মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (বহঃ) ..... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার প্রতি অধিক কান্নাকাটি করার দরুন কবরে 'আযাব দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2144 — Sahih Muslim 11:22
وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ، بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِمَا نِيحَ عَلَيْهِ " .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার প্রতি অধিক কান্নাকাটি করার দরুন কবরে আযাব দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন, নেই, ইসলামীক সেন্টার, নেই)
‘আলী ইবনু হুজুর আস সা’দী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উমর (রাযিঃ) (আততায়ীর আঘাতে) আহত হন এবং সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। লোকেরা চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করল। যখন তার জ্ঞান ফিরে এল, তিনি বললেন, তোমরা কি জান না রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মৃত ব্যক্তিকে জীবিতদের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৩ ইসলামীক সেন্টার)
আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উমর (রাযিঃ) গুরুতরভাবে আহত হন, সুহায়ব (রাযিঃ) আক্ষেপ করে বলতে লাগলেন, আহ! ভাই উমার! উমর (রাযিঃ) তাকে বললেন, হে সুহায়ব! তোমার কি মনে নেই, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে জীবিততদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয় হয়? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৪, ইসলামীক সেন্টার)
‘আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ...... আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উমার (রাযিঃ) গুরুতরভাবে আহত হন, সুহায়ব (রাযিঃ) তার গৃহ থেকে রওয়ানা হয়ে উমারের কাছে এলেন এবং তার সামনে দাড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। উমর (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন কাঁদছ, আমার জন্য কাঁদছ? তিনি বললেন, কসম আল্লাহর। হে আমীরুল মু'মিনীন। হ্যাঁ, আপনার জন্যই কাঁদছি। 'উমার (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! তুমি তো অবশ্যই জান রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার জন্য কান্নাকাটি করা হবে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৫, ইসলামীক সেন্টার ২০২২) তিনি [আবূ মূসা (রাযিঃ)] বলেন, এরপর আমি এ কথাটি মূসা ইবনু তলহার কাছে বললাম। তিনি বললেন, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলতেন, যাদের আযাবের কথা বলা হয়েছে, তারা ছিল ইয়াহুদী সম্প্রদায়।
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) যখন আহত হলেন, হাফসাহ (রাযিঃ) সশব্দে কাঁদতে লাগলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, ওগো হাফসাহু তুমি কি শোননি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার জন্য উচ্চস্বরে ক্ৰন্দন করা হয় তাকে শাস্তি দেয়া হবে? তার প্রতি সুহায়ব (রাযিঃ)-ও কাঁদতে থাকলে উমর (রাযিঃ) তাকেও বললেন, হে সুহায়ব! তুমি কি জান না যার জন্য চিৎকার করে বান্নাকাটি করা হয় তাকে আযাব দেয়া হবে? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৬, ইসলামীক সেন্টার)
অতঃপর আমি উঠে গিয়ে আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম এবং তাকে ইবনু উমার (রাযিঃ) এর উক্তি সম্পর্কে জানালে তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও এরূপ বলেননি যে, মৃত ব্যক্তিকে কারো কান্নার দরুন আযাব দেয়া হবে বরং তিনি বলেছেন, কাফির ব্যক্তির আযাব আল্লাহ তা'আলা তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আরও বাড়িয়ে দেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহই হাসান এবং কাঁদান। "আর কোন বহনকারীই অন্যের বোঝা বহন করবে না"- (সূরাহ আল ইসরা/ ইসরাঈল ১৭ঃ ১৫)। আইয়ূব (রহঃ) বলেন, ইবনু আবূ মুলায়কাহ বলেছেন, আমাকে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ জানিয়েছেন, তিনি বলেন, 'আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট যখন উমর (রাযিঃ) ও ইবনু উমার-এ বক্তব্য পৌছল তখন তিনি বললেন, তোমরা আমাকে এমন দু' ব্যক্তির কথা শুনাচ্ছ, যারা মিথ্যাবাদী নন আর তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নও করা যায় না। তবে কখনও শুনতে ভুল হয়ে যেতে পারে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৭. ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, উমর (রাযিঃ) ইনতিকাল করলে আমি অত্র হাদীসটি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট ব্যক্ত করলাম। তিনি বললেন, উমর (রাযিঃ) কে আল্লাহ রহমত করুন। কখনও না আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও এমন হাদীস ব্যক্ত করেননি যে, ঈমানদার ব্যক্তিকে কারো কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হবে। বরং তিনি বলেছেনঃ কাফির ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আল্লাহ তা'আলা তার আযাবকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। এছাড়া আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বলেছেন, তোমাদের জন্য আল্লাহর কুরআনই যথেষ্ট। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, “কোন ব্যক্তিই অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না।" বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, "এবং আল্লাহই হাসান, আল্লাহই কাঁদান।” ইবনু আবূ মুলায়কাহ বলেন, আল্লাহর কুসম! ইবনু উমর (রাযিঃ) এর ওপর আর কোন কথাই বলেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহঃ) ..... ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমরা উম্মু আবান বিনতু উসমান (রাযিঃ) এর যামানায় উপস্থিত হলাম। অবশিষ্ট বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ তবে তিনি এ হাদীস ইবনু উমার-এর সূত্রে সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু আইয়ুব ও ইবনু জুরায়জ এটাকে মারফু' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের বর্ণনা আমর-এর বর্ণনার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2152 — Sahih Muslim 11:30
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنَّحَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَىِّ " .
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২০, ইসলামীক সেন্টার)