মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবূ বাকরের কন্যা আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল যুবায়র আমাকে যা কিছু দেয়, এছাড়া আমার কাছে আর কোন মালামাল নেই। আমি যদি এ থেকে দান করি তাহলে আমার কি গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী দান কর; কিন্তু পুঞ্জীভূত করে রেখে না। যদি জমা করে রাখ তাহলে আল্লাহ জমা করে রাখবেন। তোমাকে দিবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৪৭, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা এমন একদিন (কিয়ামতের দিন) তার (আরশের) ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন, যেদিন তার ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া অবশিষ্ট থাকবে না। (১) ন্যায়পরায়ণ ইমাম (জনগণের নেতা), (২) ঐ যুবক, যে আল্লাহ তা'আলার ইবাদাতে মশগুল থেকে বড় হয়েছে, (৩) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে রয়েছে (অর্থাৎ জামাআতের সাথে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায়ে যত্নবান), (৪) সে দু’ব্যক্তি, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে একে অপরকে ভালবাসে ও পরস্পর মিলিত হয় এবং এ জন্যেই (পরস্পর) বিচ্ছিন্ন হয়, (৫) যে ব্যক্তিকে কোন অভিজাত এবং সুন্দরী রমণী (ব্যভিচারের জন্য) আহবান জানায় আর তার জবাবে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি; (৬) যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে তা তার বাম হাত টের পায় না এবং (৭) যে ব্যক্তি একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার চোখ দু’টো (আল্লাহর ভয় বা ভালবাসায়) অশ্রুপাত করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৪৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ..... উবায়দুল্লাহর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। সেখানে এ কথা রয়েছে যে ব্যক্তি মাসজিদ থেকে বের হয়ে পুনরায় এখানে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫০, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! কোন ধরনের সদাকাহ্ বা দান সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, তুমি এমন অবস্থায় দান করবে, যখন তুমি সুস্থ-সবল, সম্পদের প্রতি আকর্ষণ প্রদর্শনকারী, দারিদ্র্যকে ভয়কারী ও এবং ঐশ্বর্যের আকাঙ্ক্ষাকারী। আর (সদাকাহ্ প্রদানে) বিলম্ব করবে না জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত বিলম্ব করে প্রাণ কণ্ঠনালী পর্যন্ত এসে গেলে তখন তুমি বলবে, এটা অমুকের ওটা অমুকের- এরূপ ঠিক নয়। তখন তো এগুলো অমুকের হয়েই যাচ্ছে। অর্থাৎ তোমার মরার সাথে সাথে উত্তরাধিকারীগণ নিয়ে নিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! কোন ধরনের দানে বিরাট সাওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়? তিনি বললেনঃ জেনে রাখ, তোমার পিতার শপথ। (আমি অবশ্য তোমাকে জানাচ্ছি) তুমি সুস্থ, সবল ও অনুরক্ত অবস্থায় দান করবে যে, তুমি দারিদ্র্যকে ভয় কর এবং ধনী হওয়ার বাসনা রাখ। আর দানের ব্যাপারে জীবন বায়ু কণ্ঠনালী আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো না যে, তখন বলতে থাকবে অমুকের জন্য এটা, অমুকের জন্য ওটা। বরং তখন তো এসব অমুকের হয়েই যাবে। (অর্থাৎ তোমার আর দান করার প্রয়োজন হবে না বরং তোমার মৃত্যুর পর এ সব উত্তরাধিকারীগণ নিয়ে নিবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) .... 'উমারাহ ইবনুল ক্বা-ক্বা (রহঃ) থেকে এ সূত্রেও জারীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনিأَىُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ এর স্থলেأَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ বলেছেন। এ সূত্রে বলা হয়েছেঃ কোন ধরনের দান-খয়রাত সর্বোত্তম? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৩, ইসলামীক সেন্টার ২২৫৩[ক)
কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে নাসীহাত করলেন। তিনি বললেন, উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। উপরের হাত হলো দানকারী। আর নীচের হাত হলো দান গ্রহণকারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আহমাদ ইবনু আবদাহ (রহঃ) ..... হাকীম ইবনু হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বচ্ছলতা বজায় রেখে যে দান করা হয় সেটাই উত্তম দান। উপরের হাত (বা দাতা) নীচের হাতের (বা ভিক্ষাকারীর) চেয়ে উত্তম। আর যাদেরকে লালন পালন করো তাদেরকে দিয়ে অর্থাৎ নিজের নিকটাত্মীয়দের দিয়ে দান-খয়রাত শুরু কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... হাকীম ইবনু হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য আবেদন করলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি আবার আবেদন করলাম। তিনি আবারও দিলেন। আমি পুনরায় আবেদন করলে। তিনি দিলেন এবং বললেনঃ “এ সম্পদ টাটকা এবং মিষ্টি।" সুতরাং যে ব্যক্তি না চেয়ে এবং দাতার স্বতঃস্ফূর্ত অনুদান হিসেবে এ মাল লাভ করল তাকে এর মধ্যে বারাকাত দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কাকুতি মিনতি করে নিজেকে হীন ও অপমানিত করে তা লাভ করল তাকে এ মালের মধ্যে বারাকাত দেয়া হয় না। তার অবস্থাটা ঐ ব্যক্তির মতো যে খায় অথচ তুষ্ট হয় না। আর উপরের হাত (বা দাতা) নীচের হাতের (গ্রহণকারীর) চেয়ে উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৬, ইসলামীক সেন্টার)