মুহাম্মদ ইবনু সালামাহ্ আল মুরাদী এবং 'আমূর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা আকাশ থেকে কোন বারাকাত (বৃষ্টি) অবতীর্ণ করলে একদল লোক সকালে তা অস্বীকার করে, বৃষ্টিপাত করান আল্লাহ তা'আলা আর তারা বলতে থাকে যে, অমুক অমুক নক্ষত্র। মুরাদীর হাদীসে 'অমুক অমুক নক্ষত্রের কারণে' কথার উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 234 — Sahih Muslim 1:140
وَحَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، - وَهُوَ ابْنُ عَمَّارٍ - حَدَّثَنَا أَبُو زُمَيْلٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ مُطِرَ النَّاسُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَصْبَحَ مِنَ النَّاسِ شَاكِرٌ وَمِنْهُمْ كَافِرٌ قَالُوا هَذِهِ رَحْمَةُ اللَّهِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَقَدْ صَدَقَ نَوْءُ كَذَا وَكَذَا " . قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { فَلاَ أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ} حَتَّى بَلَغَ { وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ{}
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় লোকদের উপর বৃষ্টি হলে তিনি বললেন, ভোরবেলা কতক লোক (আল্লাহর) শোকরগুজার ও কৃতজ্ঞ হয় এবং তাদের কতক আবার অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়। তাদের কিছু সংখ্যক বলে এটা (বৃষ্টি) আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ ও রহমতে বর্ষিত হয়েছে। আর তাদের কতক লোক বলে, অমুক অমুক নক্ষত্ৰ সত্যে প্রমাণিত হলো। বর্ণনাকারী বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হলোঃ না, আমি শপথ করছি তারকাসমূহের অবস্থিতি (স্থানের) ..... এখান থেকে ..... "তোমরা তোমাদের রিযককে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছ" - (সূরাহ ওয়াকি'আহ ৫৬ঃ ৭৫-৮২) এ পর্যন্ত নাযিল হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে মুনাফিকের নিদর্শন, আর আনসারদের প্রতি ভালোবাসা হচ্ছে মুমিনের নিদর্শন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ঈমানের নিদর্শন হচ্ছে আনসারদের ভালোবাসা এবং মুনাফিকীর নিদর্শন হচ্ছে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব এবং উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের সম্পর্কে বলেছেন, মুমিনরাই তাদের ভালোবাসে এবং মুনাফিকরাই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। যারা তাদের ভালোবাসে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে আল্লাহ তাদের ঘৃণা করেন। শু'বাহ বলেন, আমি রাবী আদীকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি বারা (রাযিঃ) থেকে এটি শুনেছেন? তিনি বললেন, বারা (রাযিঃ) স্বয়ং আমার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 238 — Sahih Muslim 1:144
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيَّ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُبْغِضُ الأَنْصَارَ رَجُلٌ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ " .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত বিশ্বাস করে সে আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উসমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবূ শাইবাহ এবং আবূ বাকর আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে আনসারদের প্রতি শক্ৰতা রাখতে পারে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সে মহান সত্তার কসম! যিনি বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম করেন এবং জীবকুল সৃষ্টি করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মু'মিন ব্যক্তিই আমাকে ভালোবাসবে, আর মুনাফিক ব্যক্তি আমার সঙ্গে শক্রতা পোষণ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনু মুহাজির আল মিসরী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে রমণীগণ! তোমরা দান করতে থাকো এবং বেশি করে ইসতিগফার কর। কেননা, আমি দেখেছি যে, জাহান্নামের অধিবাসীদের বেশির ভাগই নারী। জনৈকা বুদ্ধিমতী মহিলা প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ কি? তিনি বললেনঃ তোমরা বেশি বেশি অভিশাপ দিয়ে থাক এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো। আর দীন ও জ্ঞান-বুদ্ধিতে ত্রুটিপূর্ণ কোন সম্প্রদায়, জ্ঞানীদের উপর তোমাদের চাইতে প্রভাব বিস্তারকারী আর কাউকে আমি দেখিনি প্রশ্নকারিণী জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জ্ঞান-বুদ্ধি ও দীনে আমাদের কমতি কিসে? তিনি বললেন, তোমাদের বুদ্ধির ত্রুটির প্রমাণ হল দু'জন স্ত্রী লোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর স্ত্রীলোক (প্রতি মাসে) কয়েক দিন সালাত থেকে বিরত থাকে আর রামাযান মাসে সিয়াম ভঙ্গ করে; (ঋতুবতী হওয়ার কারণে) এটাই দীনের ত্রুটি। আবূ তাহির ইবনু হাদ-এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)