ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে কোন মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে- তার জন্য সঙ্গে কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত একাকী এক দিন ও এক রাতের দূরত্বের পথও সফর করা হালাল নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন স্ত্রীলোকের জন্য তার সাথে কোন মাহরাম ব্যক্তি ব্যতীত তিন দিনের দুরত্বের পথ সফর করা বৈধ নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে- তার পিতা অথবা তার ছেলে অথবা তার স্বামী অথবা তার ভাই অথবা তার অপর কোন মাহরাম আত্মীয় তার সফর সঙ্গী না হলে তার জন্য তিনদিন বা তার অতিরিক্ত সময়ের পথ সফর করা হালাল নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভাষণ দিতে শুনেছিঃ সাথে মাহরাম পুরুষ না থাকা অবস্থায় কোন পুরুষ লোক যেন কোন মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ না করে। কোন স্ত্রীলোক যেন সাথে কোন মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকী সফর না করে। এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে এবং আমাকে অমুক সৈন্য বাহিনীতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে- যা অমুক স্থানে যুদ্ধে যাবে। তিনি বললেন, তুমি চলে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেইঃ "কোন পুরুষ লোক যেন কোন মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ না করে, কিন্তু তার সাথে তার কোন মাহরাম পুরুষ থাকলে স্বতন্ত্র কথা।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪০, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও সফরের উদ্দেশে তার উটে আরোহণের সময় তিনবার "আল্ল-হু আকবার" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলতেন, এরপর যে দু'আ পাঠ করতেন তার অর্থ এইঃ “পবিত্র মহান সে সত্তা- যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ। আমাদের এ সফরে আমরা তোমার নিকট কল্যাণ, তাকওয়া এবং তোমার সন্তুষ্টি বিধানকার কাজের তাওফীক চাই। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফর আমাদের জন্য সহজ করে দাও এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই (আমাদের) সফরসঙ্গী এবং পরিবারের তত্ত্বাবধানকারী। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং ফিরে এসে সম্পদ ও পরিবারের ক্ষতিকর পরিবর্তন থেকে।" এরপর তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখনও উপরোক্ত দুআ পড়তেন এবং এর সাথে যোগ করতেনঃ (অর্থ) “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের প্রতিপালকের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী”। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪১, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর করতেন তখন আশ্রয় প্রার্থনা করতেন সফরের কষ্ট থেকে, দুঃখজনক প্রত্যাবর্তন থেকে, সুখময় অবস্থার পর দুঃখময় অবস্থায় পতিত হওয়া থেকে, মাযলুমের বদদুআ থেকে এবং সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের ক্ষতিকর দৃশ্য অবলোকন থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আসিম আল-আহওয়াল (রহঃ) থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য 'আবদুল ওয়াহিদের বর্ণনায় "ফীল মাল ওয়াল আহল" এবং মুহাম্মাদ ইবনু হাযম এর বর্ণনায় প্রত্যাবর্তনকালে প্রথমে 'আহল' শব্দ রয়েছে। উভয়ের বর্ণনায় রয়েছেঃ “আয় আল্লাহ! “আমি সফরের কষ্ট ক্লান্তি হতে তোমার কাছে পানাহ চাই।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৩৬, ইসলামীক সেন্টার)