وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، أَخِي وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بَيْدَ أَنَّهُمْ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا وَأُوتِينَاهُ مِنْ بَعْدِهِمْ وَهَذَا يَوْمُهُمُ الَّذِي فُرِضَ عَلَيْهِمْ فَاخْتَلَفُوا فِيهِ فَهَدَانَا اللَّهُ لَهُ فَهُمْ لَنَا فِيهِ تَبَعٌ فَالْيَهُودُ غَدًا وَالنَّصَارَى بَعْدَ غَدٍ " .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমরা সবশেষে আগত উম্মাত কিন্তু হিদায়াতের দিন থাকব সবার অগ্রবর্তী। অথচ তাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের আগে এবং আমাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের পরে। এটি তাদের সেদিন যা তাদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছিল, কিন্তু তারা এ দিনটি সম্পর্কে মতভেদে লিপ্ত হ'ল। আল্লাহ আমাদেরকে দিনটির ব্যাপারে হিদায়াত দান করেছেন। অতএব, তারা আমাদের পশ্চাদগামী, ইয়াহুদীরা পরের দিন (শনিবার) এবং খৃষ্টানরা তারও পরের দিন (রবিবার)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৫১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব ও ওয়াসিল ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ আমাদের পূর্ববতীদেরকে জুমুআর দিন সম্পর্কে সঠিক পথের সন্ধান দেননি বিরোধে লিপ্ত হওয়ার কারণে। তাই ইয়াহুদীদের জন্য শনিবার এবং খৃষ্টানদের জন্য রবিবার জুমুআহ নির্ধারিত হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে (পৃথিবীতে) আনলেন এবং আমাদেরকে জুমুআর দিনের সঠিক সন্ধান দিলেন। অতএব তিনি জুমু'আর দিন, শনিবার ও রবিবার এভাবে (বিন্যাস) করলেন, এভাবে তারা কিয়ামতের দিন আমাদের পশ্চাদবর্তী হবে। আমরা পৃথিবীবাসীর মধ্যে শেষে আগমনকারী উম্মত এবং কিয়ামতের দিন হ’ব সর্বপ্রথম। যাদের সমগ্র সৃষ্টির সর্বপ্রথম বিচার অনুষ্ঠিত হবে। অধস্তন বর্ণনাকার ওয়াসিল এর বর্ণনায় আছে "সকলের মধ্যে"। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৫২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হুযায়ফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদেরকে জুমুআর দিন সম্পর্কে সঠিক পথের সন্ধান দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দেননি। ..... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা বর্ণনাকারী ইবনু ফুযায়ল এর বর্ণনার অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৫৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূত ত্বহির, হারমালাহ ও আমর ইবনু সাওওয়াদ আল আমির (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমুআর দিন এলে মসজিদে যতগুলো দরজা আছে তার প্রতিটিতে মালাকগণ (ফেরেশতারা) নিযুক্ত হন এবং তারা আগমনকারীদের নাম ক্রমানুসারে নথি বন্ধ করেন। ইমাম যখন (মিম্বারে) বসেন তখন তারা নথিপত্র গুটিয়ে নিয়ে আলোচনা শোনায় চলে আসেন মসজিদে সর্বপ্রথম আগমনকারী মুসল্লী উট কুরবানীকারীর সমতুল্য, তৎপরে আগমনকারী গরু কুরবানীকারীর সমতুল্য, তৎপরে আগমনকারী মেষ কুরবানীকারীর সমতুল্য, অতঃপর আগমনকারী মুরগী কুরবানীকারীর সমতুল্য, তৎপরে আগমনকারী ডিম দানকারীর সমতুল্য নেকী পাবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1985 — Sahih Muslim 7:35
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) নবী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মসজিদের দরজাগুলোর প্রতিটিতে একজন করে মালায়িকাহ নিয়োজিত থাকেন। তিনি আগমনকারীদের নাম (তাদের আগমনের) ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করেন। মসজিদে সর্বপ্রথম আগমনকারী উট কুরবানীকারীর সমতুল্য ..... এভাবে পর্যায়ক্রমে তুলনা করা হয়েছে, এমনকি একটি ডিমের মতো ক্ষুদ্র বস্তু দানের তুলনা দিয়েছেন। ইমাম যখন (খুতবাহ দেয়ার উদ্দেশে মিম্বারে) বলেন তখন নথিপত্র গুটিয়ে ফেলা হয় এবং মালাকগণ (ফেরেশতামণ্ডলী) খুতবার আলোচনা শুনতে হাজির হন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
উমাইয়্যাহ ইবনু বিস্তাম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি গোসল করে জুমুআর সালাতে আসল, অতঃপর সাধ্যমত (সুন্নাত) সালাত আদায় করল, অতঃপর ইমামের খুতবাহ শেষ হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকল, অতঃপর ইমামের সাথে (জুমুআর) সালাত আদায় করল, এতে তার দু' জুমুআর মধ্যকার দিনসমূহের এবং আরো তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করার পর জুমুআর সালাতে এলো, নীরবে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শুনল, তার পরবর্তী জুমুআহ পর্যন্ত এবং আরো অতিরিক্ত তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি (অহেতুক) কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক, বাতিল, ঘৃণিত ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য কাজ করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জুমুআর সালাত আদায় করতাম, অতঃপর ফিরে আসতাম এবং আমাদের উষ্ট্রীগুলোকে বিশ্রাম দিতাম। অধস্তন বর্ণনাকারী হাসান বলেন, আমি উধ্বতন বর্ণনাকারী জাফার কে বললাম, সেটা কোন সময় হ’ত? তিনি বলেন, সূর্য চলে যাওয়ার সময়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা, আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... আবূ জাফার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মুহুর্তে জুমুআর সালাত আদায় করতেন? তিনি বলেন, তিনি সালাত শেষ করার পর আমরা আমাদের উটের পালের নিকট যেতাম এবং সেগুলোকে বিশ্রাম দিতাম। অধস্তন বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ (রহঃ) এর বর্ণনায় আরো আছেঃ যখন সূর্য ঢলে যেত, অর্থাৎ- পানিবাহী উটগুলো (বিশ্রাম নিত)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৬০, ইসলামীক সেন্টার)