وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مِنْ شَرِّ النَّاسِ ذُو الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ وَهَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ " .
রেওয়ায়ত ২১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, দোমুখো মানুষই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি অর্থাৎ যে এক দলের সঙ্গে এক রকম কথা বলে এবং অপর দলের সঙ্গে আরেক রকম কথা বলে।
হাদিস 1832 — Muwatta Malik 56:22
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ " .
রেওয়ায়ত ২২. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (কিছু সংখ্যক লোকের কৃতকর্মের দরুন আসন্ন বিপদে) আমরা ধ্বংস হইয়া যাইব কি? অথচ আমাদের মধ্যে অনেক নেককার মানুষও আছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ, গুনাহ যখন অধিক হয়, তখন (উহার শাস্তি সকলকেই ভোগ করিতে হয়)।
রেওয়ায়ত ২৩. উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) বলিতেন, বিশেষ লোকের গুনাহের কারণে আল্লাহ তা’আলা জনসাধারণকে আযাব দেন না। তবে পাপাচার যদি প্রকাশ্যে হইতে থাকে, তখন সকলেই আযাবের যোগ্য হয়।
রেওয়ায়ত ২৪. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন, আমি উমরের সঙ্গে ছিলাম। তিনি একটি বাগানে গেলেন। আমি ও তাহার মধ্যে বাগানের একটি দেয়াল ছিল। আমি শ্রবণ করিতেছিলাম, তিনি নিজেকেই সম্বোধন করিয়া বলিতেছিলেন, হে উমর! আমীরুল মু'মিনীন বাহবা! হে খাত্তাবের পুত্র, হয় তুমি আল্লাহকে ভয় কর, না হয় তিনি তোমাকে আযাব দিবেন।
রেওয়ায়ত ২৫. কাসেম ইবনে মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আমি দেখিলাম যে, মানুষ কথায় মোহিত হয় না। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহার অর্থ এই যে, তাহার কাজের (আমলের) দিকে তাকাইতেন, কথার দিকে তাহাদের তেমন দৃষ্টি ছিলনা।
রেওয়ায়ত ২৬. আমির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রহঃ) বজ্রের শব্দ শুনিলে কথা বলা বন্ধ করিয়া এই দোয়া পাঠ করিতেনঃ سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ বজ্র নির্ঘোষ ও ফেরেশতাগণ ভয় তাহার প্রশংসা মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে। অতঃপর তিনি (আমির ইবন আবদুল্লাহ) বলিতেন, যমীনের অধিবাসীদের জন্য এই আওয়ায অত্যন্ত কঠিন আযাবের সংবাদ।
হাদিস 1837 — Muwatta Malik 56:27
সহিহ
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَيَسْأَلْنَهُ مِيرَاثَهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لَهُنَّ عَائِشَةُ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا فَهُوَ صَدَقَةٌ " .
রেওয়ায়ত ২৭. মু'মিন জননী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর তাহার বিবিগণ ইচ্ছা করিলেন, উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)-কে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট পাঠাইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের পরিত্যক্ত সম্পত্তি দাবি করবেন। অতঃপর আয়েশা (রাঃ) তাহাদেরকে বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এই কথা বলেন নাই আমাদের কেহ ওয়ারিস হয় না, আমরা যাহা কিছু মাল রাখিয়া যাই, উহা সদকায় পরিণত হয়।
হাদিস 1838 — Muwatta Malik 56:28
সহিহ
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دَنَانِيرَ مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمُؤْنَةِ عَامِلِي فَهُوَ صَدَقَةٌ " .
রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমার পরে আমার ওয়ারিসগণ আমার সম্পত্তি ভাগ করিবে না। আমি যাহা কিছু রাখিয়া যাইব, উহা হইতে আমার বিবিগণের খাওয়া-পরা ও কর্মচারীর খরচ বাদ দিয়া যাহা অবশিষ্ট থাকিবে, উহা সদকা।