আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভাষণ দিতে শুনেছিঃ সাথে মাহরাম পুরুষ না থাকা অবস্থায় কোন পুরুষ লোক যেন কোন মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ না করে। কোন স্ত্রীলোক যেন সাথে কোন মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকী সফর না করে। এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে এবং আমাকে অমুক সৈন্য বাহিনীতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে- যা অমুক স্থানে যুদ্ধে যাবে। তিনি বললেন, তুমি চলে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেইঃ "কোন পুরুষ লোক যেন কোন মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ না করে, কিন্তু তার সাথে তার কোন মাহরাম পুরুষ থাকলে স্বতন্ত্র কথা।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪০, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও সফরের উদ্দেশে তার উটে আরোহণের সময় তিনবার "আল্ল-হু আকবার" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলতেন, এরপর যে দু'আ পাঠ করতেন তার অর্থ এইঃ “পবিত্র মহান সে সত্তা- যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ। আমাদের এ সফরে আমরা তোমার নিকট কল্যাণ, তাকওয়া এবং তোমার সন্তুষ্টি বিধানকার কাজের তাওফীক চাই। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফর আমাদের জন্য সহজ করে দাও এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই (আমাদের) সফরসঙ্গী এবং পরিবারের তত্ত্বাবধানকারী। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং ফিরে এসে সম্পদ ও পরিবারের ক্ষতিকর পরিবর্তন থেকে।" এরপর তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখনও উপরোক্ত দুআ পড়তেন এবং এর সাথে যোগ করতেনঃ (অর্থ) “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের প্রতিপালকের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী”। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪১, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর করতেন তখন আশ্রয় প্রার্থনা করতেন সফরের কষ্ট থেকে, দুঃখজনক প্রত্যাবর্তন থেকে, সুখময় অবস্থার পর দুঃখময় অবস্থায় পতিত হওয়া থেকে, মাযলুমের বদদুআ থেকে এবং সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের ক্ষতিকর দৃশ্য অবলোকন থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আসিম আল-আহওয়াল (রহঃ) থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য 'আবদুল ওয়াহিদের বর্ণনায় "ফীল মাল ওয়াল আহল" এবং মুহাম্মাদ ইবনু হাযম এর বর্ণনায় প্রত্যাবর্তনকালে প্রথমে 'আহল' শব্দ রয়েছে। উভয়ের বর্ণনায় রয়েছেঃ “আয় আল্লাহ! “আমি সফরের কষ্ট ক্লান্তি হতে তোমার কাছে পানাহ চাই।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদ, অভিযান, হাজ্জ (হজ্জ/হজ) অথবা উমরাহ করে ফিরে আসার সময় যখন কোন উচু টিলা বা কংকরময় উচ্চভূমিতে আরোহণ করতেন তখন তিনবার "আল্ল-হু আকবার" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) ধ্বনি দিতেন, এরপর এ দু'আ পড়তেন। (অর্থ) "আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একক, তার কোন শারীক নেই। তারই রাজত্ব (বা সার্বভৌমত্ব), তার জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (আমরা) প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকার, আমাদের প্রতিপালককে সিজদাকারী ও প্রশংসাকারী। আল্লাহ তার ওয়াদা পুরন করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৪, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু উমার ও ইবনু রাফি (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। শুধুমাত্র আইয়ুবের বর্ণনায় দু’বার তাকবীরের কথা উল্লেখ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৫, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আবূ তলহাহ্ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং সফিয়্যাহ্ (রাযিঃ) তার উষ্ট্রীর পিঠে পেছনে সওয়ার ছিলেন। আমরা যখন মাদীনাহ শহরতলীতে পৌছলাম তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'আ পড়লেনঃ (অর্থ) “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের প্রভুর ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী।” আমরা মাদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি অবিরত এ দু'আ পড়তে থাকতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৬, ইসলামীক সেন্টার)