শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন মুসলিমের মধ্যে কলহ ও মতভেদ সৃষ্টি হবে তখন একদল লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং এ দু' দলের মধ্যে যেটি হকের অধিকতর নিকটবর্তী হবে সেটিই ঐ সম্প্রদায়কে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ রবী' আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মত দু'দলে বিভক্ত হয়ে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর মধ্যে যে দলটি হকের অধিকতর নিকটবর্তী হবে সেটিই ঐ সম্প্রদায়কে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2460 — Sahih Muslim 12:197
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي، سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَمْرُقُ مَارِقَةٌ فِي فُرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ فَيَلِي قَتْلَهُمْ أَوْلَى الطَّائِفَتَيْنِ بِالْحَقِّ " .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকদের মাঝে যখন কলহ ও বিবাদের সৃষ্টি হবে তখন একদল লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর মধ্যে যে দলটি হকের অধিক নিকটতর হবে সেটিই অপরটিকে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৮, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) অপর এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেনঃ যখন বিভিন্ন প্রকার কলহের আবির্ভাব হবে তখন একটি দল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং দু'দলের মধ্যে যেটি সত্যের অধিক নিকটতর সেটি তাদেরকে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ... সুওয়াইদ ইবনু গাফালাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি কোন কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে বানিয়ে বলার চেয়ে- আমার আকাশ থেকে পড়ে যাওয়াকে শ্রেয় মনে করি। আর যখন আমি আমার ও তোমাদের মধ্যকার ব্যাপার নিয়ে কথা বলি তখন মনে রাখবে যে, যুদ্ধে কৌশল ও চাতুরতার আশ্রয় নেয়া বৈধ। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনিঃ সে যুগে (অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে) এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা অল্প বয়স্ক ও স্বল্প বুদ্ধি-সম্পন্ন হবে। তারা সৃষ্টি জগতের চেয়ে ভাল ভাল কথা বলবে, তারা কুরআন মাজীদ পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের গলার নীচে যাবে না। তীর যেভাবে শিকার থেকে বেরিয়ে যায় তারাও অনুরূপভাবে বেরিয়ে যাবে। অতএব, তোমরা তাদের সাথে মুখোমুখী হলে তাদের হত্যা করে ফেলবে। কেননা তাদেরকে যারা হত্যা করবে তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সাওয়াব পাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩০, ইসলামীক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আ'মাশ (রহঃ) থেকে অপর এক সানাদে উপরে বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে- “তীর যেভাবে শিকার থেকে বেরিয়ে যায় তারা অনুরূপভাবে দীন থেকে বেরিয়ে যাবে" কথাটির উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩২, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকদ্দামী, কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ‘আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি খারিজীদের সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি থাকবে যার হাত খাটো বা মহিলাদের স্তনের ন্যায় হবে। তোমরা যদি অহংকারে লিপ্ত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পার তাহলে আমি তোমাদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যবানে আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি সম্বন্ধে আলাপ করব যা তিনি তাদের হত্যাকারীদের সম্পর্কে করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আবীদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সরাসরি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখে এ কথা শুনেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, কা’বার প্রভুর শপথ! হ্যাঁ কা'বার প্রভুর শপথ হ্যাঁ, কা’বার প্রভুর শপথ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩৪, ইসলামীক সেন্টার, নাই)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু ওয়াহব আল জুহানী থেকে বর্ণিত। যে সৈন্যদল আলী (রাযিঃ) এর সাথে খারিজীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল- তিনি তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন। আলী (রাযিঃ) বললেন, হে লোক সকল! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ “আমার উম্মাতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে। তোমাদের পাঠ তাদের পাঠের তুলনায় নিম্নমানের হবে। অনুরূপভবে তাদের সালাত ও সিয়ামের তুলনায় তোমাদের সালাত-সিয়াম (রোজা/রোযা) সামান্য বলে মনে হবে। কুরআন পাঠ করে তারা ধারণা করবে এতে তাদের খুব লাভ হচ্ছে। অথচ এটা তাদের জন্য ক্ষতির কারণই হবে। তাদের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি তীর বেরিয়ে যায় শিকার থেকে। আর যে সৈন্যদল তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে তারা যদি তাদের নীরব মাধ্যমে কৃত ওয়াদা সম্পর্কে জানতে পারত তাহলে তারা এক কাজের (পুরস্কারের) উপরই ভরসা করে বসে থাকত। সে দলের চিহ্ন হলো- তাদের মধ্যে এমন এক লোক থাকবে যার বাহুর অগ্রভাবে স্ত্রী লোকের স্তনের বোটার ন্যায় একটি মাংসপেশী থাকবে। এর উপর সাদা পশম থাকবে। আলী (রাযিঃ) বলেন, অতএব তোমরা মু'আবিয়াহ ও সিরিয়ার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাচ্ছো। অপরদিকে তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদের পিছনে এদেরকে (খারিজী) রেখে যাচ্ছ। আল্লাহর শপথ! আমার বিশ্বাস এরাই হচ্ছে সেই সম্প্রদায় (যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করার ব্যাপারে তোমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে)। কেননা এরা অবৈধভাবে রক্তপাত ঘটিয়েছে এবং মানুষের গবাদি পশু লুট করেছে। সুতরাং আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু কর। সালামাহ্ ইবনু কুহায়ল বলেন, অতঃপর যায়দ ইবনু ওয়াহব (রাযিঃ) প্রতিটি মঞ্জিলের বর্ণনাই আমাকে দিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, “আমরা একটি পুলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে খারিজীদের মুখোমুখী হলাম। এ দিন আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব আর রাসিবী খারিজীদের সেনাপতি ছিলেন। সে তাদেরকে বলল, তোমরা বল্লম ফেলে দিয়ে খাপ থেকে তরবারি বের কর। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তার হারূরার দিনের ন্যায় আজও তোমাদের উপর চরম আঘাত হানবে। সুতরাং তারা ফিরে গিয়ে বল্লম ফেলে দিয়ে তরবারি খাপ থেকে বের করে নিল। লোকজন বল্লম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হল। তারা একের পর এক নিহত হতে থাকল। সেদিন আলী (রাযিঃ) এর দল থেকে মাত্র দু'জন লোক নিহত হলো। অতঃপর ‘আলী (রাযিঃ) বললেন, তোমরা এদের মধ্যে থেকে সে বিকলাঙ্গ ব্যক্তিকে খুঁজে বের কর। অতঃপর তারা তাকে খুঁজে পেল না। তখন আলী (রাযিঃ) নিজেই দাঁড়ালেন এবং নিহতদের কাছে গিয়ে লাশগুলো সরাবার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে জমিনের উপর পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে- “আল্লাহু আকবার" বলে উঠলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন, “আল্লাহ তা'আলা সত্য কথাই বলেছেন এবং তাঁর রসূল সঠিক সংবাদই পৌছিয়েছেন।” রাবী বলেন, এরপর আবীদাহ আস্ সালমানী তার কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন সে মহান আল্লাহর শপথ যিনি ছাড়া অন্য কোন মা'বূদ নেই। আমিও এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শুনেছি। এভাবে তিনি (‘আলী) তিনবার শপথ করে আবদাহ্ আস্ সালমানীকে একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩৫, ইসলামীক সেন্টার)