আহমাদ ইবনু সাঈদ আদ দারিমী (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল যে, আমি তুহুর-এর (হায়িয থেকে পবিত্রতার) সময় কিভাবে গোসল করব তিনি বললেন, এক টুকরো সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা নিবে তারপর তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। এরপর সুফইয়ানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আসমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হায়িযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ পানি এবং বরই এর পাতা নিয়ে সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভালভাবে নাড়াচড়া করবে যাতে পানি সমস্ত চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌছে যায়। তারপর তার উপর পানি ঢেলে দিবে। তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় নিয়ে তার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বলল, তা দিয়ে সে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে। অতঃপর আয়িশাহ (রাযিঃ) তাকে যেন চুপি চুপি বলে দিলেন, রক্ত বের হবার জায়গায় তা বুলিয়ে দিবে। সে অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, পানি নিয়ে তার দ্বারা সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভাল করে নাড়াচড়া করবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌছে যায়। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিবে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আনসারদের মহিলারা কত ভাল লজ্জা তাদেরকে দীন এর জ্ঞান থেকে ফিরিয়ে রাখে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) .... শুবাহ হতে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা লাভ করবে। অতঃপর তিনি আড়াল করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনতু শাকাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ যখন হায়িয থেকে পবিত্র হবে তখন সে কিভাবে গোসল করবে? এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসটির মধ্যে অপবিত্রতার গোসলের কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন ইসতিহাযাহ বা রক্তপ্রদর রোগগ্রস্ত নারী। কখনো এ রোগ থেকে মুক্ত হই না। তাই আমি এ সালাত আদায় করা কি ছেড়ে দিব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ না, তুমি সালাত আদায় ছাড়বে না। কেননা, এ হায়িয না বরং একটি শিরা-নিঃসৃত রক্ত। তাই যখন হায়িয দেখা দিবে তখন শুধু সালাত আদায় করবে না। আর যখন হায়িয ভাল হয়ে যাবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলে গোসল করে পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ ইবনু আবদুল মুত্তালিব ইবনু আসাদ যিনি আমাদের বংশের একজন মহিলা ছিলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। আর হাম্মাদ ইবনু যায়দ এর হাদীসে একটা অক্ষর অতিরিক্ত ছিল, আমরা তা উল্লেখ করিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মাসআলা জানতে চেয়ে বলল, আমার ইসতিহাযাহ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটা হল একটা রগের (ধমনী) রক্ত। তাই তুমি গোসল করে ফেলবে তারপর সালাত আদায় করবে। এরপর সে প্রতি সালাতের সময়ই গোসল করত। রাবী লায়স ইবনু সা'দ বলেন, ইবনু শিহাব এ কথা উল্লেখ করেননি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হাবীবাহকে প্রত্যেক সালাতের সময়ই গোসলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বরং এটা সে নিজের থেকেই করত। ইবনু রূমহ তার বর্ণনায় জাহশের কন্যার কথা বলেছেন, উম্মু হাবীবার নাম উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 756 — Sahih Muslim 3:78
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ - خَتَنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ - اسْتُحِيضَتْ سَبْعَ سِنِينَ فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَلَكِنَّ هَذَا عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ فِي مِرْكَنٍ فِي حُجْرَةِ أُخْتِهَا زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حَتَّى تَعْلُوَ حُمْرَةُ الدَّمِ الْمَاءَ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَحَدَّثْتُ بِذَلِكَ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ فَقَالَ يَرْحَمُ اللَّهُ هِنْدًا لَوْ سَمِعَتْ بِهَذِهِ الْفُتْيَا وَاللَّهِ إِنْ كَانَتْ لَتَبْكِي لأَنَّهَا كَانَتْ لاَ تُصَلِّي .
মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শ্যালিকা এবং আবদুর রহমান ইবনু আওফ এর স্ত্রী হাবীবাহ বিনতু জাহশ সাত বৎসর যাবৎ ইসতিহাযার রোগী ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এ ব্যাপারে মাসআলা জানতে চাইলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা হায়িয নয়; বরং ধমনীর (রগের) রক্ত। তাই তুমি গোসল করে ফেল এবং সালাত আদায় কর। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এরপর তিনি তার বোন যাইনাব বিনতু জাহশ এর ঘরে একটি পাত্রের মধ্যে বসে গোসল করতেন। এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেত। ইবনু শিহাব বলেন, আমি এ হাদীসটি আবূ বকর ইবনু আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশাম এর কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা হিন্দ এর ওপর রহমত করুন। সে যদি এ ফাতাওয়া (মাসআলাহ) শুনতে পেত। আল্লাহর কসম! সে শুধু কাঁদত। কারণ সে সালাত আদায় করত না (এ মাসআলা তার জানা ছিল না। ফলে সালাত আদায় করতে না পারার কারণে কাঁদত)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ ইমরান মুহাম্মাদ ইবনু জা'ফার ইবনু যিয়াদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো। আর সাত বৎসর ধরে তার ইসতিহাযাহ চলছিল। এরপর রাবী আবূ ইমরান আমর ইবনুল হারিসের হাদীসের অনুরূপ "এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেত" পর্যন্ত বর্ণনা করেন এর পরবর্তী অংশ তিনি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)