حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ وَقَاهُ اللَّهُ شَرَّ اثْنَيْنِ وَلَجَ الْجَنَّةَ " . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ تُخْبِرْنَا . فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ عَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مِثْلَ مَقَالَتِهِ الأُولَى فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ لاَ تُخْبِرْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ ذَلِكَ أَيْضًا فَقَالَ الرَّجُلُ لاَ تُخْبِرْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ ذَلِكَ أَيْضًا . ثُمَّ ذَهَبَ الرَّجُلُ يَقُولُ مِثْلَ مَقَالَتِهِ الأُولَى فَأَسْكَتَهُ رَجُلٌ إِلَى جَنْبِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَقَاهُ اللَّهُ شَرَّ اثْنَيْنِ وَلَجَ الْجَنَّةَ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ " .
রেওয়ায়ত ১১. আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আল্লাহ তা’আলা যাহাকে দুইটি জিনিসের অনিষ্ট হইতে রক্ষা করিবেন সে বেহেশতে যাইবে। (ইহা শুনিয়া) এক ব্যক্তি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই দুইটি জিনিস কি? আপনি কি আমাদেরকে বলিবেন না? অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হইয়া গেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই প্রথম কথার পুনরাবৃত্তি করিলেন। লোকটি আবার বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদেরকে উহা বলিবেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হইয়া গেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় সেই কথা বলিলেন। লোকটি আবার বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদেরকে বলিবেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার সেই কথা বলিলেন। লোকটিও সেই একই কথা বলিল (অর্থাৎ আপনি আমাদেরকে উহা বলিবেন না?) অতঃপর লোকটির পার্শ্বে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি তাহাকে চুপ করাইল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বলিলেন, “আল্লাহ্ পাক যাহাকে দুইটি জিনিসের অনিষ্ট হইতে রক্ষা করিবেন সে বেহেশতে যাইবে। একটি হইল দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু (জিহ্বা), অপরটি হইল দুই রানের মধ্যবর্তী বস্তু (লজ্জাস্থান)। এই কথাটি তিনবার বলিলেন।
রেওয়ায়ত ১৩. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) বলেন, আমি ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) খালিদ ইবন উকবা (রাঃ)-এর সেই ঘরের নিকটে ছিলাম যাহা বাজারে অবস্থিত ছিল। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি আসিয়া তাহার সহিত কানে কানে কিছু কথা বলিতে ইচ্ছা করিল। আবদুল্লাহ (ইবনে উমর)-এর সঙ্গে আমি ও সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে তাহার সহিত কানে কানে কথা বলিতে চাহিয়াছিল, আর কেহ ছিল না। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) অপর এক ব্যক্তিকে ডাকিয়া লইলেন। এখন আমরা চারিজন হইলাম এবং তিনি আমাকে ও সেই ব্যক্তিকে একটু সরিয়া যাইতে বললেন, যাহাকে ডাকিয়া লইয়াছিলেন এবং বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রবণ করিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন, দুইজন একজনকে একা ছাড়িয়া কানে কানে কথা বলিবে না। ইহাতে তৃতীয় ব্যক্তি দুঃখিত হয়।
হাদিস 1824 — Muwatta Malik 56:14
সহিহ
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ ثَلاَثَةٌ فَلاَ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ وَاحِدٍ " .
রেওয়ায়ত ১৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যদি তিনজন এক সঙ্গে হয়, তবে একজনকে ছাড়িয়া অবশিষ্ট দুইজন কানে কানে কথা বলিবে না।
হাদিস 1825 — Muwatta Malik 56:15
দাঈফ
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكْذِبُ امْرَأَتِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ خَيْرَ فِي الْكَذِبِ " . فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعِدُهَا وَأَقُولُ لَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ جُنَاحَ عَلَيْكَ " .
রেওয়ায়ত ১৫. সাফওয়ান ইবনে সুলাইম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আমি আমার স্ত্রীর সাথে মিথ্যা বলিতে পারিব কি? এতদুত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, মিথ্যা কথায় কোন উপকার নাই। লোকটি আবার বলিল, আমি'তাহার সাথে ওয়াদা তো করিতে পারিব যে, আমি তোমাকে এই জিনিস দিব। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, ইহাতে কোন দোষ নাই।
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলতেন, তোমরা সত্য বলা নিজের উপর ওয়াজিব (অনিবার্য) করিয়া লও। কেননা সত্য কথা নেকীর দিকে পথ প্রদর্শন করে এবং নেকী বেহেশতের পথ সুগম করে। আর তোমরা মিথ্যা বলা হইতে সংযত হও। কেননা মিথ্যা কথা গুনাহর দিকে পথ প্রদর্শন করে এবং গুনাহ দোযখের পথ সুগম করে। তুমি কি শোন নাই, ইহা বলা হয় যে, সত্যই নেকী এবং মিথ্যাই গুনাহ?
রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, লুকমান (আঃ)-এর নিকট কেহ জিজ্ঞাসা করিল, কিসের কারণে আপনি এই এত বুযুর্গী পাইলেন? লুকমান (আঃ) বলিলেন, সত্য কথা বলা, আমানতদারী এবং অনর্থক কাজ পরিহার করার কারণে।
রেওয়ায়ত ১৮. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলতেন, মানুষ মিথ্যা কথা বলে। শেষ পর্যন্ত তাহার অন্তরে একটা কাল দাগ পড়ে যাহার কারণে গোটা অন্তরই কাল হইয়া যায়। অবশেষে আল্লাহর নিকট তাহার নাম মিথ্যাবাদীদের তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়।
রেওয়ায়ত ২০. সুহাইল ইবন আবী সালেহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। যেসব কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন সেইগুলি হইল, (১) তোমরা তাহারই ইবাদত করিবে এবং তাহার সাথে আর কাহাকেও শরীক করিবে না। (২) আল্লাহর রজ্জু (অর্থাৎ কুরআন) মজবুত করিয়া ধরিবে। (৩) আল্লাহ যাহাকে শাসনের ভার দিয়াছেন তাহাকে নসীহত করবে। যেসব কাজে তিনি অসন্তুষ্ট হন, সেইগুলি হইল : (১) কথা অধিক বলা, (২) অপব্যয় করা, (৩) অধিক যাচনা করা (ভিক্ষা করা)।