মুহাম্মাদ ইবনু আবি উমার আল মাক্কী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইরনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর নবী! কোন আমল জান্নাতের অধিক নিকটবর্তী করে? তিনি বললেন, সঠিক ওয়াক্তে সালাত আদায় করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আর কোনটি, হে আল্লাহর নবী? তিনি বললেন, মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আর কোনটি, হে আল্লাহর নবী? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আল আম্বারী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় 'আমল কোনটি? তিনি বললেন, সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতা মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। তিনি আমাকে এ কথাগুলো বললেন, যদি আমি আরো প্রশ্ন করতাম তাহলে তিনি অরো অতিরিক্ত বিষয়ে বলতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... শু’বার সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে وَأَشَارَ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ وَمَا سَمَّاهُ لَنَا "তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের গৃহের দিকে ইশারা করলেন, কিন্তু আমাদের সম্মুখে তার নাম উল্লেখ করেননি" কথাগুলো বর্ধিত রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 256 — Sahih Muslim 1:162
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَفْضَلُ الأَعْمَالِ - أَوِ الْعَمَلِ - الصَّلاَةُ لِوَقْتِهَا وَبِرُّ الْوَالِدَيْنِ " .
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা আমলসমূহের মধ্যে বা আমলের মধ্যে সর্বোত্তম আমল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী স্থির করা অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এটা তো বড় গুনাহ বটে। এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আপন সন্তানকে এ আশঙ্কায় হত্যা করা যে, সে তোমার আহারের সঙ্গী হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।' (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উসমান ইবনু শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) .... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্যস্ত করবে অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সে বলল, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তুমি তোমার সন্তানকে এ আশঙ্কায় হত্যা করবে যে, সে তোমার আহারে ভাগ বসাবে।' সে বললো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে।’ এ উক্তির সমর্থনে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেন, "আর তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে ব্যক্তি এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে”— (সূরাহ আল-ফুরকান ২৫ঃ ৬৮)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 259 — Sahih Muslim 1:165
حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُكَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ - ثَلاَثًا - الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ وَشَهَادَةُ الزُّورِ أَوْ قَوْلُ الزُّورِ " . وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَّكِئًا فَجَلَسَ فَمَازَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى قُلْنَا لَيْتَهُ سَكَتَ .
আমূর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বুকায়র ইবনু মুহাম্মাদ আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের কবীরাহ গুনাহ* সম্পর্কে বলব না? তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। (তারপর বললেন, সেগুলো হলো- (১) আল্লাহর সাথে শারীক করা; (২) পিতামাতার অবাধ্য হওয়া; (৩) মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া কিংবা কথা বলা। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং (শেষোক্ত) কথাটি বারবার বলতে লাগলেন। এমন কি আমরা মনে মনে বলছিলাম, আহা তিনি যদি থামতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কাবীরাহ গুনাহ সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তা হলো, আল্লাহর সাথে শারীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কথা বলা।' (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ ইবনে আবদুল হামীদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবীরাহ গুনাহের বর্ণনা করেন অথবা তাকে কাবীরাহ গুনাহের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শারীক করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের সবচাইতে বড় গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? তিনি বললেন, মিথ্যা কথা বলা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। রাবী শু'বাহ বলেন, আমার প্রবল ধারণা যে, কথাটি হল ... "মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ধ্বংসকারী সাতটি কাজ থেকে তোমরা বেঁচে থেকো। প্রশ্ন করা হলো- হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেনঃ (১) আল্লাহর সাথে শারীক করা; (২) যাদু করা; (৩) আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা; (৪) ইয়াতীমের মাল অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা; (৫) সুদ খাওয়া; (৬) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং (৭) সাধ্বী, সরলমনা ও ঈমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)