রেওয়ায়ত ২. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন, মদীনার আনসারগণের মধ্যে আবু তালহা (রাঃ) ছিলেন সর্বাধিক ধনী ব্যক্তি। তাঁহার সবচাইতে অধিক খেজুর বৃক্ষ ছিল। সমুদয় বাগানের মধ্যে ‘বাইরহা’ নামক বাগানটি ছিল তাহার (আবু তালহার) অধিক পছন্দনীয়। বাগানটি মসজিদে নববীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সেই বাগানে প্রায়ই আসা-যাওয়া করিতেন। সেখানকার পানি খুবই উত্তম ছিল, তিনি তাহা পান করিতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হইলঃ (لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ) অর্থাৎ যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহর রাহে) খরচ না করিবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাইবে না)। তখন আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা বলেন যে, যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহর রাহে) খরচ না করিবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাইবে না। আর আমার প্রিয় বস্তু হইল এই ‘বাইরহা’। আমি ইহাকে আল্লাহর রাস্তায় সদকা করিলাম। ইহার বিনিময়ে আমি নেকীর আশা রাখি এবং ইহা আল্লাহর নিকট জমা রাখিতেছি। সুতরাং ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি ইহাকে যেভাবে ইচ্ছা কবুল করুন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, বাহবা! ইহা অত্যন্ত লাভজনক মাল, ইহা অত্যন্ত লাভজনক মাল। তুমি এই বাগান সম্বন্ধে যাহা কিছু বলিয়াছ আমি উহা শ্রবণ করিয়াছি। আমার মনে হয়, তুমি ইহাকে তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করিয়া দাও। আবু তালহা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি উহা বিতরণ করিয়া দিব। অতএব আবু তালহা (রাঃ) তাহার আত্মীয়-স্বজন ও চাচাত ভাইগণের মধ্যে উহা বন্টন করিয়া দিলেন।
হাদিস 1843 — Muwatta Malik 58:3
দাঈফ
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَعْطُوا السَّائِلَ وَإِنْ جَاءَ عَلَى فَرَسٍ " .
রেওয়ায়ত ৩. যায়দ ইবনে আসলাম (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, ভিক্ষুককে দাও যদিও সে ঘোড়ায় আরোহণ করিয়া আসে।
হাদিস 1844 — Muwatta Malik 58:4
হাসান Lighairihi
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُعَاذٍ الأَشْهَلِيِّ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ جَدَّتِهِ، أَنَّهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا نِسَاءَ الْمُؤْمِنَاتِ لاَ تَحْقِرَنَّ إِحْدَاكُنَّ أَنْ تُهْدِيَ لِجَارَتِهَا وَلَوْ كُرَاعَ شَاةٍ مُحْرَقًا " .
রেওয়ায়ত ৪. আমর ইবনে মুয়াজ আশহালী তাহার দাদী হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, হে মু’মিন মহিলাগণ তোমাদের কেহ যেন স্বীয় প্রতিবেশীকে তুচ্ছ মনে না করে, যদিও সে ছাগলের একটি পোড়া খুর পাঠায় (তাহাও কবুল কর)।
রেওয়ায়ত ৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট জনৈক ভিক্ষুক আসিয়া কিছু ভিক্ষা চাহিল। তিনি (আয়েশা) রোযা রাখিয়াছিলেন। ঘরে একটি রুটি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না । তিনি স্বীয় দাসীকে বলিলেন, উহা ফকীরকে দিয়া দাও। দাসী বলিল, আপনার ইফতারের জন্য আর কিছুই থাকিবে না। তিনি বলিলেন, (যাহা হউক) দিয়া দাও। অতঃপর দাসী সেই রুটি ফকীরকে দিয়া দিল। দাসীটি বলে, সন্ধ্যার সময় কোন বাড়ি হইতে বা কোন এক ব্যক্তি হাদিয়া পাঠাইয়া দিল ছাগলের ভূনা গোশত। আয়েশা (রাঃ) আমাকে ডাকিয়া বলিলেন, খাও। ইহা তোমার রুটি হইতে উত্তম।
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, জনৈক মিসকীন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া কিছু ভিক্ষা চাহিল। তাহার সম্মুখে তখন আঙ্গুর ছিল। আয়েশা (রাঃ) এক ব্যক্তিকে বলিলেন, একটি আঙ্গুর নিয়া ঐ মিসকীনকে দিয়া দাও। লোকটি আশ্চর্যবোধ করিতে লাগিল (মাত্র একটি আঙ্গুর দিতেছেন)। আয়েশা (রাঃ) লোকটির মনোভাব বুঝিতে পারিয়া বলিলেন, তুমি আশ্চর্যবোধ করিতেছ? এই একটি আঙ্গুর কত অণু পরিমাণ হইবে বলিয়া তুমি মনে কর?
রেওয়ায়ত ৭. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, আনসারের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট কিছু চাহিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদেরকে কিছু দান করিলেন; তাহারা পুনরায় কিছু চাহিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার কিছু দান করিলেন। এইভাবে তিনবার দান করিলেন; এমন কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট যাহা কিছু ছিল, সব নিঃশেষ হইয়া গেল। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমার নিকট যেই পরিমাণ মাল থাকিবে, উহা তোমাদের না দিয়া আমি কখনও জমা করিয়া রাখিব না। তবে যে ভিক্ষা চাওয়া হইতে বিরত থাকিবে, আল্লাহ্ তাহাকে রক্ষা করেন। যে সবর করিয়া কাহারও মুখাপেক্ষী নহে বলিয়া কার্যত প্রকাশ করিবে, আল্লাহ্ তাহাকে ধনী করিয়া দিবেন। যে সবর করিবে, আল্লাহ তা’আলা তাহাকে সবরের তওফীক দান করিবেন। মানুষকে যাহা কিছু দান করা হইয়াছে, তন্মধ্যে সবরের চাইতে বড় ও উত্তম আর কিছু নাই।
রেওয়ায়ত ৮. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর আরোহণ করিয়া বলিলেন, তিনি তখন সদকা ও ভিক্ষাবৃত্তি হইতে নিজেকে বাঁচাইয়া রাখা সম্পর্কে কথা বলিতেছিলেন, নিচের হাতের চাইতে উপরের হাত উত্তম। উপরের হাত হইল দাতার হাত এবং নিচের হাত হইল ভিক্ষুকের হাত।
হাদিস 1849 — Muwatta Malik 58:9
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِعَطَاءٍ فَرَدَّهُ عُمَرُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِمَ رَدَدْتَهُ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ أَخْبَرْتَنَا أَنَّ خَيْرًا لأَحَدِنَا أَنْ لاَ يَأْخُذَ مِنْ أَحَدٍ شَيْئًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا ذَلِكَ عَنِ الْمَسْأَلَةِ فَأَمَّا مَا كَانَ مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ فَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ يَرْزُقُكَهُ اللَّهُ " . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ أَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا وَلاَ يَأْتِينِي شَىْءٌ مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ إِلاَّ أَخَذْتُهُ .
রেওয়ায়ত ৯. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট কিছু দান (বা তুহফা) প্রেরণ করিলেন। উমর (রাঃ) উহা (গ্রহণ করিলেন না বরং) ফেরত পাঠাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, ফেরত পাঠাইলৈ কেন? উমর (রাঃ) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাদেরকে বলিয়াছিলেন যে, ঐ লোকটি উত্তম, যে কাহারও নিকট হইতে কিছু গ্রহণ করে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ইহার অর্থ এই যে, ভিক্ষা চাহিয়া কিছু গ্রহণ করিবে না। আর চাওয়া ছাড়া যদি পাওয়া যায় উহা আল্লাহর দান। অতঃপর উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, সেই পাক যাতের কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ রহিয়াছে, ভবিষ্যতে আমি কাহারও নিকট কিছু চাহিব না এবং চাওয়া ছাড়া কিছু পাওয়া গেলে উহা গ্রহণ করিব।
রেওয়ায়ত ১০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, সেই পাক যাতের কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ রহিয়াছে, যদি কোন মুসলিম রশি দিয়া জ্বালানি কাঠের বোঝা বাঁধিয়া উহা স্বীয় পৃষ্ঠে তুলিয়া লয় (এবং উহাকে বিক্রি করিয়া রোজগার করে), তাহা সেই ব্যক্তির জন্য ইহা হইতে উত্তম যে, সে এমন কোন ব্যক্তির নিকট গিয়া কিছু (ভিক্ষা) চায়, যাহাকে আল্লাহ তা’আলা মাল দিয়াছেন, সে তাহাকে কিছু দিক বা না দিক।