রেওয়ায়ত ২১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি (سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ) দৈনিক একশত বার পাঠ করবে তাহার পাপসমূহ মাফ করিয়া দেওয়া হইবে, যদি উহা সাগরের ফেনার পরিমাণও হয়।
রেওয়ায়ত ২২. আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতি নামাযের শেষে বলিবে- সুবহানাল্লাহ তেত্রিশ বার, আলহামদুলিল্লাহ্ তেত্রিশ বার এবং আল্লাহু আকবার তেত্রিশ বার আর একশত পূর্ণ করবে এই দোআ দিয়ে (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ) তাহার গুনাহ মাফ করা হইবে, যদিও উহা সাগরের ফেনা পরিমাণও হয়।
রেওয়ায়ত ২৪. আবুদ্দারদা (রাঃ) বলেনঃ আমি কি তোমাদিগকে সংবাদ দিব না তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমলের, যাহা তোমাদিগকে সর্বাপেক্ষা উচ্চ মর্যাদায় সমাসীনকারী এবং তোমাদের প্রভুর নিকট সর্বাপেক্ষা পবিত্র, সেই আমলের আর (যাহা) তোমাদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্য দান করা হইতে উত্তম এবং তাহা উত্তম তোমাদের জন্য ইহা হইতে যে, তোমরা তোমাদের শক্রর সাথে যুদ্ধ কর, ফলে তাহারা তোমাদেরকে হত্যা করে এবং তোমরা তাহদের গর্দান কাট। উপস্থিত (লোকেরা) বললেন, হ্যাঁ, বলুন। তিনি বললেন, এই আমল হইতেছে- ذِكْرُ اللَّهِ (আল্লাহর যিকির)। যিয়াদ ইবনে আবি যিয়াদ (রহঃ) বলেনঃ আবু আবদুর রহমান মুআয ইবন জবল (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আল্লাহর যিকির অপেক্ষা আযাব হইতে অধিক নাজাত প্রদানকারী কোন আমল আদম সত্তান সম্পাদন করে নাই ।
হাদিস 494 — Muwatta Malik 15:25
সহিহ
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ، أَنَّهُ قَالَ كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّي وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ وَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ . فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ آنِفًا " . فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلاَثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَكْتُبُهُنَّ أَوَّلاً " .
রেওয়ায়ত ২৫. রিফায়া ইবন রাফি' (রাঃ) বলেনঃ আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‡এর সঙ্গে নামায পড়িতেছিলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু হইতে মাথা উঠাইলেন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলিলেন, তাহার পশ্চাতে এক ব্যক্তি বলিল, رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায সমাপ্ত করিলেন, তখন বলিলেনঃ এখন মুতাকাল্লিম (তসবীহ পাঠকারী) কে ছিল? সেই ব্যক্তি বলিলঃ আমি, ইয়া রাসূলাল্লাহ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি অবশ্য ত্ৰিশোর্ধ ফেরেশতাকে দেখিয়াছি, তাহদের মধ্যে ইহাকে সর্বপ্রথম কে লিপিবদ্ধ করিবেন, এই লইয়া তাহারা খুব তাড়াহুড়া করিতেছেন।
হাদিস 495 — Muwatta Malik 15:26
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ يَدْعُو بِهَا فَأُرِيدُ أَنْ أَخْتَبِئَ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لأُمَّتِي فِي الآخِرَةِ " .
রেওয়ায়ত ২৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি (মাকবুল) দুআ রহিয়াছে, যেই দুআ তিনি করিয়া থাকেন। আমি ইচ্ছা করিয়াছি আমার (জন্য নির্ধারিত) দু'আটি গোপন রাখিবার আখিরাতে আমার উম্মতের সুপারিশের উদ্দেশ্যে।
রেওয়ায়ত ২৮. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, তোমাদের কেউ দু’আ করার সময় এইরূপ যেন না বলে, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি ইচ্ছা করিলে আমাকে ক্ষমা করুন, অনুগ্রহ করুন। বরং দৃঢ় প্রত্যয় নিয়া দুআ করিবে, কারণ আল্লাহকে বাধা করিবার মত কেউ নাই।
হাদিস 498 — Muwatta Malik 15:29
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ فَيَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي " .
রেওয়ায়ত ২৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের এক ব্যক্তির দু'আ কবুল করা হয় (যখন দুআ করে) যদি সে তাড়াতাড়ি না করে। সে বলেঃ আমি দুআ করিয়াছিলাম, কিন্তু আমার দুআ কবুল করা হইল না।
রেওয়ায়ত ৩০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আমাদের প্রভু মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ্ অবতরণ করেন প্রতি রাত্রে দুনিয়ার আসমানে, যখন রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে। অতঃপর বলেনঃ কে (আছে এমন) আমাকে ডাকিবে? আমি তাহার ডাকে সাড়া দিব। কে (আছে এমন) আমার নিকট সওয়াল করিবে? আমি তাহাকে দান করিব। কে (আছে এমন) ক্ষমা প্রার্থনা করিবে? আমি তাহাকে ক্ষমা করিয়া দিব।