হারূন ইবনু 'আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... যাহহাক ইবনু উসমান (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই عَوْرَةِ এর স্থলে عُرْيَةِ এর উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ- উলঙ্গ অবস্থায় পুরুষ পুরুষের দিকে এবং নারী নারীর দিকে তাকাতে পারবে না এবং একই বিছানায় ঘুমাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কয়েকটি হাদীসের উল্লেখ করে বলেন, এগুলো আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনী ইসরাঈলগণ উলঙ্গ হয়ে গোসল করত একে অপরের লজ্জাস্থানের দিকে দেখত। আর মূসা (আঃ) গোসল করতেন একাকী। তাই তারা বলাবলি করত, আল্লাহর কসম! মূসা আমাদের সাথে গোসল করে না কারণ তার একশিরা রোগ হয়েছে। একবার তিনি গোসল করতে গিয়ে একটি পাথরের ওপর তার কাপড় রাখলেন। এরপর পাথরটি তার কাপড় নিয়ে দৌড়াতে লাগল। রাবী বলেন, মূসা (আঃ) তার পিছু পিছু ছুটলেন আর বলতে লাগলেন, পাথর! আমার কাপড়, পাথর! আমার কাপড়। এমনিভাবে বনী ইসরাঈলগণ মূসা (আঃ)-এর লজ্জাস্থান দেখে ফেলল এবং তারা বলল, আল্লাহর কসম! মূসার তো কোন খুঁত নেই। এরপর পাথর দাঁড়িয়ে গেল এবং তাকে দেখে নিল। রাবী বলেন, এরপর তিনি তার কাপড় তুলে নিলেন এবং (রাগে) পাথরকে মারতে শুরু করে দিলেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! পাথরের ওপর মূসা (আঃ) এর আঘাতের ছয়টি কি সাতটি চিহ্ন রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মাইমূন ও ইসহাক ইবনু মানসূর ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কা'বাহ তৈরি করা হচ্ছিল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্বাস (রাযিঃ) পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আব্বাস (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন, পাথর বহনের সুবিধার্থে তোমার লুঙ্গি কাঁধের উপর তুলে নাও। এরপর তিনি এরূপ করলেন। সাথে সাথেই তিনি (বেহুশ হয়ে) মাটিতে পড়ে গেলেন। আর তার উভয় চোখ আকাশের দিকে নিবদ্ধ হল। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন, আমার লুঙ্গি আমার লুঙ্গি। এরপর তার লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল। ইবনু রাফি তার রিওয়ায়াতে কাঁধের স্থলে ঘাড়ের উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ)... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে কা'বাহ মেরামতের জন্যে পাথর বয়ে নিচ্ছিলেন। আর তার পরনে ছিল লুঙ্গি। এরপর তার চাচা আব্বাস (রাযিঃ) তাকে বললেন, ভাতিজা! তোমার লুঙ্গি খুলে যদি কাঁধের উপর পাথরের নিচে রেখে নিতে (তাহলে ভাল হত)। তিনি লুঙ্গি খুলে তার কাঁধের ওপর রাখলেন। সাথে সাথেই তিনি বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন। জাবির (রাযিঃ) বলেন, সেদিনের পর থেকে আর কখনো তাকে উলঙ্গ দেখা যায়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
সাঈদ ইবনু ইয়াহইয়া আল উমাবী (রহঃ) ..... মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি ভারী পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আর তখন আমার পরনে ছিল একটি পাতলা লুঙ্গি। তিনি বলেন, এরপর আমার লুঙ্গি খুলে গেল। পাথরটি তখন আমার কাছে ছিল। তাই আমি লুঙ্গি তুলে নিতে পারলাম না। এমনিভাবে আমি পাথরটি যথাস্থানে নিয়ে গেলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাপড়ের কাছে ফিরে গিয়ে তা নিয়ে এসো। আর কখনো উলঙ্গ হয়ে চলবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু জাফার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার সওয়ারীর পিছন দিকে বসালেন এবং আমাকে চুপে চুপে এমন একটি কথা বললেন যা আমি কাউকে কখনও বলব না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সমাধা করার সময় উঁচু টিলা অথবা ঘন গাছগাছালির দ্বারা ঢাকা স্থানকে সবচেয়ে বেশী পছন্দ করতেন। ইবনু আসমা তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, অর্থাৎ খেজুর বাগানের আড়ালে মানবীয় প্রয়োজন সমাধা করাটাই বেশি পছন্দ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 775 — Sahih Muslim 3:97
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ - قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنْ شَرِيكٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي نَمِرٍ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الاِثْنَيْنِ إِلَى قُبَاءٍ حَتَّى إِذَا كُنَّا فِي بَنِي سَالِمٍ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَابِ عِتْبَانَ فَصَرَخَ بِهِ فَخَرَجَ يَجُرُّ إِزَارَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْجَلْنَا الرَّجُلَ " . فَقَالَ عِتْبَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يُعْجَلُ عَنِ امْرَأَتِهِ وَلَمْ يُمْنِ مَاذَا عَلَيْهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ " .
ইয়াহইয়াহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান ইবনু আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) তার পিতা আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেছেন, কোন এক সোমবারে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কুবা এলাকার দিকে গেলাম। আমরা বানু সালিম গোত্রের মহল্লায় পৌছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতবান এর বাড়ীর গেইটে দাঁড়ালেন এবং তাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি পরনের লুঙ্গি হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হয়ে আসলেন। এ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা কি লোকটিকে তাড়াহুড়োয় ফেলে দিলাম? তখন ইতবান বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের সময় তাড়াহুড়ো করে এবং তাতে বীর্যপাত না হয় তখন তাকে কি করতে হবে? (অর্থাৎ তাকে গোসল করতে হবে কিনা?) জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বস্তুত বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করতে হবে*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পানির (ধাতু বের হলে) দ্বারা পানি (গোসল) ফরয হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 777 — Sahih Muslim 3:99
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَلاَءِ بْنُ الشِّخِّيرِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْسَخُ حَدِيثُهُ بَعْضُهُ بَعْضًا كَمَا يَنْسَخُ الْقُرْآنُ بَعْضُهُ بَعْضًا .
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... আবূল আলা ইবনু শিখখীর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক হাদীস অপর হাদীসকে মানসুখ (রহিত) করে দিত যেমনিভাবে কুরআনের এক আয়াত অপর আয়াতকে মানসুখ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না এবং ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর (বাড়ীর) সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সংবাদ পাঠালেন। সে বেরিয়ে এলো আর তার মাথা থেকে তখন ফোটা ফোটা পানি ঝরছিল। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলেছি। সে বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, যখন (কোন কারণে) তোমাকে তাড়াতাড়ি (বীর্য বের হবার আগেই উঠে পড়তে হয়) অথবা বীর্য বের হতে বাধাপ্রাপ্ত হও তখন তোমার উপর গোসল করা (ফরয) নয় বরং তোমার উপর শুধু ওযু করা জরুরী। আর ইবনু বাশশার বলেন, যখন তোমাকে তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলা হয়েছে। বা তোমাকে বীর্যপাত করতে বাধা দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)