(…/...) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, উমার (রাযিঃ) উতারিদ পরিবারের এক লোকের কাছে একটি রেশমী কাবা’ (বড় জামা) দেখতে পেয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, আপনি যদি এটি ক্রয় করতেন। সে সময় তিনি বললেন, এটি শুধু সে লোকই পরিধান করবে (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই। অতঃপর লাল রং-এর একটি কুর্তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপঢৌকন প্রেরণ করা হলে তিনি তা আমার নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি [উমার (রাযিঃ)] বলেন, আমি বললাম, আপনি এটি আমার নিকট পাঠালেন কেন? অথচ এ ধরনের বস্ত্র সম্পর্কে আপনার কথা আমার কর্ণপাত হয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি কেবল এজন্য এটি তোমার নিকট পাঠিয়েছি যাতে তুমি এর মাধ্যমে (বিক্রি করে) উপকার হাসিল করতে পারো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩২, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, উমার (রাযিঃ) উতারিদ পরিবারের এক লোকের নিকট (একটি কাবা) লক্ষ্য করলেন। অতঃপর রাবী ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি বর্ণনা করেছেন, আমি এটি তোমার নিকট পাঠিয়েছি যাতে তুমি এর মাধ্যমে উপকার লাভ করতে পারো। পরিধান করার জন্য এটি তোমার নিকট পাঠাইনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আমাকে বললেন, ইসতাবরাক কি? আমি বললাম, মোটা ও খসখসে রেশমী বস্ত্র। তিনি বললেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, উমার (রাযিঃ) জনৈক লোকের নিকট ইস্তাব্রাকের প্রস্তুত হুল্লা লক্ষ্য করে সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে এলেন। অতঃপর রাবী ইয়াহইয়া (রহঃ) উপরোল্লিখিত রাবীগণের অবিকল বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি এটি তোমার নিকট শুধু এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি এর মাধ্যমে কিছু সম্পদ জোগাড় করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযিঃ) এর মুক্ত দাস আবদুল্লাহ (রহঃ) [তিনি আতা (রহঃ)-এর বাচ্চাদের মামাও হতেন] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা (রাযিঃ) আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) এর কাছে এ বলে প্রেরণ করলেন যে, আমি অবগত হয়েছি তুমি নাকি তিনটি বস্তুকে নিষিদ্ধ মনে করো। কাপড়ে (রেশমের) নকশা, গাঢ় লাল রং-এর মীসারাহ (এক জাতীয় রেশমী বস্ত্র) ও রজবের গোটা মাস সাওম পালন করা। সে সময় আবদুল্লাহ (রাযিঃ) আমায় বললেন, আপনি যে রজব মাসের সাওম হারামের কথা বললেন এটা ঐ লোকের ক্ষেত্রে কিভাবে সম্ভব যিনি সবসময় সাওম পালন করেন? আর আপনি যে বস্ত্রের (রেশমের) ডিজাইনের কথা বললেন, এ সম্পর্কে আমি 'উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, রেশমী কাপড় কেবল সে ব্যক্তিই পরবে (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই। তাই আমার সন্দেহ হলো নকশাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর গাঢ় লাল রং-এর মীসারাহ সে তো আবদুল্লাহরই মীসারাহ। লক্ষ্য করলাম, আসলেই সেটিই গাঢ় লাল রং-এর। অতঃপর আমি আসমা (রাযিঃ) এর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে সংবাদ দিলাম। তখন তিনি বললেন, এটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জুব্বা। এ বলে তিনি কিসরাওয়ানী (ইরানী সম্রাট কিসরার প্রতি সম্পৰ্কীয়) সবুজ রং-এর একটি জুব্বা বের করলেন যার পকেটটি ছিল খাঁটি রেশমের প্রস্তুত এবং এর (হাতার) ছিদ্রদ্বয় ছিল খাটি রেশমের টুকরা দিয়ে ঢাকা। তিনি বললেন, এটি আয়িশাহর মৃত্যু পর্যন্ত তার নিকটেই ছিল। তার ওফাতের পর আমি এটি নিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি ব্যবহার করতেন। তাই আমরা অসুস্থদের আরোগ্য লাভের জন্য এটি ধৌত করি এবং তাদেরকে সে পানি পান করিয়ে থাকি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... খলীফা ইবনু কা'ব আবূ যুবয়্যান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রকে খুতবায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, হুশিয়ার! তোমরা তোমাদের মহিলাদেরকে রেশমী বস্তু পরাবে না। কেননা আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রেশমী কাপড় পরিধান করো না। কারণ পৃথিবীতে যে লোক তা পরিধান করবে, আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবূ উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আজারবাইজান এ ছিলাম। এ সময় উমার (রাযিঃ) আমাদের (দলনেতার) কাছে চিঠি লিখলেন, হে উতবাহ ইবনু ফারকাদ! এ ধন-সম্পদ তোমার কষ্টার্জিত নয়, তোমার বাবা-মায়েরও কষ্টার্জিত নয়। তাই তুমি যেরূপে নিজ বাড়িতে পেটপুরে ভক্ষণ করো, তেমনিভাবে মুসলিমদের বাড়িতে পৌছে দিয়ে তাদেরকেও পেটপুরে ভক্ষণ করাও। আর সাবধান, মুশরিকদের ভোগ-বিলাস বেশভূষণ এবং রেশমী কাপড় পরিধান করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী কাপড় পরতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তবে এ পরিমাণ বৈধ রয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় একসাথে করে আমাদের সম্মুখে তুলে ধরলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 5412 — Sahih Muslim 37:27
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدُ الْحَمِيدِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، كِلاَهُمَا عَنْ عَاصِمٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَرِيرِ بِمِثْلِهِ .
যুহায়র ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আসিম (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রেশমী বস্ত্র সম্পর্কে হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... আবূ উসমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবাহ ইবনু ফারকাদ (রহঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। তখন আমাদের নিকট উমার (রাযিঃ) এর চিঠি আসলো। উক্ত চিঠিতে ছিল যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রেশমী বস্ত্র শুধু সে ব্যক্তিই পরবে, আখিরাতে যার কোন অংশ নেই। তবে এ পরিমাণ বৈধ রয়েছে। আবূ উসমান (রহঃ) তার বৃদ্ধাঙ্গুল সংলগ্ন দুটি আঙ্গুল দিয়ে ইঙ্গিত করলেন। আমি সে দুটোতে তায়ালিসার বোতাম লক্ষ্য করলাম। এমন কি আমি তায়ালিসাহও (সবুজ রং এর চাদর) দেখলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবাহ ইবনু ফারকাদ (রহঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। রাবী পরের অংশ জারীরের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৪০, ইসলামিক সেন্টার)