রেওয়ায়ত ৩১. হুমাইদ ইবনে মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট তাহার আকীকস্ত (জায়গার নাম) যমীনের খামারে বসিয়াছিলাম। এমন সময় তাহার নিকট কিছুসংখ্যক মদীনাবাসী সওয়ারীর উপর সওয়ার হইয়া আসিল এবং সেখানে নামিল। হুমাইদ বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাকে বলিলেন, আমার আম্মার নিকট গিয়া আমার সালাম বল এবং আমাদেরকে কিছু খাওয়াইতে বল। হুমাইদ বলেন, (আমি তাহার আম্মার নিকট গিয়া উক্ত সংবাদ জানাইলাম)। তিনি তিনটি রুটি, কিছু যাইতুনের তেল এবং সামান্য লবণ পাত্রে রাখিয়া উহা আমার মাথার উপর রাখিলেন। উহা লইয়া আমি তাহদের (আবু হুরায়রা প্রমুখের) নিকট পৌছিলাম এবং তাঁহাদের সম্মুখে উহা রাখিলাম। আবু হুরায়রা (রাঃ) উহা দেখিয়া আল্লাহু আকবর বলিলেন এবং বলিলেন, আল্লাহর শোকর, যিনি পেট ভরিয়া রুটি খাওয়াইয়াছেন। ইতিপূর্বে আমাদের অবস্থা এই ছিল যে, খেজুর পানি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। উক্ত খাবার আগন্তুকদের জন্য যথেষ্ট হয় নাই। অতঃপর তাহারা চলিয়া গেল, আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাকে বলিলেন, ভাতিজা ছাগলগুলিকে ভালমতে যত্ন করিও, উহাদের নাক মুছিয়া দিও, উহাদের থাকার স্থানটা পরিষ্কার রাখিও এবং সেখানেই এক কোণে নামায পড়িও। কেননা উহা বেহেশতী জীব। সেই পাক জাতের কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ রহিয়াছে, অদূর ভবিষ্যতে জনসাধারণের উপর এমনই এক সময় আসিবে, যখন মারওয়ানের (আড়ম্বরপূর্ণ) ঘরের চেয়ে ছাগলের ছোট একটি পাল অধিক প্রিয় হইবে।
হাদিস 1703 — Muwatta Malik 49:33
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ قَالَ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِطَعَامٍ وَمَعَهُ رَبِيبُهُ عُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَمِّ اللَّهَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ " .
রেওয়ায়ত ৩২. আবু নঈম ওয়াহব ইবন কাইসান (রহঃ) জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্লামের নিকট খাবার আনয়ন করা হইল। তাহার সহিত তাহার পালক ছেলে উমর ইবন আবী সালমাও ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁহাকে বলিলেন, বিসমিল্লাহ বলিয়া তোমার সামনের দিক হইতে খাও।
রেওয়ায়ত ৩৩. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি কাসিম ইবনে মুহাম্মদকে বলিতে শুনিয়াছি যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমার নিকট একটি ইয়াতীম বালক আছে। তাহার উট আছে। আমি উহার দুগ্ধ পান করিব কি? ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, যদি তুমি তাহার হারাইয়া যাওয়া উট তালাশ কর এবং উটের অসুখে-বিসুখে ঔষধ সেবন করাও, উহার (খড়-কুড়া ও পানির) হাউজ লেপন কর এবং পানের সময় পানি দাও তবে তুমি উহার দুগ্ধ এইভাবে পান করিতে পার যে, উটের বাচ্চার যেন ক্ষতি না হয় কিংবা উটের বংশ দৃদ্ধির জন্য উহা ক্ষতিকর না হয়।
রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ)-এর কাছে কেহ জিজ্ঞাসা করিল, যদি কোন স্ত্রীলোক গায়রে মাহরম পুরুষের সাথে (অর্থাৎ যাহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরীয়তসম্মত, তাহার সাথে) কিংবা স্বয়ং তাহার গোলামের সাথে খাবার খায়, তবে কি উহা জায়েয আছে? অতঃপর তিনি (ইমাম মালিক) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ, যদি প্রচলিত প্রথানুযায়ী হয় এবং সেখানে অপরাপর মানুষও থাকে তবে কোন অসুবিধা নাই। মহিলা কখনও তাহার স্বামীর সাথে খায় এবং কখনও বা সেই সমস্ত লোকের সাথেও খায়, যাহাদেরকে তাহার স্বামী খাওয়ায়, আবার কখনও স্বীয় ভ্রাতার সহিত খায়। তবে স্ত্রীলোকের জন্য গায়রে মাহরমের সহিত নির্জনে থাকা মকরূহ (তাহরীমা)।
রেওয়ায়ত ৩৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, গোশত খাওয়া হইতে বিরত থাক। কেননা শরাবের (মদের) মতো গোশত খাওয়ারও একটা নেশা হয়। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)-কে এমন অবস্থায় দেখিলেন যে, তখন তাহার (জাবিরের) সাথে গোশতের একটা পূর্ণ থলি ছিল। উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহা কি ? জাবির (রাঃ) জওয়াব দিলেন, ইয়া আমীরুল মু'মিনীন! আমার গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হইল, তাই এক দিরহামের গোশত ক্রয় করিলাম। উমর (রাঃ) বলিলেন, তোমাদের কেহই ইহা চায় না যে, নিজে না খাইয়া প্রতিবেশীকে খাওয়াইবে কিংবা তাহার চাচাত ভাইকে দিবে। তোমাদের নিকট হইতে এই আয়াতটি কোথায় গেল (যেখানে বলা হইয়াছে যে) (أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمُ الدُّنْيَا وَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهَا) তোমরা পার্থিব জীবনে দুনিয়ার স্বাদ উপভোগ করিলে এবং বেশ উপকৃত হইলে (অতএব আজ উহার পরিণাম ভোগ কর)।
হাদিস 1708 — Muwatta Malik 49:38
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَلْبَسُ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَبَذَهُ وَقَالَ " لاَ أَلْبَسُهُ أَبَدًا " . قَالَ فَنَبَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَهُمْ .
রেওয়ায়ত ৩৭. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি পরিধান করিতেন। একদা তিনি দাঁড়াইয়া উক্ত আংটি ফেলিয়া দিলেন এবং বলিলেন, আর কখনও ইহা পরিধান করিব না। (ইহা দেখিয়া) অন্যান্য সকলেই নিজ নিজ আংটি খুলিয়া ফেলিলেন।
রেওয়ায়ত ৩৮. সাদাকা ইবনে ইয়াসার (রহঃ) বলেন, আমি সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রহঃ)-এর কাছে আংটি পরিধান করার বৈধতা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, পরিধান কর এবং লোকজনকে জানাইয়া দাও যে, আমি তোমাকে আংটি পরিধান করার পক্ষে ফতওয়া দিয়াছি।
হাদিস 1710 — Muwatta Malik 49:40
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، أَنَّ أَبَا بَشِيرٍ الأَنْصَارِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ - قَالَ - فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَسُولاً قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ وَالنَّاسُ فِي مَقِيلِهِمْ " لاَ تَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلاَدَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلاَدَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ " .
রেওয়ায়ত ৩৯. আবু বসীর আনসারী আব্বাদ ইবনে তমীমকে বলিয়াছেন, তিনি (আবু বসীর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাথে কোনও একান্ত সফরে ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনকে কাজে পাঠাইলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রাঃ) বলেন, আমার বিশ্বাস যে, তখন সমস্ত লোক ঘুমাইয়াছিল। কাজটি ছিল কোন উটের গলায় কোন হার, তাবীয কিংবা ঘন্টা যেন না থাকে। থাকিলে কাটিয়া ফেলিতে বলেন।