Qurani·قرآني
বাংলা

কিতাবুন নিকাহ

3180 হাদিস · #388–3567

হাদিস 2438 — Sahih Muslim 12:175
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، ‏.‏ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ ‏.‏ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ قَالَ أَنَسٌ قَالُوا نَصْبِرُ ‏.‏ كَرِوَايَةِ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ ‏.‏
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে আনাস (রাযিঃ) বলেছেন যে, তারা বললেন, “আমরা ধৈর্য ধারণ করব।" যেমন যুহরী থেকে ইউনুসের রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩০৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2439 — Sahih Muslim 12:176
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأَنْصَارَ فَقَالَ ‏"‏ أَفِيكُمْ أَحَدٌ مِنْ غَيْرِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا لاَ إِلاَّ ابْنُ أُخْتٍ لَنَا ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ ابْنَ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّ قُرَيْشًا حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَمُصِيبَةٍ وَإِنِّي أَرَدْتُ أَنْ أَجْبُرَهُمْ وَأَتَأَلَّفَهُمْ أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ يَرْجِعَ النَّاسُ بِالدُّنْيَا وَتَرْجِعُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ إِلَى بُيُوتِكُمْ لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَسَلَكَ الأَنْصَارُ شِعْبًا لَسَلَكْتُ شِعْبَ الأَنْصَارِ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনুল ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের এক স্থানে সমবেত করে বললেনঃ তোমরা অর্থাৎ আনসারগণ ছাড়া অন্য কেউ এখানে আছে কি? তারা (আনসারগণ) বললেন, না। তবে আমাদের এ ভাগ্নে এখানে উপস্থিত আছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বোনের ছেলে বা ভাগ্নে (মাতুল) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তিনি বললেনঃ কুরায়শরা কেবলমাত্র জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগ করেছে এবং সবেমাত্র বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাই আমি চাচ্ছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রসূলকে নিয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন কর? তোমাদের সাথে আমার ভালবাসা ও হৃদ্যতার স্বরূপ এই যে, দুনিয়ার সব লোক যদি কোন উপত্যকার দিকে ছুটে আর আনসারগণ যদি কোন গিরিপথে যায় তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথেই যাবো (তাদের সাথেই থাকব)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩০৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2440 — Sahih Muslim 12:177
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ لَمَّا فُتِحَتْ مَكَّةُ قَسَمَ الْغَنَائِمَ فِي قُرَيْشٍ فَقَالَتِ الأَنْصَارُ إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْعَجَبُ إِنَّ سُيُوفَنَا تَقْطُرُ مِنْ دِمَائِهِمْ وَإِنَّ غَنَائِمَنَا تُرَدُّ عَلَيْهِمْ ‏.‏ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَمَعَهُمْ فَقَالَ ‏"‏ مَا الَّذِي بَلَغَنِي عَنْكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا هُوَ الَّذِي بَلَغَكَ ‏.‏ وَكَانُوا لاَ يَكْذِبُونَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ يَرْجِعَ النَّاسُ بِالدُّنْيَا إِلَى بُيُوتِهِمْ وَتَرْجِعُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ إِلَى بُيُوتِكُمْ لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا أَوْ شِعْبًا وَسَلَكَتِ الأَنْصَارُ وَادِيًا أَوْ شِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الأَنْصَارِ أَوْ شِعْبَ الأَنْصَارِ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের পরে গনীমাতের মাল কুরায়শদের মধ্যে বণ্টন করা হলে আনসারগণ বললেন, এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের কথা যে, আমাদের তরবারি দিয়ে এখনো তাদের রক্ত ঝরছে আর আমাদের গনীমাত তারাই লুটে নিচ্ছে। এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে তিনি তাদেরকে সমবেত করে বললেন, এ কেমন কথা যা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে পৌছেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ; এ ধরনের কথা হয়েছে। তারা কখনো মিথ্যা বলেন না। তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরুক আর তোমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? অন্যান্য লোকেরা যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথে চলে এবং আনসারগণ যদি অপর কোন উপত্যকা বা গিরিপথ ধরে চলে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথেই চলব (আমি আনসারদের সাথেই থাকব)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩০৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2441 — Sahih Muslim 12:178
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ، - يَزِيدُ أَحَدُهُمَا عَلَى الآخَرِ الْحَرْفَ بَعْدَ الْحَرْفِ - قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنٍ أَقْبَلَتْ هَوَازِنُ وَغَطَفَانُ وَغَيْرُهُمْ بِذَرَارِيِّهِمْ وَنَعَمِهِمْ وَمَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ عَشَرَةُ آلاَفٍ وَمَعَهُ الطُّلَقَاءُ فَأَدْبَرُوا عَنْهُ حَتَّى بَقِيَ وَحْدَهُ - قَالَ - فَنَادَى يَوْمَئِذٍ نِدَاءَيْنِ لَمْ يَخْلِطْ بَيْنَهُمَا شَيْئًا - قَالَ - فَالْتَفَتَ عَنْ يَمِينِهِ فَقَالَ ‏"‏ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبْشِرْ نَحْنُ مَعَكَ - قَالَ - ثُمَّ الْتَفَتَ عَنْ يَسَارِهِ فَقَالَ ‏"‏ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبْشِرْ نَحْنُ مَعَكَ - قَالَ - وَهُوَ عَلَى بَغْلَةٍ بَيْضَاءَ فَنَزَلَ فَقَالَ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ ‏.‏ فَانْهَزَمَ الْمُشْرِكُونَ وَأَصَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَنَائِمَ كَثِيرَةً فَقَسَمَ فِي الْمُهَاجِرِينَ وَالطُّلَقَاءِ وَلَمْ يُعْطِ الأَنْصَارَ شَيْئًا فَقَالَتِ الأَنْصَارُ إِذَا كَانَتِ الشِّدَّةُ فَنَحْنُ نُدْعَى وَتُعْطَى الْغَنَائِمُ غَيْرَنَا ‏.‏ فَبَلَغَهُ ذَلِكَ فَجَمَعَهُمْ فِي قُبَّةٍ فَقَالَ ‏"‏ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ مَا حَدِيثٌ بَلَغَنِي عَنْكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَسَكَتُوا فَقَالَ ‏"‏ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالدُّنْيَا وَتَذْهَبُونَ بِمُحَمَّدٍ تَحُوزُونَهُ إِلَى بُيُوتِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ رَضِينَا ‏.‏ قَالَ فَقَالَ ‏"‏ لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَسَلَكَتِ الأَنْصَارُ شِعْبًا لأَخَذْتُ شِعْبَ الأَنْصَارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هِشَامٌ فَقُلْتُ يَا أَبَا حَمْزَةَ أَنْتَ شَاهِدٌ ذَاكَ قَالَ وَأَيْنَ أَغِيبُ عَنْهُ
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আর'আরাহ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে হাওয়াযিন, গাতফান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা তাদের সন্তান-সন্ততি ও গবাদি পশু নিয়ে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ হাজারের এক বিরাট বাহিনী এবং মাক্কার (মক্কা) তুলাকাদের নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। তুমুল যুদ্ধের মুখে এরা সবাই পিছে হটে গেল এবং (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একা যুদ্ধ ক্ষেত্রে রয়ে গেলেন। সেদিন তিনি দু'টি ডাক দিলেন কিন্তু এর মাঝখানে কোন কথা বলেননি। প্রথমে তিনি ডান দিকে ফিরে ডাক দিয়ে বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়”! তারা তাকে সাড়া দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি- আপনি এ সুসংবাদ গ্রহণ করুন। অতঃপর তিনি বাম দিকে ফিরে পুনরায় ডেকে বললেনঃ হে আনসার সম্প্রদায়! তারা ডাকে সাড়া দিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদা বর্ণের একটি খচ্চরের পিঠে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি নীচে নেমে এসে বললেন, "আমি আল্লাহর বান্দা ও তার রসূল! মুশরিকরা পরাজিত হলো, গনীমাতের অনেক মাল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হস্তগত হলো। তিনি এসব মাল মুহাজির ও তুলাকাদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। তিনি আনসারদের এ থেকে কিছুই দিলেন না। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আনসারগণ বললেন, “বিপদের সময় আমাদের ডাকা হয়, আর গনীমাত বণ্টনের সময় মজা লুটে অন্যরা। তাদের এ উক্তি তার কানে গিয়ে পৌছল। তিনি তাদেরকে একটি তাবুর নীচে একত্র করে বললেন, হে আনসার সম্পদ্রায়! তোমাদের পক্ষ থেকে কী কথা আমার কাছে পৌছেছে? তারা সবাই নীরব হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এতে খুশী নও যে, অন্যান্য লোক দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সঙ্গে নিয়ে ঘরে ফিরবে? তারা (উত্তরে) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এতে খুশী আছি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যদি অন্য লোকেরা এক গিরিপথের দিকে যায় আর আনসারগণ অন্য গিরিপথে চলে তাহলে আমি আনসারদের পথই অনুসরণ করব। বর্ণনাকারী হিশাম বলেন, আমি আনসারকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হামযাহ! আপনি কি তখন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি তাকে ছেড়ে কোথায় যাব?” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩০৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2442 — Sahih Muslim 12:179
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، وَحَامِدُ بْنُ عُمَرَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ ابْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ حَدَّثَنِي السُّمَيْطُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ افْتَتَحْنَا مَكَّةَ ثُمَّ إِنَّا غَزَوْنَا حُنَيْنًا فَجَاءَ الْمُشْرِكُونَ بِأَحْسَنِ صُفُوفٍ رَأَيْتُ - قَالَ - فَصُفَّتِ الْخَيْلُ ثُمَّ صُفَّتِ الْمُقَاتِلَةُ ثُمَّ صُفَّتِ النِّسَاءُ مِنْ وَرَاءِ ذَلِكَ ثُمَّ صُفَّتِ الْغَنَمُ ثُمَّ صُفَّتِ النَّعَمُ - قَالَ - وَنَحْنُ بَشَرٌ كَثِيرٌ قَدْ بَلَغْنَا سِتَّةَ آلاَفٍ وَعَلَى مُجَنِّبَةِ خَيْلِنَا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ - قَالَ - فَجَعَلَتْ خَيْلُنَا تَلْوِي خَلْفَ ظُهُورِنَا فَلَمْ نَلْبَثْ أَنِ انْكَشَفَتْ خَيْلُنَا وَفَرَّتِ الأَعْرَابُ وَمَنْ نَعْلَمُ مِنَ النَّاسِ - قَالَ - فَنَادَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يَا لَلْمُهَاجِرِينَ يَا لَلْمُهَاجِرِينَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ يَا لَلأَنْصَارِ يَا لَلأَنْصَارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قَالَ أَنَسٌ هَذَا حَدِيثُ عِمِّيَّةٍ ‏.‏ قَالَ قُلْنَا لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ - قَالَ - فَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَايْمُ اللَّهِ مَا أَتَيْنَاهُمْ حَتَّى هَزَمَهُمُ اللَّهُ - قَالَ - فَقَبَضْنَا ذَلِكَ الْمَالَ ثُمَّ انْطَلَقْنَا إِلَى الطَّائِفِ فَحَاصَرْنَاهُمْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَى مَكَّةَ فَنَزَلْنَا - قَالَ - فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْطِي الرَّجُلَ الْمِائَةَ مِنَ الإِبِلِ ‏.‏ ثُمَّ ذَكَرَ بَاقِيَ الْحَدِيثِ كَنَحْوِ حَدِيثِ قَتَادَةَ وَأَبِي التَّيَّاحِ وَهِشَامِ بْنِ زَيْدٍ ‏.‏
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয, হামিদ ইবনু উমার ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাক্কাহ (মক্কা) বিজয় করার পর হুনায়নের যুদ্ধ করলাম। আমি দেখেছি এ যুদ্ধে মুশরিকরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্তভাবে কাতারবন্দী হয়েছিল। এদের প্রথম সারিতে অশ্বারোহীগণ, তারপর পদাতিকগণ, এদের পিছনে স্ত্রী লোকেরা যথাক্রমে বকরী অন্যান্য গবাদি পশুগুলো সারিবদ্ধ হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সংখ্যায় অনেক লোক ছিলাম। আমাদের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার পৌছে ছিল। আমাদের একদিকে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) আমাদের অশ্বারোহী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে আমাদের ঘোড়া পিছু হটতে লাগল। এমনকি আমরা টিকে থাকতে পারছিলাম না। বেদুঈনরা পালাতে শুরু করল। আমার জানা মতে আরো কিছু লোক পালিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম মুহাজিরদের ধমক দিয়ে ডাকলেন, হে মুহাজিরগণ! হে মুহাজিরগণ! অতঃপর আনসারদের ধমক দিয়ে বললেন, হে আনসারগণ! হে আনসারগণ! আনসার (রাযিঃ) বলেন, এ হাদীস আমার নিকট লোক বর্ণনা করেছেন অথবা তিনি বলেছেন, আমার চাচা বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়ে বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হলেন। আনসার (রাযিঃ) আরো বলেন, আল্লাহর শপথ আমাদের পৌছার পূর্বেই আল্লাহ তা'আলা তাদের পরাজিত করবেন এবং আমরা তাদের সকল প্রকার মাল হস্তগত করলাম। তারপর আমরা ত্বায়িফে গেলাম। ত্বায়িফের অধিবাসীদের চল্লিশ দিন যাবৎ অবরোধ করে রাখলাম, অতঃপর আমরা মাক্কায় (মক্কা) ফিরে আসলাম এবং অভিযান সমাপ্ত করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ব্যক্তিকে একশটি করে উট দিলেন ও অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ কাতাদাহ্, আবূ তাইয়াহ ও হিমাম ইবনু যায়দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩১০, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2443 — Sahih Muslim 12:180
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ وَصَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ وَعُيَيْنَةَ بْنَ حِصْنٍ وَالأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ كُلَّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ وَأَعْطَى عَبَّاسَ بْنَ مِرْدَاسٍ دُونَ ذَلِكَ ‏.‏ فَقَالَ عَبَّاسُ بْنُ مِرْدَاسٍ أَتَجْعَلُ نَهْبِي وَنَهْبَ الْعُبَيْدِ بَيْنَ عُيَيْنَةَ وَالأَقْرَعِ فَمَا كَانَ بَدْرٌ وَلاَ حَابِسٌ يَفُوقَانِ مِرْدَاسَ فِي الْمَجْمَعِ وَمَا كُنْتُ دُونَ امْرِئٍ مِنْهُمَا وَمَنْ تَخْفِضِ الْيَوْمَ لاَ يُرْفَعِ قَالَ فَأَتَمَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِائَةً ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার আল মাক্কি (রহঃ) ..... রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ সুফইয়ান ইবনু হা্রব, সফওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ্, উয়াইনাহ্ ইবনু হিসন ও আকরা ইবনু হাবিসকে একশ'ট করে উট দিলেন এবং আব্বাস ইবনু মিরদাসকে এদের চেয়ে কিছু কম দিলেন। তখন মিরদাস এ কবিতা পাঠ করলেনঃ আপনি কি আমার ও আমার উবায়দ' নামক ঘোড়াটির অংশ উয়াইনাহ ও আকরা'-কে প্রদত্ত অংশের মাঝামাঝি নির্ধারণ করছেন? বস্তুতঃ উয়াইনাহ এবং আকরা উভয়ই সমাজ ও সমাবেশে মিরদাসের চেয়ে অধিক অগ্রসর হতে বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে না। আর প্রতিযোগিতায় আমি তাদের দু'জনের তুলনায় পিছিয়ে নেই। আজ যে অনগ্রসর ও হীন বলে গণ্য হবে সে আর উর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এ কবিতা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উটের সংখ্যাও একশ' পূর্ণ করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩১১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2444 — Sahih Muslim 12:181
وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَسَمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ فَأَعْطَى أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ ‏.‏ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِهِ وَزَادَ وَأَعْطَى عَلْقَمَةَ بْنَ عُلاَثَةَ مِائَةً ‏.‏
আহমাদ ইবনু আবূদাহ আয যাববী (রহঃ) ..... উমার ইবনু সাঈদ ইবনু মাসরূক (রহঃ) থেকে এ সানাদে বর্ণিত আছে, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমাতের মাল বণ্টন করলেন এবং আবূ সুফইয়ানকে একশ' উট দিলেন। .... অবশিষ্ট অংশ উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে তিনি আলকামাহ্ ইবনু উলাসাকেও একশ’ উট দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩১২. ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2445 — Sahih Muslim 12:182
وَحَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ الشَّعِيرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي الْحَدِيثِ عَلْقَمَةَ بْنَ عُلاَثَةَ وَلاَ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ وَلَمْ يَذْكُرِ الشِّعْرَ فِي حَدِيثِهِ‏.‏
মাখলাদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... 'উমার ইবনু সাঈদ থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে আলকামাহ্ ইবনু উসালাহ্ এবং সফওয়ান ইবনু উমাইয়্যার নাম উল্লেখ নেই। তাছাড়া হাদীসে কবিতারও উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩১৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2446 — Sahih Muslim 12:183
حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا فَتَحَ حُنَيْنًا قَسَمَ الْغَنَائِمَ فَأَعْطَى الْمُؤَلَّفَةَ قُلُوبُهُمْ فَبَلَغَهُ أَنَّ الأَنْصَارَ يُحِبُّونَ أَنْ يُصِيبُوا مَا أَصَابَ النَّاسُ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَهُمْ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَلَمْ أَجِدْكُمْ ضُلاَّلاً فَهَدَاكُمُ اللَّهُ بِي وَعَالَةً فَأَغْنَاكُمُ اللَّهُ بِي وَمُتَفَرِّقِينَ فَجَمَعَكُمُ اللَّهُ بِي ‏"‏ ‏.‏ وَيَقُولُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمَنُّ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَلاَ تُجِيبُونِي ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمَنُّ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَمَا إِنَّكُمْ لَوْ شِئْتُمْ أَنْ تَقُولُوا كَذَا وَكَذَا وَكَانَ مِنَ الأَمْرِ كَذَا وَكَذَا ‏"‏ ‏.‏ لأَشْيَاءَ عَدَّدَهَا ‏.‏ زَعَمَ عَمْرٌو أَنْ لاَ يَحْفَظُهَا فَقَالَ ‏"‏ أَلاَ تَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالشَّاءِ وَالإِبِلِ وَتَذْهَبُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ إِلَى رِحَالِكُمُ الأَنْصَارُ شِعَارٌ وَالنَّاسُ دِثَارٌ وَلَوْلاَ الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنَ الأَنْصَارِ وَلَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَشِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الأَنْصَارِ وَشِعْبَهُمْ إِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي عَلَى الْحَوْضِ ‏"‏ ‏.‏
সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। হুনায়নের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমাতের মাল মুয়াল্লাফাতুল কুলুব-দের মধ্যে বন্টন করলেন। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, অন্যান্য লোকেরা যেভাবে গনীমাতের মাল পেয়েছে আনসারগণও অনুরূপ পেতে চায়। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশে খুতবাহ দান করলেন। খুতবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেনঃ "হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট, দারিদ্র্য ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাইনি?" তারপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, দারিদ্র্যের অভিশাপ হতে মুক্ত করে ধনী করেছেন। আর তারা বলতেন, আল্লাহ ও তার রসূল অত্যন্ত আমানতদার। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা আমার কথার জবাব দিচ্ছ না কেন? তখন তারা বললেন, অত্যন্ত আমানতদার। (অর্থাৎ তিনি যা করেছেন ঠিক করেছেন এবং এতে আমরা রাযী আছি)। অতঃপর তিনি বললেন, যদি তোমরা এভাবে এভাবে বলতে চাও আর বাস্তবে কাজ এরূপ ও এরূপ হয়। 'আমর (রাযিঃ) বলেন, এই বলে তিনি কতগুলো জিনিসের কথা উল্লেখ করলেন যা আমি মনে রাখতে পারিনি। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা ছাগল ও উট নিয়ে ঘরে ফিরে যাক আর তোমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? তিনি আরো বললেনঃ আনসারগণ হচ্ছে আচ্ছাদন (শরীরের সাথে লেগে থাকা আবরণ) আর অন্য লোকেরা আমাদের থেকে দূরের। যদি হিজরাত না হতো তাহলে আমি আনসারদের মাঠ ও গিরিপথেই যাব। আমার পরে তোমাদেরকে (দেয়ার ব্যাপারে) পিছনে ফেলে রাখা হবে। তখন তোমরা আমার সাথে হাওজের কাছে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩১৪, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2447 — Sahih Muslim 12:184
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنٍ آثَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَاسًا فِي الْقِسْمَةِ فَأَعْطَى الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ وَأَعْطَى عُيَيْنَةَ مِثْلَ ذَلِكَ وَأَعْطَى أُنَاسًا مِنْ أَشْرَافِ الْعَرَبِ وَآثَرَهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْقِسْمَةِ فَقَالَ رَجُلٌ وَاللَّهِ إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا عُدِلَ فِيهَا وَمَا أُرِيدَ فِيهَا وَجْهُ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَأَتَيْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ - قَالَ - فَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ حَتَّى كَانَ كَالصِّرْفِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ فَمَنْ يَعْدِلُ إِنْ لَمْ يَعْدِلِ اللَّهُ وَرَسُولُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ يَرْحَمُ اللَّهُ مُوسَى قَدْ أُوذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ لاَ جَرَمَ لاَ أَرْفَعُ إِلَيْهِ بَعْدَهَا حَدِيثًا ‏.‏
যুহায়র ইবনু হারব, উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ...... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হুনায়নের যুদ্ধ সংঘটিত হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল দেয়ার ব্যাপারে কতক লোককে প্রাধান্য দিলেন অর্থাৎ কতক লোককে বেশী দিলেন। সুতরাং তিনি আকরা ইবনু হাবিসকে একশ' উট দিলেন, উয়াইনাকেও অনুরূপ সংখ্যক উট দান করলেন এবং আরবের নেতৃস্থানীয় কিছু লোককেও অগ্রাধিকার দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! এ বণ্টন ইনসাফ ভিত্তিক হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সম্ভষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ আমি এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছাব। রাবী বলেন, আমি তার কাছে গিয়ে লোকটির উক্তি তাকে শুনালাম। ফলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমণ্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই যদি সুবিচার না করেন তাহলে কে আর ইনসাফ করবে? তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা মূসা (আঃ) কে রহমত করুন, তাকে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে আর কখনো এ ধরনের কোন ব্যাপার তাকে জানাব না। (কেননা এতে তার কষ্ট হয়)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩১৫, ইসলামীক সেন্টার)
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।