আবূ তহির ও ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্ত গোলাম উবায়দুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যখন হারূরিয়াহ্ বের হলো এবং যখন সে আলী (রাযিঃ) এর সাথে ছিল তখন বলল, "আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হুকুম দেয়ার অধিকার নেই।" আলী (রাযিঃ) বলেন, “এ কথাটি সত্য কিন্তু এর পিছনে তাদের হীন উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে।" রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছিলেন, আমি তাদের মধ্যে সে চিহ্নগুলো ভালভাবেই লক্ষ্য করছি। তারা মুখে সত্য কথা বলে কিন্তু তা তাদের এটা থেকে অতিক্রম করে না। এ বলে তিনি (উবায়দুল্লাহ) তার কণ্ঠনালীর দিকে ইঙ্গিত করলেন। (অর্থাৎ সত্য কথা গলার নীচে যায় না)। আল্লাহর সৃষ্টিজগতে এরা তার চরম শত্রু। তাদের মধ্যে কালো বর্ণের এক ব্যক্তি রয়েছে যার একটি হাত বকরীর স্তন বা স্তনের বোটার ন্যায়। অতঃপর ‘আলী (রাযিঃ) তাদেরকে হত্যা করার পর বললেন, তোমরা তাকে খুঁজে বের কর। কিন্তু তারা তাকে খুঁজে পেল না। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা গিয়ে আবার খোঁজ কর। আল্লাহর শপথ আমি মিথ্যা বলিনি এবং আমার কাছেও মিথ্যা বলা হয়নি। (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে মিথ্যা বলেননি এবং আমিও তোমাদের কাছে মিথ্যা বলছি না)। এ কথাটি তিনি দু' অথবা তিনবার বললেন। তারা তাকে ধ্বংস-স্তুপের মধ্যে পেয়ে গেল এবং নিয়ে এসে তার সামনে রাখল। উবায়দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, তাদের এ তৎপরতার সময় এবং ‘আলী (রাযিঃ) খারিজীদের সম্বন্ধে এ উক্তিটি করার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ইউনুসের বর্ণনায় আরো আছে, বুকায়র বলেনঃ ‘আমার কাছে এক ব্যক্তি ইবনু হুনায়নের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “সে কালো লোকটিকে আমি দেখেছি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে আমার উম্মাতের মধ্যে বা অচিরেই আমার উম্মাতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে- তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, তীর যেভাবে শিকার ভেদ করে চলে যায় তারাও তেমনিভাবে দীন থেকে বেরিয়ে যাবে, আর ফিরে আসবে না। সৃষ্টিকুলের মধ্যে তারা নিকৃষ্ট ও অধম। ইবনু সামিত (রাযিঃ) বলেন, আমি হাকাম আল গিফারীর ভাই রাফি ইবনু আমর আল গিফারীর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমি আবূ যার (রাযিঃ) থেকে এ ধরনের যে হাদীস শুনেছি এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তার সামনে এ হাদীসটিও উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আমিও এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইউসায়র ইবনু আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খারিজীদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে হাত দিয়ে পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে বলতে শুনেছিঃ এরা এমন এক সম্প্রদায়, তারা কুরআন পড়ে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। তারা দীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার থেকে বেরিয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কামিল (রহঃ) ..... সুলায়মান আশ শায়বানী (রহঃ) এর সূত্রে এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এ উম্মাতের থেকে কতিপয় সম্প্রদায় আবির্ভূত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক (রহঃ) ..... সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “মাথা নেড়া এক সম্প্রদায় (খারিজী) পূর্ব দিক থেকে বেরুবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৪০, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসান ইবনু ‘আলী (রাযিঃ) যাকাতের খেজুর থেকে একটি খেজুর তুলে মুখে দিলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি থুথু করে ফেলে দাও। তুমি কি জান না আমরা সদাকাহ বা যাকাত খাই না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৪১, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আছে, “আমাদের জন্য সদাকাহ-যাকাতের মাল হালাল নয়।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৪২, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি ঘরে ফিরে গিয়ে (কোন কোন সময়) আমার বিছানার উপর খেজুর পড়ে থাকতে দেখি। আমি তা খাওয়ার জন্য তুলে নেই। কিন্তু পরক্ষণেই সদাকার খেজুর হতে পারে এ আশঙ্কায় তা ফেলে দেই (এবং খাওয়া থেকে বিরত থাকি)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৪৪, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2477 — Sahih Muslim 12:214
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ، مُنَبِّهٍ قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ إِنِّي لأَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِي فَأَجِدُ التَّمْرَةَ سَاقِطَةً عَلَى فِرَاشِي - أَوْ فِي بَيْتِي - فَأَرْفَعُهَا لآكُلَهَا ثُمَّ أَخْشَى أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً - أَوْ مِنَ الصَّدَقَةِ - فَأُلْقِيهَا " .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) আল্লাহর রসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেন। তার মধ্যে একটি হাদীস নিম্নরূপঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহর শপথ আমি ঘরে ফিরে আমার বিছানায় অথবা (তিনি বলেছেন) আমার ঘরের মধ্যে খেজুর পড়ে থাকতে দেখতে পাই। আমি তা খাওয়ার জন্য হাতে তুলে নেই। পরক্ষণেই আমার সন্দেহ হয়, এটা সদাকার খেজুর হতে পারে। তাই আমি তা ফেলে দেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৪৫, ইসলামীক সেন্টার)