Qurani·قرآني
বাংলা

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবরণ

40 হাদিস · #1671–1710

হাদিস 1691 — Muwatta Malik 49:21
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ أَغْلِقُوا الْبَابَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ وَأَكْفِئُوا الإِنَاءَ - أَوْ خَمِّرُوا الإِنَاءَ - وَأَطْفِئُوا الْمِصْبَاحَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَفْتَحُ غَلَقًا وَلاَ يَحُلُّ وِكَاءً وَلاَ يَكْشِفُ إِنَاءً وَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ تُضْرِمُ عَلَى النَّاسِ بَيْتَهُمْ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২১. জাবির ইবন আবদুল্লাহ আসলামী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, (ঘরের) দরজা বন্ধ কর, মোশকের মুখ বন্ধ কর, বরতন ঢাকিয়া রাখ এবং চেরাগ নিভাইয়া দাও। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খোলে না, (মোশকের মুখে দেয়া) ছিপি খোলে না, ঢাকা বরতন উল্টায় না। স্মরণ রাখ, ইদুর লোকদের ঘরবাড়ি জ্বালাইয়া দেয়।
হাদিস 1692 — Muwatta Malik 49:22
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَضِيَافَتُهُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ فَمَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২২. আবু শুরাইহ আল কা'বী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যেই ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামতের উপর ঈমান আনয়ন করিয়াছে, সে যেন ভাল কথা বলে নতুবা নীরব থাকে। যেই ব্যক্তি আল্লাহর ও কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান আনয়ন করিয়াছে, সে যেন তাহার প্রতিবেশীর সহিত সদ্ব্যবহার করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান আনয়ন করিয়াছে, সে যেন তাহার মেহমানের সম্মান করে। একদিন এক রাত ভাল মতো মেহমানদারী করিবে এবং তিন দিন পর্যন্ত যাহা আছে উহা দ্বারা মেহমানদারী করিবে। ইহা অধিক সওয়াবের কাজ। আর মেহমানের জন্য ইহা শোভনীয় নহে যে, মেযবানকে (যাহার কাছে মেহমান হইয়াছে তাহাকে) কষ্ট দিয়া বেশি দিন তাহার কাছে অবস্থান করিবে।
হাদিস 1693 — Muwatta Malik 49:23
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ إِذِ اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْعَطَشُ فَوَجَدَ بِئْرًا فَنَزَلَ فِيهَا فَشَرِبَ وَخَرَجَ فَإِذَا كَلْبٌ يَلْهَثُ يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ الْعَطَشِ فَقَالَ الرَّجُلُ لَقَدْ بَلَغَ هَذَا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِي بَلَغَ مِنِّي فَنَزَلَ الْبِئْرَ فَمَلأَ خُفَّهُ ثُمَّ أَمْسَكَهُ بِفِيهِ حَتَّى رَقِيَ فَسَقَى الْكَلْبَ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّ لَنَا فِي الْبَهَائِمِ لأَجْرًا فَقَالَ ‏"‏ فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, এক ব্যক্তি পথ চলিতেছিল। সে খুব বেশি পিপাসা বোধ করিল। একটি কূপ দেখিল এবং উহাতে অবতরণ করিয়া পানি পান করিল। এরপর কূপ হইতে বাহিরে আসিয়া দেখিল যে, একটি কুকুর পিপাসায় কাতর হইয়া হাঁপাইতেছে এবং কাদা লেহন করিতেছে। লোকটি (মনে মনে) বলিল, আমার মতো এই কুকুরটিও পিপাসায় কাতর হইয়াছে। অতঃপর লোকটি (পুনরায়) কূপে নামিয়া তাহার মোজায় পানি মুখে ভর্তি করিয়া লইয়া বাহির হইয়া আসিল। অতঃপর লোকটি কুকুরটিকে পানি পান করাইল। (তাহার এই কাজে) আল্লাহ তা’আলা তাহার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়া তাহাকে মাফ করিয়া দিলেন। সাহাবীগণ আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জানোয়ারকে (জীবজন্তুকে) পানি খাওয়াইলে আমাদের সওয়াব হইবে কি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, নিশ্চয়ই প্রাণী মাত্রকেই পানি পান করানোর মধ্যে সওয়াব হয়।
হাদিস 1694 — Muwatta Malik 49:24
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْثًا قِبَلَ السَّاحِلِ فَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ وَهُمْ ثَلاَثُمِائَةٍ ‏.‏ قَالَ وَأَنَا فِيهِمْ - قَالَ - فَخَرَجْنَا حَتَّى إِذَا كُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ فَنِيَ الزَّادُ فَأَمَرَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِأَزْوَادِ ذَلِكَ الْجَيْشِ فَجُمِعَ ذَلِكَ كُلُّهُ فَكَانَ مِزْوَدَىْ تَمْرٍ - قَالَ - فَكَانَ يُقَوِّتُنَاهُ كُلَّ يَوْمٍ قَلِيلاً قَلِيلاً حَتَّى فَنِيَ وَلَمْ تُصِبْنَا إِلاَّ تَمْرَةٌ تَمْرَةٌ فَقُلْتُ وَمَا تُغْنِي تَمْرَةٌ فَقَالَ لَقَدْ وَجَدْنَا فَقْدَهَا حِينَ فَنِيَتْ - قَالَ - ثُمَّ انْتَهَيْنَا إِلَى الْبَحْرِ فَإِذَا حُوتٌ مِثْلُ الظَّرِبِ فَأَكَلَ مِنْهُ ذَلِكَ الْجَيْشُ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ لَيْلَةً ثُمَّ أَمَرَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِضِلَعَيْنِ مِنْ أَضْلاَعِهِ فَنُصِبَا ثُمَّ أَمَرَ بِرَاحِلَةٍ فَرُحِلَتْ ثُمَّ مَرَّتْ تَحْتَهُمَا وَلَمْ تُصِبْهُمَا
রেওয়ায়ত ২৪. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাবাহিনী সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রেরণ করিলেন। আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)-কে সেই বাহিনীর নেতা মনোনীত করিলেন। সেই বাহিনীতে তিন শত সৈনিক ছিল। আমিও (অর্থাৎ জাবির ইবন আবদুল্লাহ) সেই দলে শামিল ছিলাম। পথিমধ্যে (আমাদের) আহার্য ফুরাইয়া গেল। আবূ উবায়দা (রাঃ) যেই পরিমাণ খাদ্য অবশিষ্ট আছে উহা একত্র করার আদেশ করিলেন। অতএব সব একত্র করা হইলে পর দেখা গেল যে, দুই বরতন খেজুর মাত্র আছে। আবূ উবায়দা (রাঃ) আমাদেরকে প্রতিদিন অল্প অল্প দিতেন। শেষ পর্যন্ত জনপ্রতি (মাত্র) একটি করিয়া খেজুর পাওয়া যাইতে লাগিল। অতঃপর তাহাও নিঃশেষ হইয়া গেল। ওয়াহাব ইবনে কীসান (রাঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলাম, একটি করিয়া খেজুরে কি হয়? (কিছুই তো হয় না)। তিনি বলেন, সেইটাও যখন শেষ হইয়া গেল, এখন সেইটার কদর বুঝিতে পারিলাম। অতঃপর আমরা যখন সমুদ্র তীরে পৌছিলাম, তখন সেখানে পাহাড়সম এক বিরাট মৎস্য পাওয়া গেল। গোটা বাহিনী আঠার দিন পর্যন্ত সেই মৎস্য খাইল। অতঃপর আবু উবায়দা সেই মৎস্যের হাড় (কাঁটা) দাড় করাইবার নির্দেশ দিলেন। পাঁজরের দুইটি হাড় মুখোমুখি করিয়া দাড় করাইয়া রাখা হইল। উহার নিচে দিয়া উষ্ট্র চলিয়া গেল, উষ্ট্রের গায়ে হাড় লাগিল না।[1] ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, الظرب অর্থ পাহাড়।
হাদিস 1695 — Muwatta Malik 49:25
হাসান
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ، عَنْ جَدَّتِهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ يَا نِسَاءَ الْمُؤْمِنَاتِ لاَ تَحْقِرَنَّ إِحْدَاكُنَّ لِجَارَتِهَا وَلَوْ كُرَاعَ شَاةٍ مُحْرَقًا ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৫. সা’দ ইবনে মা'আযের দাদী হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, হে মুসলিম মহিলাগণ! তোমাদের কেহই যেন স্বীয় প্রতিবেশীকে তুচ্ছ না করে, যদিও সে ছাগলের পোড়া খুর পাঠায় না কেন।
হাদিস 1696 — Muwatta Malik 49:26
সহিহ Lighairihi
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ نُهُوا عَنْ أَكْلِ الشَّحْمِ فَبَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَهُ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৬. আবদুল্লাহ ইবন আবী বকর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, ইহুদীগণকে আল্লাহ ধ্বংস করুন, তাহদের উপর চর্বি খাওয়া হারাম করিয়া দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু তাহারা উহা বিক্রয় করিয়া মূল্য খাইয়াছে।
হাদিস 1697 — Muwatta Malik 49:27
Maqtu Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، كَانَ يَقُولُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَيْكُمْ بِالْمَاءِ الْقَرَاحِ وَالْبَقْلِ الْبَرِّيِّ وَخُبْزِ الشَّعِيرِ وَإِيَّاكُمْ وَخُبْزَ الْبُرِّ فَإِنَّكُمْ لَنْ تَقُومُوا بِشُكْرِهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৭. ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাইহিস সালাম বলিতেনঃ হে বনী ইসরাঈল! তোমরা স্বচ্ছ পানি, শাকপাতা ও যবের রুটি খাও গমের (আটার) রুটি খাইও না। কেননা তোমরা উহার শোকর আদায় করিতে পরিবে না।
হাদিস 1698 — Muwatta Malik 49:28
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَوَجَدَ فِيهِ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ وَعُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَسَأَلَهُمَا فَقَالاَ أَخْرَجَنَا الْجُوعُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَأَنَا أَخْرَجَنِي الْجُوعُ ‏"‏ ‏.‏ فَذَهَبُوا إِلَى أَبِي الْهَيْثَمِ بْنِ التَّيِّهَانِ الأَنْصَارِيِّ فَأَمَرَ لَهُمْ بِشَعِيرٍ عِنْدَهُ يُعْمَلُ وَقَامَ يَذْبَحُ لَهُمْ شَاةً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ نَكِّبْ عَنْ ذَاتِ الدَّرِّ ‏"‏ ‏.‏ فَذَبَحَ لَهُمْ شَاةً وَاسْتَعْذَبَ لَهُمْ مَاءً فَعُلِّقَ فِي نَخْلَةٍ ثُمَّ أُتُوا بِذَلِكَ الطَّعَامِ فَأَكَلُوا مِنْهُ وَشَرِبُوا مِنْ ذَلِكَ الْمَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَتُسْئَلُنَّ عَنْ نَعِيمِ هَذَا الْيَوْمِ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৮. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করিলেন। সেখানে তিনি আবু বকর সিদ্দীক এবং উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-কে উপস্থিত পাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহদের কাছে মসজিদে আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। তাহারা বলিলেন, ক্ষুধার তাড়নায় আসিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমাকেও ক্ষুধায় এখানে নিয়া আসিয়াছে। অতঃপর তাহারা [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও উমর (রাঃ)] আবুল হাইশম ইবন তাইহান আনসারী (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। তিনি যবের রুটি তৈরি করার নির্দেশ দিলেন এবং নিজে একটি ছাগল জবাই করার জন্য উদ্যত হইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, দুধের ছাগল জবাই করিও না। অতঃপর তিনি (আবুল হাইশম) আর একটি ছাগল জবাই করিলেন এবং মোশকে মিষ্ট পানি ভরিয়া (ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য) একটি খেজুর গাছে ঝুলাইয়া রাখিলেন । অতঃপর খাবার পরিবেশিত হইলে সকলে খাইলেন এবং সেই পানি পান করিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ইহা সেই নিয়ামত। রোজ কিয়ামতে যাহার সম্বন্ধে তোমরা জিজ্ঞাসিত হইবে।
হাদিস 1699 — Muwatta Malik 49:29
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، كَانَ يَأْكُلُ خُبْزًا بِسَمْنٍ فَدَعَا رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَجَعَلَ يَأْكُلُ وَيَتَّبِعُ بِاللُّقْمَةِ وَضَرَ الصَّحْفَةِ فَقَالَ عُمَرُ كَأَنَّكَ مُقْفِرٌ ‏.‏ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا أَكَلْتُ سَمْنًا وَلاَ رَأَيْتُ أَكْلاً بِهِ مُنْذُ كَذَا وَكَذَا ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ لاَ آكُلُ السَّمْنَ حَتَّى يَحْيَا النَّاسُ مِنْ أَوَّلِ مَا يَحْيَوْنَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৯. ইয়াহইয়া ইবন সায়ীদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) একদা রুটিতে ঘৃত মাখিয়া খাইতেছিলেন। এমন সময় জনৈক গ্রাম্য লোক আসিল। তিনি তাহাকেও ডাকিলেন। গ্রাম্য লোকটিও রুটি খাইতে লাগিল এবং রুটির সহিত ঘৃতের সেই ময়লাও খাইতে লগিল, যাহা ঘৃতের পাত্রে লাগিয়াছিল। উমর (রাঃ) তাহাকে বলিলেন, তুমি কোনদিন কিছু খাও নাই মনে হইতেছে! লোকটি বলিল, আল্লাহর কসম! আমি অনেক দিন ধরিয়া ঘৃত খাই নাই এবং ঘৃত দিয়া রুটি খাইতে কাহাকেও দেখিও নাই। অতঃপর উমর (রাঃ) বলিলেন, যতদিন পর্যন্ত জনসাধারণের আর্থিক অবস্থা পূর্বে যেমন ছিল তেমন না হয়, ততদিন পর্যন্ত আমিও ঘৃত খাইব না।
হাদিস 1700 — Muwatta Malik 49:30
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ - وَهُوَ يَوْمَئِذٍ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ - يُطْرَحُ لَهُ صَاعٌ مِنْ تَمْرٍ فَيَأْكُلُهُ حَتَّى يَأْكُلَ حَشَفَهَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩০. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) যখন আমীরুল মু'মিনীন ছিলেন, তখন তাহার সম্মুখে এক সা’ খেজুর রাখা হইত; আর তিনি উহা খাইতেন। এমন কি খারাপ ও শুকনা খেজুরও খাইতেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-কে যখন ফড়িং সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হইল (ইহা কি হালাল, না হারাম)। তিনি বলিলেন, আমি পছন্দ করি যে, যদি আমার কাছে এক থলি ফড়িং হইত তবে আমি উহা খাইতাম (অর্থাৎ ফড়িং খাওয়া হালাল এবং উহা বেশ ভাল খাদ্য)। (ইহা পঙ্গপাল, এক বিশেষ ধরনের ফড়িং।)
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।