মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিক সংখ্যায় এ দু'আ পড়তেনঃ “সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হাম্দিহী আস্তাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি"। অর্থাৎ "মহান পবিত্র আল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা তার জন্য। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমি তার কাছে তওবা করছি, অনুতপ্ত হচ্ছি।” রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে অধিক সংখ্যায় এ কথা বলতে দেখছিঃ “সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী আস্তাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি"। রাবী বলেন, তিনি বললেনঃ আমার মহান প্রতিপালক আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমি অচিরেই আমার উন্মাতের মধ্যে একটি নিদর্শন দেখতে পাব। যখন আমি সে আলামাত দেখতে পাই তখন অধিক সংখ্যায় এ দু'আ পাঠ করতে থাকিঃ "সুবহানাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী আসতাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি"। সে নিদর্শন সম্ভবত এই “ইযা- জা-আ নসরুল্ল-হি ওয়াল ফাতহ .....”। অর্থাৎ “যখন আল্লাহর সাহায্য আসবে এবং বিজয় লাভ হবে (অর্থাৎ- মক্কা বিজয়), তুমি দেখত পাবে, দলে দলে লোক আল্লাহর দীনে প্রবেশ করছে; তখন তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসা সহকারে তার তাসবীহ করে এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে তিনি খুবই তওবা গ্রহণকারী"- (সূরাহ আন নাসর)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাসান ইবনু ‘আলী আল হুলওয়ানী ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়য (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রুকু’তে কি পড়েন? তিনি বলেন, "সুবহা-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা"। অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমরা তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই।" কেননা ইবনু আবূ মুলাইকাহ আমাকে আয়িশার সূত্রে অবহিত করছেন যে, তিনি ['আয়িশাহ (রাযিঃ)] বলেছেন, একরাতে আমি ঘুম থেকে জেগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আমার কাছে পেলাম না। আমি ধারণা করলাম, তিনি হয়ত তার অপর কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। আমি তার খোঁজে বের হলাম, কিন্তু না পেয়ে ফিরে আসলাম। দেখি, তিনি রুকু' অথবা (রাবীর সন্দেহ) সাজদায় আছেন এবং বলছেনঃ "সুবহ-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা"। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আমি কি ধারণায় নিমজ্জিত হয়েছি, আর আপনি কি কাজে মগ্ন আছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বিছানায় পেলাম না। আমি তাকে খোঁজ করতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত তার উভয় পায়ের তালুতে গিয়ে ঠেকল। তিনি সাজদায় ছিলেন এবং তার পা দু’টো দাঁড় করানো ছিল। এ অবস্থায় তিনি বলেছেনঃ "আল্লাহুম্মা আউযু বিরিযা-কা মিন সাখাতিকা ওয়াবি মু'আ-ফা-তিক মিন উকবাতিকা ওয়া আউয়ুবিকা মিনকা লা- উহসি সানা-আন আলাইকা আনত কামা- আসনাইত আলা- নাফসিকা।” অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে তোমার সন্তুষ্টির আশ্রয় চাই। তোমার শাস্তি থেকে তোমার শান্তি ও স্বস্তির আশ্রয় চায়। আমি তোমার নিকট তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার প্রশংসার হিসাব করা আমার সম্ভব না। তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণনা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রুপ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ’ ও সাজদায় এ দু'আ পড়তেনঃ “সুব্বুহুন কুদদূসুন্ন রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়ার রূহু"। অর্থাৎ "সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 1092 — Sahih Muslim 4:254
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي قَتَادَةُ، قَالَ سَمِعْتُ مُطَرِّفَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنِي هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ .
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মা'দান ইবনু তালহাহ আল ইয়ামারী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম আমি বললাম, আমাকে একটি কাজের কথা বলে দিন যা করলে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেছেন, আমি আল্লাহর প্রিয়তম ও পছন্দনীয় কাজের কথা জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু তিনি চুপ থাকলেন। আমি পুনর্বার জিজ্ঞেস করলাম। এবারও তিনি নীরব থাকলেন। আমি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ তুমি আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে। কেননা তুমি যখনই আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করে দিবেন। মাদান বলেন, অতঃপর আমি আবূ দারদাহ (রাযিঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম সাওবান (রাযিঃ) আমাকে যা বলেছেন, তিনিও তাই বললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাকাম ইবনু মূসা আবূ সালিহ (রহঃ) ..... রাবী'আহ ইবনু কাব আল আসলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে রাত যাপন করছিলাম। আমি তার ওযুর পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দিতাম। তিনি আমাকে বললেনঃ কিছু চাও! আমি বললাম, জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন, এছাড়া আরো কিছু আছে কি? আমি বললাম, এটাই আমার আবেদন। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি অধিক পরিমাণে সিজদা করে তোমার নিজের স্বার্থেই আমাকে সাহায্য করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাতটি হাড়ের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং মাথার চুল ও কাপড় ধরে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসের এ বর্ণনাটি ইয়াহইয়ার। আবূ রাবী' তার বর্ণনায় বলেন, সাতটি হাড়ের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড় আটকিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। (সাতটি হাড় বা অঙ্গ হচ্ছে-) দু'হাতের তালু, দু'হাটু, দু’পা এবং কপাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমাকে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড়গুলোকে ঠেকিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 1097 — Sahih Muslim 4:259
حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أُمِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعٍ وَنُهِيَ أَنْ يَكْفِتَ الشَّعْرَ وَالثِّيَابَ " .
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড়গুলোকে গুটানো থেকে বারণ করা হয় (সালাতরত অবস্থায়)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)