Qurani·قرآني
বাংলা

তাহারাত

114 হাদিস · #32–145

হাদিস 112 — Muwatta Malik 2:81
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، غَدَا إِلَى أَرْضِهِ بِالْجُرُفِ فَوَجَدَ فِي ثَوْبِهِ احْتِلاَمًا فَقَالَ لَقَدِ ابْتُلِيتُ بِالاِحْتِلاَمِ مُنْذُ وُلِّيتُ أَمْرَ النَّاسِ ‏.‏ فَاغْتَسَلَ وَغَسَلَ مَا رَأَى فِي ثَوْبِهِ مِنَ الاِحْتِلاَمِ ثُمَّ صَلَّى بَعْدَ أَنْ طَلَعَتِ الشَّمْسُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮১. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) দিনের প্রথমাংশে জুরুফ নামক স্থানে অবস্থিত তাহার জমির দিকে গমন করিলেন। তিনি তাহার কাপড়ে স্বপ্লদোষের আলামত দেখিতে পাইলেন। তিনি বলিলেনঃ যখন হইতে লোকের দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করা হইয়াছে, তখন হইতে আমি ইহতিলামে লিপ্ত হইয়াছি। তারপর তিনি গোসল করিলেন এবং তাহার কাপড়ে স্বপ্নদোষের যা আলামত দেখিলেন উহ ধুইলেন। তারপর সূর্য ওঠার পর তিনি নামায পড়িলেন।
হাদিস 113 — Muwatta Malik 2:82
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، صَلَّى بِالنَّاسِ الصُّبْحَ ثُمَّ غَدَا إِلَى أَرْضِهِ بِالْجُرُفِ فَوَجَدَ فِي ثَوْبِهِ احْتِلاَمًا فَقَالَ إِنَّا لَمَّا أَصَبْنَا الْوَدَكَ لاَنَتِ الْعُرُوقُ ‏.‏ فَاغْتَسَلَ وَغَسَلَ الاِحْتِلاَمَ مِنْ ثَوْبِهِ وَعَادَ لِصَلاَتِهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮২. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) লোকের সহিত (জামাতে) ফজরের নামায পড়িলেন, অতঃপর সকালবেলা জুরুফ'-এ (جرف) অবস্থিত তাহার জমির দিকে গমন করিলেন। তারপর তাহার কাপড়ে ইহতিলামের (চিহ্ন) দেখিতে পাইলেন। তিনি বলিলেনঃ আমরা চর্বি (চর্বিযুক্ত খাদ্যদ্রব্য) যখন হইতে আহার করিতেছি তখন হইতে আমাদের শিরাসমূহ কোমল হইয়াছে। তারপর তিনি গোসল করিলেন এবং কাপড় হইতে ইহতিলাম (এর চিহ্ন) ধুইয়া ফেলিলেন এবং নামায পুনরায় পড়িলেন।
হাদিস 114 — Muwatta Malik 2:83
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ، أَنَّهُ اعْتَمَرَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَكْبٍ فِيهِمْ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ وَأَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَرَّسَ بِبَعْضِ الطَّرِيقِ قَرِيبًا مِنْ بَعْضِ الْمِيَاهِ فَاحْتَلَمَ عُمَرُ وَقَدْ كَادَ أَنْ يُصْبِحَ فَلَمْ يَجِدْ مَعَ الرَّكْبِ مَاءً فَرَكِبَ حَتَّى جَاءَ الْمَاءَ فَجَعَلَ يَغْسِلُ مَا رَأَى مِنْ ذَلِكَ الاِحْتِلاَمِ حَتَّى أَسْفَرَ فَقَالَ لَهُ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ أَصْبَحْتَ وَمَعَنَا ثِيَابٌ فَدَعْ ثَوْبَكَ يُغْسَلُ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَاعَجَبًا لَكَ يَا عَمْرُو بْنَ الْعَاصِ لَئِنْ كُنْتَ تَجِدُ ثِيَابًا أَفَكُلُّ النَّاسِ يَجِدُ ثِيَابًا وَاللَّهِ لَوْ فَعَلْتُهَا لَكَانَتْ سُنَّةً بَلْ أَغْسِلُ مَا رَأَيْتُ وَأَنْضِحُ مَا لَمْ أَرَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ فِي رَجُلٍ وَجَدَ فِي ثَوْبِهِ أَثَرَ احْتِلاَمٍ وَلاَ يَدْرِي مَتَى كَانَ وَلاَ يَذْكُرُ شَيْئًا رَأَى فِي مَنَامِهِ قَالَ لِيَغْتَسِلْ مِنْ أَحْدَثِ نَوْمٍ نَامَهُ فَإِنْ كَانَ صَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ النَّوْمِ فَلْيُعِدْ مَا كَانَ صَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ النَّوْمِ مِنْ أَجْلِ أَنَّ الرَّجُلَ رُبَّمَا احْتَلَمَ وَلاَ يَرَى شَيْئًا وَيَرَى وَلاَ يَحْتَلِمُ فَإِذَا وَجَدَ فِي ثَوْبِهِ مَاءً فَعَلَيْهِ الْغُسْلُ وَذَلِكَ أَنَّ عُمَرَ أَعَادَ مَا كَانَ صَلَّى لآخِرِ نَوْمٍ نَامَهُ وَلَمْ يُعِدْ مَا كَانَ قَبْلَهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮৩. ইয়াহইয়াহ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর সঙ্গে উমরাহ করিলেন একই কাফেলায়। আর সেই কাফেলায় আমর ইবনুল আস্ (রাঃ)-ও ছিলেন। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) কোন পানির (চশমা বা কূপ) নিকটবর্তী এক রাস্তায় (রাস্তার পাশে) রাত্রির শেষাংশে অবতরণ করিলেন। উমর (রাঃ)-এর ইহতিলাম হইল। (এইদিকে) ফজর হইতে লাগিল কিন্তু কাফেলার সহিত পানি পাওয়া গেল না। তিনি সওয়ার হইয়া পানির নিকট আসিলেন। অতঃপর তিনি ইহতিলামের যা চিহ্ন দেখিলেন উহা ধুইতে লাগিলেন, তখন ফরসা হইয়া গিয়াছে। আমর ইবনুল আস (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ আপনি ভোর করিলেন অথচ আমাদের সহিত কাপড় রহিয়াছে, আপনি আপনার বস্ত্র রাখিয়া দিন, (পরে) ধোয়া হইবে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেনঃ ইবনুল ‘আস্! আশ্চর্য তোমার প্রতি! তোমার যদিও অনেক বস্ত্র আছে, কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট কি তদ্রুপ আছে? আল্লাহর কসম, আমি যদি ইহা করি তবে ইহা সুন্নতে পরিণত হইবে। আমি বরং যাহা আলামত দেখিব উহা ধুইব, আর যাহা দেখা না যায় উহাতে পানি ছিটাইয়া দিব। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাহার কাপড়ে ইহতিলামের আলামত দেখিতে পায়, কোন সময় ইহতিলাম হইয়াছে সে তাহা জানে না, স্বপ্নে যা দেখিয়াছে তাহাও স্মরণ নাই, তবে সে সদ্য যে নিদ্রা হইতে জাগিয়াছে উহাতে (ইহতিলাম হইয়াছে বলিয়া গণ্য করিয়া) গোসল করবে। যদি সে এই নিদ্রার পর নামায পড়িয়া থাকে তবে সেই নামায পুনরায় পড়িবে। কারণ লোকের (অনেক সময়) ইহতিলাম হয় কিন্তু কোন কিছু (স্বপ্নে) দেখে না, আবার কোন সময় স্বপ্ন দেখে কিন্তু ইহতিলাম হয় না। তাই কাপড়ে যদি পানি দেখে (ইহতিলাম স্মরণ না থাকিলেও) তবে তাহার উপর গোসল ওয়াজিব হইবে। কারণ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এই ঘটনায় শেষ বারের নিদ্রা হইতে জাগ্রত হইবার পর যে নামায পড়িয়াছিলেন তিনি সেই নামায পুনরায় পড়িয়াছেন, উহার পূর্ববর্তী নামায অর্থাৎ ঐ নিদ্রার পূর্বের নামায তিনি কাযা করেন নাই।
হাদিস 115 — Muwatta Malik 2:84
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ، قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَرْأَةُ تَرَى فِي الْمَنَامِ مِثْلَ مَا يَرَى الرَّجُلُ أَتَغْتَسِلُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ نَعَمْ فَلْتَغْتَسِلْ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ أُفٍّ لَكِ وَهَلْ تَرَى ذَلِكَ الْمَرْأَةُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ تَرِبَتْ يَمِينُكِ وَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮৪. উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উম্মু সুলায়ম বিনতে মিলহান (রাঃ) বলিলেনঃ স্ত্রীলোক স্বপ্নে দেখিলে যেমন (স্বপ্ন) দেখিয়া থাকে পুরুষ, (সেই) স্ত্রীলোক গোসল করিবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ হ্যাঁ, সে গোসল করবে। আয়েশা (রাঃ) তাহাকে (উম্মু সুলায়মকে) বলিলেনঃ উঃ তোমার সর্বনাশ হোক! স্ত্রীলোকও কি উহা দেখে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে [আয়েশা (রাঃ)-কে] বললেনঃ (تَرِبَتْ يَمِينُكِ) তোমার ডান হস্ত ধূলিধূসরিত হোক। (স্ত্রীলোকের উহা না হইলে) তবে (সন্তান-এর) সাদৃশ্য আসে কোথা হইতে? অর্থাৎ সন্তান মায়ের মত হয় কিরূপে?
হাদিস 116 — Muwatta Malik 2:85
Mauquf Sahih
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ امْرَأَةُ أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَارِيِّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا هِيَ احْتَلَمَتْ فَقَالَ ‏ "‏ نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মু সালমা (রাঃ) বলেনঃ আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু সুলায়ম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে হাজির হইলেন এবং আরজ করিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ হক কথা বলতে লজ্জা করেন না, স্ত্রীলোকের স্বপ্লদোষ হইলে তাহার উপর গোসল ওয়াজিব হইবে কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেনঃ হ্যাঁ, পানি দেখিলে।
হাদিস 117 — Muwatta Malik 2:86
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُغْتَسَلَ بِفَضْلِ الْمَرْأَةِ مَا لَمْ تَكُنْ حَائِضًا أَوْ جُنُبًا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ স্ত্রীলোকের গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করাতে কোন দোষ নাই (অর্থাৎ ইহা জায়েয)। যদি স্ত্রীলোক ঋতুমতী (حائض) অথবা জুনুবী না হয়।
হাদিস 118 — Muwatta Malik 2:87
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَعْرَقُ فِي الثَّوْبِ وَهُوَ جُنُبٌ ثُمَّ يُصَلِّي فِيهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮৭. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পরিধানের কাপড়ে ঘর্মাক্ত হইতেন অথচ তখন তিনি জুনুবী। অতঃপর সেই কাপড়েই গোসলের পর তিনি নামায পড়িতেন।
হাদিস 119 — Muwatta Malik 2:88
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَغْسِلُ جَوَارِيهِ رِجْلَيْهِ وَيُعْطِينَهُ الْخُمْرَةَ وَهُنَّ حُيَّضٌ ‏.‏ وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ لَهُ نِسْوَةٌ وَجَوَارِي هَلْ يَطَؤُهُنَّ جَمِيعًا قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ فَقَالَ لاَ بَأْسَ بِأَنْ يُصِيبَ الرَّجُلُ جَارِيَتَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ فَأَمَّا النِّسَاءُ الْحَرَائِرُ فَيُكْرَهُ أَنْ يُصِيبَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ الْحُرَّةَ فِي يَوْمِ الأُخْرَى فَأَمَّا أَنَّ يُصِيبَ الْجَارِيَةَ ثُمَّ يُصِيبَ الأُخْرَى وَهُوَ جُنُبٌ فَلاَ بَأْسَ بِذَلِكَ ‏.‏ وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ جُنُبٍ وُضِعَ لَهُ مَاءٌ يَغْتَسِلُ بِهِ فَسَهَا فَأَدْخَلَ أَصْبُعَهُ فِيهِ لِيَعْرِفَ حَرَّ الْمَاءِ مِنْ بَرْدِهِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ إِنْ لَمْ يَكُنْ أَصَابَ أَصْبُعَهُ أَذًى فَلاَ أَرَى ذَلِكَ يُنَجِّسُ عَلَيْهِ الْمَاءَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮৮. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর বাঁদিগণ তাহার পদদ্বয় ধৌত করিত এবং তাহাকে খুমরা (خمرة) ছোট মুসল্লা বা জায়নামায প্রদান করিত, অথচ তাহারা তখন ঋতুমতী। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী ও বাদী রহিয়াছে, সেই ব্যক্তি গোসলের পূর্বে সকলের (স্ত্রী ও বাদিগণের) সঙ্গে সহবাস করিতে পারবে কি? (উত্তরে) তিনি বলিলেনঃ জানাবতের গোসলের পূর্বে বাদীর সহিত সহবাস করা দোষের বিষয় নয় (অর্থাৎ ইহা জায়েয)। কিন্তু স্বাধীন স্ত্রীগণের ব্যাপারে মাসআলা এই- কোন ব্যক্তির পক্ষে নিজের স্ত্রীর (অধিকারের) দিনে (নিজের) আর এক স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়া মাকরূহ। তবে কোন লোকের জন্য (তাহার) এক বাদীর সহিত সহবাস করিয়া অতঃপর আর এক বাদীর সহিত জুনুব থাকা অবস্থায় মিলিত হওয়া দোষের ব্যাপার নহে। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক জুনুবী ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তির জন্য পানি রাখা হইয়াছে যাহা হইতে সে ব্যক্তি ফরয গোসল করিবে, তারপর সে ভুলবশত সেই পানিতে তাহার আঙ্গুল দাখিল করিয়াছে যাহাতে ঠাণ্ডা ও গরমের (মাত্রা) নির্ণয় করিতে পারে। (উত্তরে) মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার আঙুলসমূহে কোন নাপাকী না পৌছিয়া থাকিলে তবে তাহার এই কাজে পানি নাপাক হইবে বলিয়া আমি মনে করি না।
হাদিস 120 — Muwatta Malik 2:89
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ - أَوْ بِذَاتِ الْجَيْشِ - انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْتِمَاسِهِ وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَتَى النَّاسُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَقَالُوا أَلاَ تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِالنَّاسِ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ ‏.‏ قَالَتْ عَائِشَةُ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ فَقَالَ حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسَ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ قَالَتْ عَائِشَةُ فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ وَجَعَلَ يَطْعُنُ بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي فَلاَ يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلاَّ مَكَانُ رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى فَخِذِي فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى آيَةَ التَّيَمُّمِ فَتَيَمَّمُوا ‏.‏ فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ ‏.‏ قَالَتْ فَبَعَثْنَا الْبَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ فَوَجَدْنَا الْعِقْدَ تَحْتَهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮৯. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সফরে গমন করিলাম। যখন আমরা বায়দা (بيداء) অথবা (তিনি বলিয়াছেন) যাতুল-জাইশ (নামক স্থান)-এ পৌছিলাম, তখন আমার একটি মালা হারান গেল। উহা অনুসন্ধানের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেখানে) অবস্থান করিলেন এবং লোকজনও তাহার সহিত অবস্থান করিলেন। তাহারা কোন পানির (কূপ বা নহর) কাছে ছিলেন না এবং তাঁহাদের সঙ্গেও পানি ছিল না। লোকজন আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইলেন এবং ঘটনা বিবৃত করিলেন। তাহারা বললেনঃ আয়েশা (রাঃ) কি করিয়াছেন তাহা কি আপনি জানেন না? (তিনি) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এবং অন্য লোকদিগকে অবস্থানে বাধ্য করিয়াছেন। অথচ তাহারা পানির কাছে নহেন এবং তাহদের সঙ্গে পানিও নাই। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ তারপর আবু বকর (রাঃ) আমার নিকট আসিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার (পবিত্র) শির আমার উরুর উপর স্থাপন করিয়া ঘুমাইতেছিলেন। তিনি [আবু বকর (রাঃ)] বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং লোকদিগকে তুমি আটকাইয়া রাখিয়াছ। অথচ তাহারা পানির পার্শ্বে নহেন এবং তাহাদের সাথে পানিও নাই। আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ তারপর আবু বকর (রাঃ) আমার প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করিলেন এবং আমাকে তিরস্কার করিলেন। আর তাহার হাত দিয়া আমার কোমরে খোচা মারিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (পবিত্র) শির আমার উরুর উপর স্থাপিত থাকার দরুন আমি (খোচা মারা সত্ত্বেও) নড়াচড়া করিতেছিলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতঃপর ঘুমাইয়া পড়িলেন এমন কি এই পানিহীন অবস্থায় ভোর হইল। তারপর আল্লাহ তা'আলা তাইয়াম্মুমের আয়াত নাযিল করিলেন। তারপর তাহারা সকলে তাইয়াম্মুম করিলেন। উসায়দ ইবন হুযায়র (রাঃ) বললেনঃ হে আবু বকরের পরিজন ইহা (অর্থাৎ তাইয়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ হওয়া) আপনাদের প্রথম বরকত নহে। (অর্থাৎ মুসলিমগণ আপনাদের দ্বারা নানাভাবে উপকৃত হইয়াছেন) আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ তারপর আমি যে উটের উপর আরোহণ করিয়াছিলাম উহাকে উঠাইলাম এবং উহার নিচে মালা পাইলাম। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি উপস্থিত নামাযের জন্য তাইয়াম্মুম করিয়াছে। অতঃপর পরবর্তী নামায উপস্থিত হইয়াছে, ঐ লোক কি সেই নামাযের জন্য (আবার) তাইয়াম্মুম করবে, না সেই (পূর্ববর্তী) তাইয়াম্মুম তাহার জন্য যথেষ্ট হইবে? উত্তরে তিনি বলিলেনঃ প্রত্যেক (ফরয) নামাযের জন্য তাইয়াম্মুম করবে। কারণ (সময় উপস্থিত হইলে) প্রত্যেক নামাযের জন্য পানির অনুসন্ধান করা তাহার ওয়াজিব। যে ব্যক্তি পানির অনুসন্ধান করিল কিন্তু পানি পাইল না, সে তাইয়াম্মুম করিবে। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি তাইয়াম্মুম করিয়াছে এবং তাহার সাথীগণ যাহারা ওযু করিয়াছেন সে তাহাদের ইমামতি করিতে পারবে কি? (উত্তরে) তিনি বলিলেন, সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ ইমামতি করিলে তাহা আমার নিকট পছন্দনীয়, আর যদি সে তাহাদের ইমামতি করিয়া থাকে, তবে তাহাতেও আমি কোন দোষ দেখি না। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, এক ব্যক্তি পানি না পাইয়া তাইয়াম্মুম করিয়াছে, তারপর সে নামাযে দাঁড়াইয়াছে এবং তকবীর বলিয়া নামায আরম্ভ করিয়াছে। অতঃপর একজন লোক পানিসহ তাহার নিকট আগমন করিল। তিনি বলেনঃ সে নামায ছাড়িবে না, বরং তাইয়াম্মুম দ্বারা সেই নামায পূর্ণ করিবে এবং আগামী নামাযের জন্য ওযু করবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি নামাযের (প্রস্তুতির) জন্য দাঁড়াইয়াছে; কিন্তু সে পানি না পাইয়া আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক তাইয়াম্মুমের আমল করিয়াছে তবে সেই ব্যক্তি মহান আল্লাহর আনুগত্যই করিয়াছে। পক্ষাত্তরে যে ব্যক্তি পানি পাইয়াছে (ও ওযু করিয়াছে) তাহা (উপরিউক্ত তাইয়াম্মুমকারী) অপেক্ষা সেই ব্যক্তি বেশি পবিত্র ও নামাযের পূর্ণতাকারী বলিয়া গণ্য হইবে না; কারণ তাহারা উভয়েই নির্দেশপ্রাপ্ত এবং প্রত্যেকে মহিমান্বিত আল্লাহ্‌র পক্ষ হইতে যাহা নির্দেশ পাইয়াছে সেই মুতাবিক আমল করিয়াছে। যে ব্যক্তি পানি পাইয়াছে সেই ব্যক্তির আমল হইল ওযু, যেমন আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে নির্দেশ করিয়াছেন, আর যে ব্যক্তি নামায শুরুর পূর্বে পানি পায় নাই সেই ব্যক্তির জন্য (নির্দেশ) হইল তাইয়াম্মুম। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, জুনুবী ব্যক্তি তাইয়াম্মুম করিবে এবং কুরআন হইতে তাহার নির্ধারিত অংশ তিলাওয়াত করিবে এবং নফল নামায পড়িবে যতক্ষণ পর্যন্ত পানি না পায়। তবে ইহা সেই স্থানের জন্য যে স্থানে তাহার জন্য তাইয়াম্মুম দ্বারা নামায পড়া বৈধ।
হাদিস 121 — Muwatta Malik 2:90
Mauquf Sahih
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّهُ أَقْبَلَ هُوَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مِنَ الْجُرُفِ حَتَّى إِذَا كَانَا بِالْمِرْبَدِ نَزَلَ عَبْدُ اللَّهِ فَتَيَمَّمَ صَعِيدًا طَيِّبًا فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ صَلَّى ‏.‏
রেওয়ায়ত ৯০. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি স্বয়ং এবং আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যাত্রা আরম্ভ করিলেন। জুরুফ (جرف) হইতে তাহারা উভয়ে মিরবদ (مربد) নামক স্থানে পৌছার পর আবদুল্লাহ (রাঃ) অবতরণ করলেন এবং পবিত্র মাটি দ্বারা তাইয়াম্মুম করিলেন- তাহার মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় কনুই পর্যন্ত মসেহ করিলেন। অতঃপর নামায পড়িলেন।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।