রেওয়ায়ত ৩১. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পার্শ্বে (একবার) নিদ্রিত ছিলাম। রাত্রির এক অংশে আমি তাহাকে হারাইয়া ফেলিলাম। তারপর (সন্ধান করিতে করিতে এক পর্যায়ে) আমার হাত দ্বারা তাহাকে স্পর্শ করলাম এবং আমি আমার হাত তাঁহার উভয় কদমের উপর স্থাপন করিলাম। তিনি তখন সিজদায় ছিলেন এবং বলিতেছিলেনঃ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَبِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ অর্থাৎ, আমি আপনার ক্রোধ হইতে আপনার সন্তুষ্টির, আপনার আযাব হইতে আপনার ক্ষমার শরণ লইতেছি। আপনার শরণ লইতেছি আপনার দ্বারা আপনারই পক্ষ হইতে। আপনার প্রশংসার উপযুক্ত হক আমি আদায় করিতে পারিব না। আপনি সেইরূপ যেরূপ আপনি স্বয়ং নিজের সত্তার প্রশংসা করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৩৫. আবদুল্লাহ্ ইবন জাবির ইবন আতিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আসিলেন বনু মুআবিয়াতে— ইহা আনসারগণ আধুষিত একটি লোকালয়। তিনি বলিলেন, তোমাদের মসজিদের কোন স্থানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়িয়াছেন, তোমরা তাহা অবগত আছ কি? আমি তাহাকে বলিলামঃ হ্যাঁ এবং সেই মসজিদের এক কিনারার দিকে ইশারা করিলাম। তারপর তিনি আমাকে বলিলেনঃ তুমি জান কি সেই তিনটি দু'আ কি ছিল যাহা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই স্থানে করিয়াছিলেন? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তবে আমাকে সেই দু'আগুলির খবর দাও। অতঃপর আমি বলিলামঃ তিনি দু'আ করিয়াছেন- (১) যেন তাহাদের উপর অমুসলিম শক্রকে বিজয়ী না করা হয়। (২) আর দুর্ভিক্ষ দ্বারা যেন তাহাদিগকে ধ্বংস করা না হয়। এই দুইটি তাহাকে প্রদান করা হইয়াছে। তিনি আরও দু'আ করিয়াছেন, (৩) তাহাদের ধ্বংস তাহাদের পরস্পরের হানাহানি দ্বারা যেন না হয়। কিন্তু তাহার এই দুআ মঞ্জুর করা হয় নাই। তিনি বলিলেনঃ তুমি ঠিক বলিয়াছ। আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেনঃ তবে পরস্পরের কলহ বরাবর থাকিবে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।
রেওয়ায়ত ৩৬. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যে কোন ব্যক্তি দুআ করে, সে তিনটির একটি অবশ্যই পাইবে; হয় তো তাহার দু'আ কবুল করা হইবে, অথবা প্রার্থিত বস্তু তাহার জন্য সঞ্চিত রাখা হইবে, অথবা এই দুআ তাহার গুনাহের কাফফারা হইবে।
রেওয়ায়ত ৩৭. আবদুল্লাহ্ ইবনে দীনার (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ) আমাকে দেখিলেন যখন আমি দুআ করিতেছিলাম এবং ইশারা করিতেছিলাম দুই আঙুল দ্বারা, (প্রতি হাতের এক আঙুল দিয়া)। তিনি এরূপ করিতে আমাকে নিষেধ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৩৮. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রহঃ) বলতেন- নিঃসন্দেহে লোকের দরজা বুলন্দ করা হয় তাহার মৃত্যুর পর তাহার সন্তানের দু'আর কারণে। আর তিনি তাহার হাত দ্বারা আসমানের দিকে ইশারা করিয়া উভয় হাত উপরে উঠাইলেন।
রেওয়ায়ত ৩৯. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন- (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً) [সূরা ইসরাঃ ১১০] আয়াতটি দুয়া সম্মন্ধেই নাযিল করা হইয়াছে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ)-কে ফরয নামাযে দু'আ পাঠ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ফরয নামাযে দুআ করাতে কোন ক্ষতি নাই।
হাদিস 509 — Muwatta Malik 15:40
সহিহ Lighairihi
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو فَيَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ فِي النَّاسِ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ " .
রেওয়ায়ত ৪০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করিতেন ও বলিতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ فِي النَّاسِ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ অর্থাৎ, হে প্ৰভু! আমি যেন ভাল কাজ করি ও মঙ্গকে পরিত্যাগ করিতে পারি এবং মিসকিনদের ভালবাসিতে পারি, সেই তওফিক আপনার নিকট হইতে সাওয়াল করিতেছি, আর যখন লোকদিগকে পরীক্ষায় ফেলিতে ইচ্ছা করেন তখন আমাকে গোলযোগমুক্ত অবস্থায় আপনার নিকট গ্রহণ করিয়া লইবেন।