আহমাদ ইবনু সাঈদ আদ দারিমী (রহঃ) ..... আসমা বিনতু আবূ বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘাবড়ে গেলেন। যে কারণে তিনি ভুল করে নিজের চাদর নিতে গিয়ে (মহিলাদের) বড় চাদর নিয়ে গেলেন। অবশ্য পরে তার চাদর পৌছিয়ে দেয়া হ'ল। আসমা (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার প্রয়োজন সেরে আসলাম এবং এসে মসজিদে প্রবেশ করলাম। ঢুকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছেন। আমিও তার সাথে দাঁড়ালাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এমনকি আমি মনে মনে ভাবছিলাম বসে পড়ব কিনা, অতঃপর তাকিয়ে দেখলাম একটি দুর্বল মহিলা। তখন মনে মনে বললাম, এ মেয়েলোকটি তো আমার চেয়েও দুর্বল। অতএব দাঁড়িয়ে থাকলাম। দীর্ঘ সময় পর তিনি রুকূ’তে গেলেন এবং রুকূ’ও দীর্ঘ করলেন, অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন। রুকূ’ থেকে উঠেও দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এমনকি কোন ব্যক্তি এসে দেখলে মনে করত তিনি রুকূ’ই করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সাথে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শুরু করে তিনি লম্বা কিয়াম করলেন প্রায় সূরাহ আল বাক্কারাহ পড়ার সমপরিমাণ সময় অতঃপর রুকূ করলেন লম্বা রুকূ’। অতঃপর (রুকূ’ থেকে) মাথা উঠালেন। আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কিছুটা ছোট। অতঃপর লম্বা রুকু করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর সিজদা করলেন। সিজদা থেকে উঠে আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। আবার লম্বা রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূর চেয়ে কিছু কম। অতঃপর সিজদা করলেন সিজদা থেকে উঠে আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কিছু কম। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। অতঃপর সিজদা করে সালাত সমাপ্ত করলেন। এতক্ষণে সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দু'টি নিদর্শন। এগুলো কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখ, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর। সার্থীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পর দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। অতএব জান্নাত থেকে ফলের একটি ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তাহলে তোমরা তা পৃথিবী কিয়াম থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে। আমি জাহান্নামও দেখতে পেলাম এবং আজকের ন্যায় এমন ভয়াবহ দৃশ্য আর কখনও দেখিনি। আমি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে বেশীর ভাগ দেখলাম মহিলা। সাথীরা জিজ্ঞেস করলেন, কি কারণ হে আল্লাহ রসূল! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের অকৃতজ্ঞতার কারণে। তিনি বলেন, তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে এবং অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো সারাজীবনও উপকার কর, অতঃপর যদি কখনও তোমার থেকে কোন ক্রটি দেখে তখন বলে ফেলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন কল্যাণ দেখতে পাইনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেছেনঃ "অতঃপর আপনাকে দেখলাম হাত গুটিয়ে নিলেন।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় আটটি রুকূ’ ও চারটি সিজদা্ সহকারে সালাত আদায় করেছেন। আলী (রাযিঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আবূ বকর ইবনু খাল্লাদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত শুরু করে প্রথমে কিরআত পাঠ করেছেন, তারপর রুকু করেছেন। আবার কিরআত পড়েছেন, আবার রুকূ’ করেছেন। আবার কিরআত পাঠ করে আবার রুকু করেছেন। আবার কিরাআত পাঠ করে আবার রুকূ’ করেছেন। অতঃপর সিজদা করেছেন। দ্বিতীয় রাকাআতও অনুরূপভাবে আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ লাগল, তখন ঘোষণা করা হ’ল, "আসসলা-তু জা-মি আহ” (সালাতের জামা'আত) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু' রুকূ’ ও এক সিজদা সহকারে এক রাকাআত আদায় করলেন। অতঃপর সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি কখনও এর চেয়ে লম্বা রুকূ’ ও লম্বা সিজদা আদায় করিনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। এগুলো দ্বারা আল্লাহ তার বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করেন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর জন্য গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখতে পাও, তখন তোমরা সালাত আদায় কর এবং দু'আ করতে থাক যে পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের এ অবস্থা দূর না করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয আল আম্বারী ও ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ অবশ্যই কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। বরং এগুলো আল্লাহর দুটি নিদর্শন। অতএব তোমরা যখন তা (গ্রাস) দেখ তখন উঠে গিয়ে সালাত আদায় কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শয়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইবনু আবূ উমর (রহঃ) .... সকলেই ইসমাঈল (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে সুফইয়ান ও ওয়াকী' এর হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ যেদিন ইবরাহীম (ইবনু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইনতিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন লোকেরা বলতে লাগল, ইবরাহীম এর মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ ‘আমির আল আশ'আরী আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ ও মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ...... আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগল। তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দাঁড়ালেন। (রাবীর ধারণা) তিনি কিয়ামত হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। অবশেষে তিনি মসজিদে এসে সালাতে দাঁড়ালেন এবং সবচেয়ে লম্বা কিয়াম, লম্বা রুকু, লম্বা সিজদা সহকারে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আমি কখনও কোন সালাত তাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) এত লম্বা করতে দেখিনি। সালাত শেষ করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এসব নিদর্শনাবলী যা যা আল্লাহ জগতে পাঠান। কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা জীবনের কারণেই অবশ্যই তা হয় না। বরং আল্লাহ এগুলো পাঠিয়ে বান্দাদের সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন এমন কিছু দেখতে পাও, তখন তোমরা ভীত হয়ে আল্লাহর যিকর, দু'আ ও ইস্তিগফারে মশগুল হও। ইবনু আলা এর বর্ণনায় রয়েছেঃ সূর্যগ্রহণের সময় এবং তিনি বলেন, বান্দাদের সতর্ক করার জন্য। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৬, ইসলামীক সেন্টার)