়ত ৭৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিতেনঃ তোমাদের কেউ স্ত্রী সহবাস করিলে, অতঃপর গোসলের পূর্বে ঘুমাইতে ইচ্ছা করিলে সে নামাযের ওযুর মত ওযু না করিয়া ঘুমাইবে না।
রেওয়ায়ত ৭৮. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) জানাবত হালতে ঘুমাইতে অথবা আহার করিতে ইচ্ছা করিলে তিনি মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুইতেন এবং মাথা মসেহ করিতেন। তারপর আহার করিতেন অথবা ঘুমাইতেন।
হাদিস 110 — Muwatta Malik 2:79
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَبَّرَ فِي صَلاَةٍ مِنَ الصَّلَوَاتِ ثُمَّ أَشَارَ إِلَيْهِمْ بِيَدِهِ أَنِ امْكُثُوا فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ وَعَلَى جِلْدِهِ أَثَرُ الْمَاءِ .
রেওয়ায়ত ৭৯. ইসমাঈল ইবন আবি হাকীম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, 'আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) তাহাকে বলিয়াছেনঃ কোন এক নামাযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তকবীর বললেন। অতঃপর হাত দিয়া তাহদের (নামাযে শরীক উপস্থিত সাহাবীদের) দিকে ইশারা করিলেনঃ তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান কর। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্থান করিলেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তন করিলেন (এমন অবস্থায় যে), তাহার (পবিত্র) দেহের উপর পানির আলামত বিদ্যমান ছিল।
রেওয়ায়ত ৮০. যুয়ায়দ ইবন সালত (রহঃ) বলেনঃ আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর সহিত বাহির হইলাম জুরুফ-এর (মদীনা হইতে তিন মাইল দূরের একটি পল্লী) দিকে। তাহার স্বপ্লদোষ হইল এবং তিনি গোসল না করিয়া (ভুলে) নামায পড়িলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ কসম আল্লাহর! আমার মনে হয়, আমার অবশ্য ইহতিলাম (স্বপ্লদোষ) হইয়াছে অথচ আমি খবর রাখি না এবং আমি গোসল না করিয়া নামায পড়িয়াছি। তারপর তিনি গোসল করিলেন এবং কাপড়ে যা চিহ্ন দেখিলেন উহা ধুইলেন, যেখানে চিহ্ন নাই সেইখানে পানি ছিটাইয়া দিলেন। তারপর আযান ও ইকামত বলিলেন। অতঃপর দিবসের প্রথমাংশ সূর্য উচ্চতায় পৌছার পর নামায পড়িলেন।