মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং তখন আবদুর রহমান ইবনুল হাকাম বসা অবস্থায় খুতবাহ দিচ্ছিলেন। কা'ব (রাযিঃ) বলেন, তোমরা এ নরাধমের প্রতি লক্ষ্য কর, সে বসে বসে খুতবাহ দিচ্ছে*। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ "এবং যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুকের বিষয়, তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল- (সূরাহ আল জুমুআহ ৬২ঃ ১১)।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭১, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার ও আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার মিম্বারের সিড়িতে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেনঃ যারা জুমুআর সালাত ত্যাগ করে তাদেরকে এ অভ্যাস বর্জন করতে হবে। নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে সীল মেরে দিবেন, অতঃপর তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2003 — Sahih Muslim 7:53
حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَتْ صَلاَتُهُ قَصْدًا وَخُطْبَتُهُ قَصْدًا .
হাসান ইবনুর রাবী’ ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতাম। তার সালাত ও খুতবাহ ছিল মধ্যম (দীর্ঘও নয় অতি সংক্ষিপ্তও নয়)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বহু ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছি। তার সালাতও ছিল সংক্ষিপ্ত এবং তার খুতবাহও ছিল মধ্যম। অধস্তন বর্ণনাকারী আবূ বাকর যাকারিয়্যা-এর বর্ণনায় আছেঃ সিমাক থেকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবাহ (ভাষণ) দিতেন যখন তার চক্ষুদ্বয় রক্তিম বর্ণ ধারণ করত, কণ্ঠস্বর জোরালো হ'ত এবং তার রাগ বেড়ে যেত, এমনকি মনে হ’ত, তিনি যেন শত্রুবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন আর বলছেনঃ তোমরা ভোরেই আক্রান্ত হবে, তোমরা সন্ধ্যায়ই আক্রান্ত হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলতেনঃ আমি ও কিয়ামত এ দুটির ন্যায় (স্বল্প ব্যবধান) প্রেরিত হয়েছি, তিনি মধ্যম ও তর্জনী আঙ্গুল মিলিয়ে দেখাতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলতেনঃ অতঃপর উত্তম বাণী হ'ল- আল্লাহর কিতাব এবং উত্তম পথ হ’ল মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রদর্শিত পথ। অতীব নিকৃষ্ট বিষয় হ’ল (ধর্মের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবন (বিদ'আত)। প্রতিটি বিদ'আদ ভ্রষ্ট। তিনি আরো বলতেনঃ আমি প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তির জন্য তার নিজের থেকে অধিক উত্তম (কল্যাণকামী)। কোন ব্যক্তি সম্পদ রেখে গেলে তা তার পরিবার-পরিজনের প্রাপ্য। আর কোন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে গেলে সেগুলোর দায়িত্ব আমার। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিন আল্লাহর প্রশংসা ও তার গুণগান করে তার খুতবাহ (ভাষণ) শুরু করতেন, অতঃপর প্রয়োজনীয় কথা বলতেন। (ভাষণে) তাঁর কণ্ঠস্বর জোরালো হ’ত ..... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশে প্রদত্ত খুতবায় আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা ও গুণগান করতেন, অতঃপর বলতেনঃ আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ বিপথগামী করতে পারে না এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। সর্বোত্তম বাণী হ’ল আল্লাহর কিতাব, ... অতঃপর হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা সাকাফী বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যিমাদ মাক্কায় আগমন করেন। তিনি আযদ শানুয়াহ গোত্রের সদস্য। তিনি বাতাস লাগার ঝাড়ফুঁক করতেন। তিনি মাক্কার কতক নির্বোধকে বলতে শুনলেন, মুহাম্মাদ নিশ্চয়ই উম্মাদ। যিমাদ বলেন, আমি যদি লোকটিকে দেখতাম তাহলে আল্লাহ হয়ত আমার হাতে তাকে আরোগ্য দান করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার সাথে সাক্ষাত করে বলেন, হে মুহাম্মাদ! আমি এসব বাতাস লাগার ঝাড়ফুঁক করি। আল্লাহ যাকে চান তাকে আমার হাতে আরোগ্য দান করেন। আপনি কি ঝাড়ফুক করাতে চান? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি তার প্রশংসা করি, তার সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, কেউ তাকে বিপথগামী করতে পারে না এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন, কেউ তাকে হিদায়াত দান করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শারীক নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রসূল। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বললেন, আপনি এ কথাগুলো আমাকে পুনরায় শুনান। অতএব, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কথাগুলো তাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করে শুনান। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলল, আমি অনেক গণক, যাদুকর ও কবির কথা শুনেছি, কিন্তু আপনার এ কথাগুলোর অনুরূপ কথা আমি শুনিনি। এ কথাগুলো সমুদ্রের গভীরে পৌছে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলেন, আপনার হাত প্রসারিত করুন, আমি আপনার নিকট ইসলামের বায়’আত গ্রহণ করব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে বায়’আত করালেন (ইসলাম গ্রহণ করালেন)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও কি (বায়’আত প্রযোজ্য)? যিমাদ বলেন, আমার সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ক্ষুদ্র সামরিক বাহিনী (সারিয়্যা) প্রেরণ করলে তারা তার সম্প্রদায়ের এলাকা দিয়ে অতিক্রম করে। তখন বাহিনী প্রধান সৈন্যবাহিনীকে বলেন, তোমরা কি এদের থেকে কিছু গ্রহণ করেছ? দলের একজন বলল, আমি তাদের থেকে একটি পানি পাত্র নিয়েছি। সেনা নায়ক বলেন, তোমরা সেটি ফেরত দাও। কারণ তারা যিমাদ-এর সম্প্রদায় (তাদের কিছুই গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কেননা যিমাদ নিজে এবং নিজের সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বায়’আত গ্রহণ করেছেন)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আম্মার (রাযিঃ) আমাদের উদ্দেশে সংক্ষেপে একটি সারগর্ভ ভাষণ দিলেন। তিনি মিম্বার থেকে নামলে আমরা বললাম, হে আবূল ইয়াকযান। আপনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ভাষণ দিয়েছেন, তবে যদি তা কিছুটা দীর্ঘ করতেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তির দীর্ঘ সালাত ও সংক্ষিপ্ত ভাষণ তার প্রজ্ঞার পরিচায়ক। অতএব, তোমরা সালাতকে দীর্ঘ এবং ভাষণকে সংক্ষিপ্ত কর। অবশ্যই কোন কোন ভাষণে যাদুকরি প্রভাব থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2010 — Sahih Muslim 7:60
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، أَنَّ رَجُلاً، خَطَبَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ رَشِدَ وَمَنْ يَعْصِهِمَا فَقَدْ غَوَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بِئْسَ الْخَطِيبُ أَنْتَ . قُلْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ " . قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ فَقَدْ غَوِيَ .
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ভাষণ দিল। সে বলল, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্য করে সে সঠিক পথ পেল। আর যে ব্যক্তি তাদের অবাধ্যচরণ করল, সে পথভ্রষ্ট হ'ল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি নিকৃষ্ট বক্তা, তুমি এভাবে বল, "যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করল ও রসূলের অবাধ্যতা করল।" ইবনু নুমায়র বলেন, "পথভ্রষ্ট হ'ল"। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৮০, ইসলামীক সেন্টার)