নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী, যুহায়র ইবনু হারব ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... আবূ উমামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে আদম সন্তান! তোমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে মালামাল রয়েছে তা খরচ করতে থাক; এটা তোমার জন্য উত্তম। আর যদি তুমি তা দান না করে কুক্ষিগত করে রাখো তাহলে এটা তোমার জন্য অকল্যাণ বয়ে আনবে। তবে প্রয়োজন পরিমাণ রাখায় কোন দোষ নেই। এজন্য তোমাকে ভৎসনাও করা হবে না। যাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব তোমার উপর রয়েছে তাদেরকে দিয়েই দান শুরু কর। উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমির আল ইয়াহসাবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) বলেন, তোমরা হাদীস বর্ণনা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকে। কেবলমাত্র সে সকল হাদীস বর্ণনা করতে পারো যা উমার (রাযিঃ) এর সময় ছিল। কেননা উমার (রাযিঃ) লোকদের মনে আল্লাহর ভয় বদ্ধমূল করার প্রয়াস পেতেন। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ "আল্লাহ তা'আলা যার কল্যাণ চান তাকে দীনের গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন।” মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আরো বলতে শুনেছিঃ “আমি তো শুধুমাত্র জনৈক খাজাঞ্চি। যাকে আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দান করি, তাতে তার বারাকাত হয়। আর যাকে আমি তার সনির্বন্ধ মিনতি ও উত্যক্ত করার পর দেই তার অবস্থা এমন ব্যক্তির মতো যে খায় অথচ পরিতৃপ্ত হতে পারে না।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মু'আবিয়াহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কোন কিছু পাওয়ার ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত কাকুতি মিনতির আশ্রয় নিও না। কেননা, আল্লাহর শপথ! যে ব্যক্তি আমার কাছে কোন কিছু চায়, আর তার মিনতিপূর্ণ আকুল প্রার্থনাই আমাকে দানে বাধ্য করে অথচ আমি তা অপছন্দ করি, তাহলে এতে কী করে বারাকাত হবে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার আল মাক্কি (রহঃ) ..... আমর ইবনু দীনার থেকে ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সনা’আ নামক স্থানে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে আখরোট দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। তার (ওয়াহব ইবনু মুনব্বিহ) ভাই বর্ণনা করেন, আমি আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) এর পুত্র মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৬০, ইসলামীক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মু'আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি খুতবাহ দেয়ার সময় বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ "আল্লাহ তা'আলা যার কল্যাণ চান তাকে দীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আমি জনৈক বণ্টনকারী আর দান করার মালিক আল্লাহ এবং তিনিই দিয়ে থাকেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৬১, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “যারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ায় এবং দু' এক গ্রাস খাবার বা দু' একটা খেজুর ভিক্ষা নিয়ে ফিরে যায় তারা (প্রকৃত) মিসকীন নয়। এ কথা শুনে সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে মিসকীন কে? (উত্তরে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মানবীয় মৌলিক প্রয়োজন মিটানোর মত সামর্থ্য যার নেই আর সমাজের মানুষও তাকে অভাবী বলে জানে না যাতে তাকে দান করতে পারে এবং সে নিজেও (মুখ খুলে) কারো কাছে কিছু চায় না।” (এ ব্যক্তি হলো প্রকৃত মিসকীন অর্থাৎ আর্থিক অনটনভুক্ত গরীব ভদ্রলোক)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৬২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব ও কুতায়বাহু ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি দু' একটি খেজুর বা দু' এক গ্রাস খাবার ভিক্ষা চেয়ে বেড়ায় এবং এ নিয়ে চলে যায় সে মিসকীন নয়। বরং প্রকৃত মিসকীন ঐ ব্যক্তি, যে মানুষের কাছে হাত পাতে না। প্রকৃত মিসকীনের স্বরূপ জানতে চাইলে এ আয়াত পাঠ করো- "তারা মানুষের কাছে কাকুতি মিনতির সাথে হাত পাতে না"- (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ২৭৩)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৬৩ ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ কেউ মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইতে চাইতে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে তার মুখমণ্ডলে গোশতের কোন টুকরা অবশিষ্ট থাকবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... মা'মার (রহঃ) যুহরীর ভাই এর সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে “টুকরা" শব্দটির উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৬৫, ইসলামীক সেন্টার)