কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সালামাহ্ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যারা সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতে সক্ষম (অথচ সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতে চায় না) তারা ফিদইয়াহ হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে" যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো, কেউ যদি রমযানের সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতে না চাইতো সে সিয়াম (রোজা/রোযা) ভাঙ্গত এবং তার পরিবর্তে ফিদইয়াহ্ আদায় করে দিত। অতঃপর এর পরবর্তী আয়াত অবতীর্ণ হলো এবং তা পূর্ববর্তী আয়াতের হুকুম মানসূখ (রহিত) করে দিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৫২, ইসলামীক সেন্টার)
আমর ইবনু সাওওয়াদ আল আমিরী (রহঃ) ..... সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে রমযান মাসে আমাদের মধ্যে যার ইচ্ছা হত সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করত আর যে চাইত ভঙ্গ করত এবং এর বিনিময়ে সিয়ামের ফিদইয়াহ হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করত। অবশেষে এ আয়াত নাযিল হলঃ “কাজেই আজ হতে যে ব্যক্তিই এ মাসের সম্মুখীন হবে তার জন্য এ পূর্ণ মাসের সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করা একান্ত কর্তব্য।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৫৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2687 — Sahih Muslim 13:193
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي، سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ كَانَ يَكُونُ عَلَىَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَهُ إِلاَّ فِي شَعْبَانَ الشُّغُلُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমার রমযান মাসের সিয়াম (রোজা/রোযা) অবশিষ্ট থেকে যেত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে ব্যস্ত থাকার কারণে আমি শা'বান মাস ছাড়া অন্য কোন সময়ে তা আদায় করার সুযোগ পেতাম না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৫৪ , ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2688 — Sahih Muslim 13:194
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، بْنُ بِلاَلٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ وَذَلِكَ لِمَكَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় পার্থক্য এতটুকু যে, তিনি বলেছেন, আর রমযানের সিয়ামের কাযা আদায়ের ব্যাপারে শা'বান পর্যন্ত বিলম্ব করার কারণ হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে নিযুক্ত থাকা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2689 — Sahih Muslim 13:195
وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، بْنُ سَعِيدٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فَظَنَنْتُ أَنَّ ذَلِكَ لِمَكَانِهَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . يَحْيَى يَقُولُهُ .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) এ সানাদেও উপরের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি আরো বলেছেন, আমার মনে হয় তার এরূপ দেরী করার কারণ ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে ব্যস্ত থাকা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2690 — Sahih Muslim 13:196
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرَا فِي الْحَدِيثِ الشُّغْلُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আমর আন্ নাকিদ (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ বর্ণনায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে তার ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2691 — Sahih Muslim 13:197
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ إِنْ كَانَتْ إِحْدَانَا لَتُفْطِرُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا تَقْدِرُ عَلَى أَنْ تَقْضِيَهُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَأْتِيَ شَعْبَانُ .
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার আল মাক্কী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের (রসূলের স্ত্রীগণের) মধ্যে কেউ যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে সিয়াম (রোজা/রোযা) ভঙ্গ করত তাহলে সে শাবান মাস আসার পূর্বে কোন সময়ই রোযা করার সুযোগ পেত না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2692 — Sahih Muslim 13:198
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ " .
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মৃত ব্যক্তির উপর কাযা সিয়াম (রোজা/রোযা) থাকলে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সিয়াম (রোজা/রোযা) পূর্ণ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমার মা মারা গেছেন। তার এক মাসের রোযা বাকি আছে। তিনি বলেন, মনে কর তার (তোমার মায়ের) উপর যদি কোন ঋণ থাকত তাহলে কি তুমি তা পরিশোধ করতে? সে বলল, হ্যাঁ। এবার তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর ঋণ (বা পাওনা) পরিশোধিত হবার সবচেয়ে বেশী হাক (হক) রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৬০, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু উমার আল ওয়াকী'ঈ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা মারা গেছেন এবং তার এক মাসের সিয়াম (রোজা/রোযা) বাকি আছে। আমি কি তার পক্ষ থেকে এটা আদায় করে দিব? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের উপর ঋণ থাকত তাহলে তুমি কি তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দিতে? সে বলল, হ্যাঁ। এবার তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর ঋণ তো পরিশোধিত হবার সবচেয়ে বেশী দাবীদার। সুলায়মান বলেন, হাকাম ও সালামাহ্ ইবনু কুহায়ল উভয়ই বলেছেন, যখন মুসলিম আল বাত্বীন এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তখন আমরা উভয়ই সেখানে বসা ছিলাম। অতঃপর তারা উভয়ই বলেন, আমরা মুজাহিদকে এ হাদীসটি ইবনু আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৬১, ইসলামীক সেন্টার)