রেওয়ায়ত ৪১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ যেকোন আহবানকারী হিদায়াতের দিকে আহবান করিবে তবে তাহাকে তাহার অনুসরণকারীদের সমান পুণ্য দেওয়া হইবে। অনুসরণকারীদের পুণ্য হইতে বিন্দুমাত্র কম করা হইবে না। আর যেকোন আহবানকারী পথভ্রষ্টতার দিকে আহবান করিবে, তবে তাহার উপর অনুসরণকারীদের পাপসমূহের সমান পাপ বৰ্তাইবে। তাহাতে অনুসরণকারীদের পাপসমূহের এতটুকুও কম করা হইবে না।
রেওয়ায়ত ৪৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, আবুদ্দারদা (রাঃ) যখন মধ্যরাত্রে নামাযে দাঁড়াইতেন তখন বলিতেনঃ (نَامَتِ الْعُيُونُ وَغَارَتِ النُّجُومُ وَأَنْتَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ) অর্থাৎ চক্ষুসমূহ ঘুমাইয়াছে, নক্ষত্ররাজি অস্ত গিয়াছে এবং তুমি চিরঞ্জীব, চিরন্তন, স্বাধিষ্ঠ ।
হাদিস 513 — Muwatta Malik 15:44
দাঈফ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ وَمَعَهَا قَرْنُ الشَّيْطَانِ فَإِذَا ارْتَفَعَتْ فَارَقَهَا ثُمَّ إِذَا اسْتَوَتْ قَارَنَهَا فَإِذَا زَالَتْ فَارَقَهَا فَإِذَا دَنَتْ لِلْغُرُوبِ قَارَنَهَا فَإِذَا غَرَبَتْ فَارَقَهَا " . وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاَةِ فِي تِلْكَ السَّاعَاتِ .
রেওয়ায়ত ৪৪. আবদুল্লাহ্ সুনাবিহি (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই সূর্য উদিত হয় এবং উহার সাথে শয়তানের শিং থাকে। অতঃপর যখন সূর্য উর্ধ্বে উঠে তখন শিং সূর্য হইতে পৃথক হইয়া যায়। ইহার পর সূর্য যখন বরাবর হয়, তখন উহা শয়তানের শিং-এর সহিত মিলিত হয়। ইহার পর যখন সূর্য হেলিয়া যায়, তখন উহা পৃথক হইয়া যায়। সূর্য যখন অস্তমিত হওয়ার সময় হয়, তখন উহা সূর্যের সহিত মিলিত হয়। অতঃপর যখন অস্তমিত হয়, তখন উহাকে ছাড়িয়া দেয়। এই সময়গুলিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়িতে নিষেধ করিয়াছেন।
হাদিস 514 — Muwatta Malik 15:45
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَبْرُزَ وَإِذَا غَابَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَغِيبَ " .
রেওয়ায়ত ৪৫. হিশাম ইবনে উরওয়াহ্ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যখন সূর্যের উপর দিকের অংশ উদিত হয় তখন তোমরা নামায বিলম্বে পড়িও, সূর্য পরিষ্কারভাবে ওঠা পর্যন্ত। আর যখন সূর্য অস্ত যায় তখন নামাযকে পিছাইয়া দাও উহা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত।
রেওয়ায়ত ৪৬. আলী ইবনে আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমরা যোহরের পর আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিলাম, তিনি আসর পড়িতে দাঁড়াইলেন। যখন তিনি নামায সমাপ্ত করিলেন, তখন নামাযে তাড়াতাড়ি করার বিষয় উল্লেখ করিলাম অথবা তিনি উল্লেখ করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি- উহা মুনাফিকদের নামায, উহা মুনাফিকদের নামায, উহা মুনাফিকদের নামায। তাহাদের একজন বসিয়া থাকে। যখন সূর্য হলুদ বর্ণের হইয়া যায় এবং উহা মিলিত হয় শয়তানের শিংয়ের সাথে। সে উঠে এবং চারটি ঠোকর মারে। উহাতে আল্লাহকে স্মরণ করে অতি অল্প।
হাদিস 516 — Muwatta Malik 15:47
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَتَحَرَّ أَحَدُكُمْ فَيُصَلِّيَ عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلاَ عِنْدَ غُرُوبِهَا " .
রেওয়ায়ত ৪৭. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, তোমাদের কেউ যেন সূর্য উদয়ের সময় এবং অস্ত যাওয়ার সময় নামায পড়ার ইচ্ছা না করে।
হাদিস 517 — Muwatta Malik 15:48
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .
রেওয়ায়ত ৪৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পর সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত নামায পড়িতে নিষেধ করিয়াছেন আর ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত নামায পড়িতে নিষেধ করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৪৯. আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত- উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলিতেনঃ তোমরা সূর্য উদয় এবং অস্ত যাওয়ার সময় তোমাদের নামায আদায় করার ইচ্ছা করিও না। কারণ শয়তান তাহার শিং দুইটি বাহির করে সূর্য উদয়ের সাথে এবং উভয়কে (শিং) অস্তমিত করে সূর্যাস্তের সাথে। আর তিনি [উমর (রাঃ)] লোকদিগকে এই (সময়) নামায পড়ার কারণে প্রহার করিতেন।