রেওয়ায়ত ১২. আবু সালমা ইবনে আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (বা) তাঁহাদের উদ্দেশ্যে (إِذَا السَّمَاءُ انشَقَّتْ) অর্থাৎ সূরা ইনশিকাক পাঠ করিলেন এবং এই সূরায় সিজদা করিলেন। তিনি নামায সমাপ্ত করিলে পর তাহাদিগকে জানাইলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সূরায় সিজদা করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ১৩. মিসরের বাসিন্দাদের একজন নাফি (রহঃ)-কে বলিয়াছেন যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) একবার সূরা হজ্জ পাঠ করিলেন এবং তিনি এই সূরায় দুইটি সিজদা করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ নিশ্চয় এই সূরাকে দুইটি সিজদা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হইয়াছে।
রেওয়ায়ত ১৫. আরজ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) (وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ) অর্থাৎ সূরা আন-নাজম পাঠ করলেন এবং উহাতে সিজদা করিলেন। তিনি দাঁড়াইলেন এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করিলেন।
হাদিস 485 — Muwatta Malik 15:16
Mauquf Sahih
রেওয়ায়ত ১৬. উরওয়াহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) একটি সিজদার আয়াত পাঠ করিলেন জুম'আ দিবসে। আর তিনি ছিলেন মিম্বরের উপর। অতঃপর তিনি অবতরণ করিলেন এবং সিজদা করিলেন এবং তাহার সঙ্গে লোকেরাও সিজদা করিলেন। পরবর্তী জুম'আয় তিনি সেই সূরা পাঠ করিলেন। লোকেরা সিজদার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে লাগিলেন। উমর (রাঃ) তখন বলিলেনঃ আপনারা অপেক্ষা করুন। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের উপর সিজদা ফরয করেন নাই, তবে আমরা যদি ইচ্ছা করি তা স্বতন্ত্র কথা! (ইহা শুনিয়া) তাহারা আর সিজদা করিলেন না। তিনি তাহাদিগকে সিজদা হইতে বিরত রাখিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সিজদার আয়াত মিম্বরের উপর পাঠ করিলে, ইমামের মিম্বর হইতে অবতরণ করিয়া সিজদা করার প্রতি (আমাদের) আমল নাই (অর্থাৎ মিম্বর হইতে অবতরণ জরুরী নহে)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের অভিমত এই যে, কুরআন শরীফে সিজদাসমূহের মধ্যে তাকিদী সিজদা হইতেছে এগারটি। ইহাদের একটিও মুফাসসালাতে নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সুজুদুল কুরআন (কুরআনের সিজদাসমূহ) হইতে কোন সিজদার আয়াত ফজরের নামাযের এবং আসরের নামাযের পর পাঠ করা কাহারও পক্ষে উচিত নহে। কারণ ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর (সূর্য) অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নামায পড়িতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করিয়াছেন। আর সিজদাও নামাযে গণ্য, কাজেই কাহারও পক্ষে উচিত নহে যে, সেই দুই সময়ে কোন সিজদার আয়াত পাঠ করা। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইয়াছে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে যিনি একটি সিজদার আয়াত পাঠ করিয়াছেন, আর একজন ঋতুমতী মহিলা উহা শুনিল। তবে সেই মহিলা কি সিজদা করিবে? (উত্তরে) মালিক (রহঃ) বলিলেনঃ পুরুষ বা নারী, পবিত্রাবস্থা ব্যতীত সিজদা করিবে না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হয় একজন মহিলা সম্পর্কে যিনি সিজদার আয়াত পাঠ করিয়াছেন, অন্য এক ব্যক্তি তাহা শুনিতেছে। সেই ব্যক্তির জন্য সিজদা করা জরুরী কি? (উত্তরে) মালিক (রহঃ) বলেনঃ সিজদা করা এই ব্যক্তির জন্য জরুরী নহে। সিজদা ওয়াজিব হয় সেই লোকের উপর যেসব লোক কোন ব্যক্তির সাথে নামাযে শরীক থাকেন এবং তাহার পিছনে ইকতিদা করেন। অতঃপর তাহাদের ইমাম সিজদার আয়াত পাঠ করিলে তাহারাও তাহার সহিত সিজদা করিবেন। আর যে ব্যক্তি সিজদার আয়াত শুনিয়াছে কোন লোকের মুখে (যিনি উহা পাঠ করিতেছেন), কিন্তু সেই ব্যক্তি এই লোকের ইমাম নহেন, তাহার জন্য এই সিজদা জরুরী নহে।
হাদিস 486 — Muwatta Malik 15:17
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلاً، يَقْرَأُ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} يُرَدِّدُهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ وَكَأَنَّ الرَّجُلَ يَتَقَالُّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ " .
রেওয়ায়ত ১৭. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত- তিনি এক ব্যক্তিকে, ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করিতে শুনিলেন। সে বারবার উহা পাঠ করিতেছিল। ফজরে যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাযির হইলেন, তখন তাহার নিকট এই বিষয় উল্লেখ করিলেন- (আবু সাইদ খুদরী) এই সূরা (পাঠ করা)-কে সাধারণ আমল মনে করিতেছিলেন। (ইহা শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমার প্রাণ যাহার হাতে তাহার শপথ, নিশ্চয় এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান মর্যাদা রাখে।
হাদিস 487 — Muwatta Malik 15:18
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ، مَوْلَى آلِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ أَقْبَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعَ رَجُلاً يَقْرَأُ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَجَبَتْ " . فَسَأَلْتُهُ مَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ " الْجَنَّةُ " . فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَأَرَدْتُ أَنْ أَذْهَبَ إِلَيْهِ فَأُبَشِّرَهُ ثُمَّ فَرِقْتُ أَنْ يَفُوتَنِي الْغَدَاءُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَآثَرْتُ الْغَدَاءَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ ذَهَبْتُ إِلَى الرَّجُلِ فَوَجَدْتُهُ قَدْ ذَهَبَ .
রেওয়ায়ত ১৮. আল-ই-যায়দ ইবন খাত্তাবের মাওলা ওবায়দ ইবন হুনায়ন (রহঃ) বলেন- আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আগমন করিলাম, তিনি এক ব্যক্তিকে সূরা ইখলাস পড়িতে শুনিলেন। (ইহা শুনিয়) তিনি বললেনঃ ওয়াজিব হইয়াছে। তখন আমি তাঁহাকে প্রশ্ন করলামঃ হে আল্লাহর রসূল, কি ওয়াজিব হইয়াছে? তিনি বলিলেনঃ জান্নাত। (রাবী) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ (তারপর) আমি ইচ্ছা করিলাম, সেই ব্যক্তির নিকট যাই এবং তাঁহাকে শুভ সংবাদ শুনাইয়া দেই। কিন্তু আমার আশংকা হইল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে প্রাতঃকালীন আহার ছুটিয়া যাইবে । তাই আমি প্রাতঃকালীন আহার গ্রহণকে অগ্রাধিকার প্রদান করিলাম। অতঃপর সেই ব্যক্তির নিকট গেলাম, কিন্তু তখন তিনি (সে স্থান হইতে) প্রস্থান করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ২০. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ) এই দোয়াটি দৈনিক একশত বার পাঠ করিবে, ইহা তাঁহার জন্য দশটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য হইবে- তাহার জন্য একশত নেকী হইবে এবং তাহার (আমলনামা) হইতে একশত গুনাহ মিটাইয়া দেওয়া হইবে আর সেইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ইহা তাহার জন্য শয়তান হইতে রক্ষাকবচ হইবে; আর সে যে আমল পেশ করিয়াছে অন্য কেউ উহা হইতে শ্রেষ্ঠ কোন আমল পেশ করে নাই একমাত্র সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে ব্যক্তি (তাহার) এই আমল অপেক্ষা অধিক আমল করিয়াছ।