وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه ح. وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ حَتَّى يُقَالَ قَدْ صَامَ قَدْ صَامَ . وَيُفْطِرُ حَتَّى يُقَالَ قَدْ أَفْطَرَ قَدْ أَفْطَرَ .
যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু আবূ খালাফ ও আবূ বাকর ইবনু নাফি (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করে যেতেন, এমনকি বলা হত তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন,তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন। আবার তিনি সিয়াম থেকে এমনভাবে বিরত থাকতেন যে, বলা হত তিনি অনেক দিন সিয়াম (রোজা/রোযা) থেকে বিরত রয়েছেন, অনেক দিন বিরত রয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2729 — Sahih Muslim 13:235
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ وَهْبٍ، يُحَدِّثُ عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ أُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ يَقُولُ لأَقُومَنَّ اللَّيْلَ وَلأَصُومَنَّ النَّهَارَ مَا عِشْتُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " آنْتَ الَّذِي تَقُولُ ذَلِكَ " . فَقُلْتُ لَهُ قَدْ قُلْتُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنَّكَ لاَ تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ فَصُمْ وَأَفْطِرْ وَنَمْ وَقُمْ وَصُمْ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَإِنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا وَذَلِكَ مِثْلُ صِيَامِ الدَّهْرِ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمَيْنِ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا وَذَلِكَ صِيَامُ دَاوُدَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - وَهُوَ أَعْدَلُ الصِّيَامِ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو رضى الله عنهما لأَنْ أَكُونَ قَبِلْتُ الثَّلاَثَةَ الأَيَّامَ الَّتِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَهْلِي وَمَالِي .
আবূ ত্বহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত করা হলো যে, আমি বলছি, আমি যতদিন বেঁচে থাকব সারা রাতে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করব এবং সর্বদা দিনের বেলা সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করব। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ কথা বলেছ? আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি এ কথা বলেছি। তিনি বললেন, তুমি এ কাজ করতে পারবে না, কারণ তোমার সে সামর্থ্য নেই। পড়, নিদ্রাও যাও। আর প্রতি মাসে তিনদিন করে সিয়াম পালন কর। কেননা প্রত্যেক নেক কাজের জন্য দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায়। এতেই সারা জীবন সিয়াম পালন করার সাওয়াব পাওয়া যাবে। রাবী বলেন, আমি আরয করলাম, আমি এর চেয়েও বেশী করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে একদিন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন কর এবং অতঃপর দুদিন সিয়াম পালন থেকে বিরত থাক। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন সিয়াম পালন কর এবং একদিন বিরত থাক। এটাই দাউদ (আঃ)-এর সিয়াম। আর এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ মত তিন দিনের সিয়াম পালন করাকে যদি আমি গ্রহণ করে নিতাম তাহলে এটা আমার কাছে আমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের চেয়েও পছন্দনীয় হত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আর রূমী (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আবূ সালামার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশে রওনা হলাম। অবশেষে আমরা তার বাড়িতে গিয়ে পৌছলাম। তার বাড়ির সামনেই ছিল একটি মসজিদ। আমরা সেখানে গিয়ে বসলাম এবং তাকে খবর দেয়ার জন্য একটি লোক পাঠালাম। তিনি বাড়ির ভিতর থেকে বের হয়ে আমাদের কাছে এসে বললেন, তোমরা ইচ্ছে করলে ঘরে গিয়েও বসতে পার অথবা এখানেও বসতে পার। আমরা বললাম, অবশ্যই আমরা এখানে বসব। অতঃপর তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) আমার কাছে বলেছেন, আমি সর্বদা সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতাম এবং প্রতি রাতেই (রাত ভর) কুরআন তিলাওয়াত করতাম। পরে হয়ত বা আমার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আলোচনা করা হয়েছে অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি নিজেই আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি গিয়ে তার কাছে হাজির হলাম। তিনি বললেন, আমি জানতে পারলাম, তুমি নাকি সর্বদা সিয়াম পালন কর এবং প্রতি রাতেই (সারা রাত) কুরআন তিলাওয়াত কর? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী! আমি কল্যাণ লাভ করার উদেশেই তা করে থাকি। তিনি বললেন, প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করাই তোমার জন্য যথেষ্ট। তখন আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, (এরূপ করো না)। কেননা তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে, যারা তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে তাদেরও তোমার উপর অধিকার রয়েছে। আর তোমার উপর তোমার দেহেরও হাক্ব (হক) আছে। তাই তুমি আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ) এর সিয়াম অনুসরণ কর। কেননা তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ইবাদাত করতেন। আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর (রাযিঃ) বলেন, আমি রললাম, হে আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ) এর সিয়াম কী? তিনি বললেন, দাউদ (আঃ) একদিন সিয়াম পালন করতেন এবং একদিন পালন করতেন না (অর্থাৎ একদিন পরপর সিয়াম পালন করতেন)। তিনি (আরো) বললেন, তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম কর। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমি এর চেয়েও বেশী পড়ার সামর্থ রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রতি বিশ দিনে একবার কুরআন খতম কর। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর নবী! আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রতি দশ দিনে একবার কুরআন খতম কর। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর নবী এর চেয়েও বেশী পারি। তিনি বললেন, তুমি সাতদিন অন্তর কুরআন খতম কর, তবে এর চেয়ে বেশী পড়ো না। কেননা তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক্ব (হক) আছে, তোমার সাক্ষাতপ্রার্থীদেরও তোমার উপর হাক্ব (হক) আছে, আর তোমার শরীরেরও তোমার উপর হাক্ব (হক) আছে। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি (সর্বদা সিয়াম পালন করে) নিজের উপর কঠোরতা করেছি। ফলে (আমার উপরও) কঠোরতা চেপে বসেছে। তিনি আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন, তোমার জানা নেই হয়ত বা তুমি দীর্ঘায়ু লাভ করবে (তখন তোমার পক্ষে এত বেশী 'আমল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছিলেন বাস্তবে তাই হলো। আমি যখন বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়লাম তখন অনুশোচনা করে বলতাম, "হায়! আমি যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেয়া অবকাশটুকু গ্রহণ করতাম! (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হাব (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ) কর্তৃক এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে প্রতি মাসে তিনদিন করে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করাই যথেষ্ট'- এ কথার পরে আরো আছে, “কেননা প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে তার দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায়, আর এভাবে তা সারা বছরের সিয়ামের সমতুল্য গণ্য হয়”। তিনি তার বর্ণিত হাদীসে আরো উল্লেখ করেছেন, “আমি বললাম, আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ) এর সিয়াম কী (ছিল)? তিনি বললেন, বছরের অর্ধেক (অর্থাৎ একদিন সিয়াম পালন করা ও একদিন সিয়াম ভাঙ্গা)। তিনি (এ হাদীসে) কুরআন তিলাওয়াতের প্রসঙ্গে কিছুই উল্লেখ করেননি। এ বর্ণনায় তিনি “তোমার সাক্ষাত-প্রার্থীদেরও তোমার উপর হাক্ব (হক) আছে"- এ কথাটি উল্লেখ করেননি। বরং এতে আছেঃ তোমার সন্তানেরও তোমার উপর হাক্ব (হক) আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি প্রতি মাসে একবার করে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, আরো বেশী পড়ার সামর্থ রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি বিশ দিন অন্তর একবার কুরআন খতম কর। রাবী বলেন, আমি আবার আরয করলাম, আমার আরো (বেশী পাঠ করার) শক্তি আছে। তিনি বললেন, তাহলে তুমি সাত দিন অন্তর একবার সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। তবে এর চেয়ে বেশী (তিলাওয়াত) করো না। (কারণ এর চেয়ে কম সময়ের মধ্যে কুরআন খতম করলে কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর মর্ম উপলব্ধি করার সুযোগ হয় না)।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ইউসুফ আল আযদী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবদুল্লাহ! (বেশী বেশী রাত জেগে) তুমিও অমুক ব্যক্তির মতো হয়ে যেও না। সে রাত জেগে জেগে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করত, অতঃপর রাত জেগে ইবাদাত করা ছেড়ে দিয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬০০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন, আমি অনবরত সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করি এবং রাত ভর সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করি। তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন অথবা (রাবীর সন্দেহ) আমি তার সাথে দেখা করি। তিনি বললেন, আমি খবর পেয়েছি, তুমি অনবরত সিয়াম পালন কর, বিরতি দাও না, আর রাত ভর সালাত আদায় কর। এরপর আর এরূপ করবে না। কেননা তোমার উপর তোমার চোখের অংশ (হাক্ব (হক)) আছে, তোমার দেহ ও আত্মার অংশ আছে এবং তোমার পরিবার-পরিজনেরও অংশ আছে। কাজেই তুমি সিয়ামও পালন কর, বিরতিও দাও, সালাতও আদায় কর, ঘুমও যাও। তুমি দশ দিনে একদিন সিয়াম পালন কর, তাহলে বাকি নয়টি দিনেরও সাওয়াব পাবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমি নিজের মধ্যে এর চেয়েও অধিক সিয়াম পালন করার শক্তি রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আঃ)-এর মত সিয়াম পালন কর। তিনি (আবদুল্লাহ) বললেন, হে আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ) কিভাবে সিয়াম পালন করতেন? তিনি (নবী) বললেন, দাউদ (আঃ) একদিন সিয়াম পালন করতেন এবং একদিন বিরতি দিতেন। এ জন্যেই (দুর্বল হতেন না এবং) দুশমনের সম্মুখীন হলে (ময়দান ছেড়ে) পালাতেন না। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! এ ব্যাপারে কে আমার দায়িত্ব নিবে? আতা বলেন, আমি জানি না, অনবরত সিয়াম পালন করার বিষয়টি কিভাবে আলোচনায় আসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি অনবরত সিয়াম পালন করল সে যেন কোন সিয়ামই পালন করেনি। যে ব্যক্তি সব সময় সিয়াম পালন করল সে যেন সিয়ামই পালন করেনি, যে ব্যক্তি সদাসর্বদা সিয়াম পালন করল সে যেন সিয়ামই পালন করেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬০১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... ইবনু জুরায়জ থেকে এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি বলেছেন, আবূ আব্বাস শাইর (রহঃ) তাকে অবহিত করেছেন। (ইমাম মুসলিম বলেনঃ) তিনি হলেন আবূ আব্বাস আস্ সায়িব ইবনু ফাররূখ। তিনি মাক্কার (মক্কা) অধিবাসী এবং বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬০২, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনু আমর! তুমি তো একাধারে সওম (রোযা) পালন করে যাচ্ছ। সারারাত ইবাদাতে দাঁড়িয়ে থাক। তুমি এরূপ করলে তাতে তোমার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলবে। যে ব্যক্তি সর্বদা সওম পালন করল, সে মূলত সওম পালন করল না। মাসে তিন দিন সওম পালন করা পূর্ণ মাস পালনের সমতুল্য। আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, দাউদ (আঃ) এর ন্যায় সওম পালন কর। তিনি একদিন সওম পালন করতেন এবং একদিন ছেড়ে দিতেন এবং পলায়ন করতেন না যখন শক্রর সম্মুখীন হতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬০৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হাবীব ইবনু আবূ সাবিত (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এতে আরও আছে, "এবং তুমি শ্ৰান্ত-ক্লান্ত হয়ে পড়বে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬০৪, ইসলামীক সেন্টার)