খালাফ ইবনু হিশাম ও আবুর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে ইবনু উমারের বক্তব্য "মৃত ব্যক্তিকে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়" উল্লেখ করা হ'ল। তিনি বললেন, আল্লাহ আবূ আবদুর রহমানের (ইবনু উমর) প্রতি রহমত করুন। তিনি একটা কথা শুনেছেন, তবে স্মরণ রাখতে পারেননি। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দিয়ে এক ইয়াহুদীর জানাযাহ যাচ্ছিল। তখন তার আত্মীয় স্বজনরা কাঁদছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কাঁদছ? অথচ তাকে এজন্য আযাব দেয়া হচ্ছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম তার পিতা [উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর নিকট উল্লেখ করা হ'ল, ইবনু উমর (রাযিঃ) সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, "মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।" তিনি বললেন, ইবনু উমার (রাযিঃ) ভুলে গেছেন। আসলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কথা বলেছেন তা হচ্ছে এইঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পাপের দরুন কবরে শাস্তি দেয়া হয়। আর তার পরিবার-পরিজনেরা তার জন্য কান্নাকাটি করছে। আর এটা হচ্ছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বদরের একটা কুপের পাশে দাঁড়িয়ে যাতে বদরের দিন নিহত কাফিরদের লাশ নিক্ষিপ্ত হয়েছিল- তাদেরকে সম্বোধন করে যেরূপ বলেছিলেন। তিনি তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন, তারা অবশ্যই আমি যা কিছু বলছি তা শুনতে পাচ্ছে অথচ তিনি (ইবনু উমার) এ কথার অর্থ ভুল বুঝেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছেন তার সঠিক তাৎপর্য হচ্ছে এইঃ আমি যা কিছু তাদেরকে তাদের জীবদ্দশায় বলেছিলাম, তারা এখন ভালভাবে তা অনুধাবন করেছে যে, তা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও সত্য। অতঃপর তিনি (আয়িশাহ) এ দু'টি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ "আপনি অবশ্যই মৃত ব্যক্তিদেরকে শুনাতে সক্ষম নন"- (সূরাহ আন নামল ২৭ঃ ৭০, সূরাহ রুম ৩০ঃ ৫২)। এবং "আপনি কবরের অধিবাসীদেরকেও শুনাতে সক্ষম নন"- (সূরাহ ফা-ত্বির ৩৫ঃ ২২২)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটা তখন বলেছিলেন তখন তারা জাহান্নামে নিজ ঠিকানায় পৌছে গেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২২, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আমরাহ বিনতু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে শুনেছেন যখন তার কাছে উল্লেখ করা হ'ল যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ আবূ আবদুর রহমানকে (ইবনু উমার) ক্ষমা করুন, কথাটা ঠিক নয়। তবে তিনি মিথ্যা বলেননি। বরং তিনি (প্রকৃত কথাটা) ভুলে গেছেন অথবা ভুল বুঝেছেন। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদী নারীর করের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন তার জন্য কান্নাকাটি করা হচ্ছে। তিনি বললেন, তারা এর জন্য কান্নাকাটি করছে আর এ নারীকে তার কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আলী ইবনু রবী'আহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির প্রতি বিলাপ করা হয়েছে, সে হচ্ছে কুফা নগরীর কারাযাহ ইবনু কা'ব। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যার জন্য বিলাপ করে কান্না হয়, কিয়ামতের দিন তাকে এর জন্য আযাব দেয়া হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2158 — Sahih Muslim 11:36
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قَيْسٍ، الأَسْدِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ الأَسْدِيِّ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
আলী ইবনু হুজর আস সা’দী (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2159 — Sahih Muslim 11:37
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ، الطَّائِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... আবূ মালিক আল আশ'আর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উন্মাতের মধ্যে জাহিলী যুগের চারটি কু-প্রথা রয়ে গেছে যা লোকেরা পরিত্যাগ করতে চাইবে না। (১) বংশের গৌরব, (২) অন্যকে বংশের খোটা দেয়া, (৩) নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা, (৪) মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা। তিনি আরও বলেন, বিলাপকারী যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করে তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে এভাবে উঠানো হবে যে, তার গায়ে আলকাতরার (চাদর) খসখসে চামড়ার ওড়না থাকবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2161 — Sahih Muslim 11:39
وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ أَخْبَرَتْنِي عَمْرَةُ، أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ، تَقُولُ لَمَّا جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَتْلُ ابْنِ حَارِثَةَ وَجَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْرَفُ فِيهِ الْحُزْنُ قَالَتْ وَأَنَا أَنْظُرُ مِنْ صَائِرِ الْبَابِ - شَقِّ الْبَابِ - فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ نِسَاءَ جَعْفَرٍ وَذَكَرَ بُكَاءَهُنَّ فَأَمَرَهُ أَنْ يَذْهَبَ فَيَنْهَاهُنَّ فَذَهَبَ فَأَتَاهُ فَذَكَرَ أَنَّهُنَّ لَمْ يُطِعْنَهُ فَأَمَرَهُ الثَّانِيَةَ أَنْ يَذْهَبَ فَيَنْهَاهُنَّ فَذَهَبَ ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ وَاللَّهِ لَقَدْ غَلَبْنَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَتْ فَزَعَمَتْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اذْهَبْ فَاحْثُ فِي أَفْوَاهِهِنَّ مِنَ التُّرَابِ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ أَرْغَمَ اللَّهُ أَنْفَكَ وَاللَّهِ مَا تَفْعَلُ مَا أَمَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا تَرَكْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْعَنَاءِ .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আমরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি 'আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ) জাফর ইবনু আবূত তলিব (রাযিঃ) ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ (রাযিঃ) এর শাহাদাতের খবর পৌছল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিমর্ষচিত্তে বসে পড়লেন। তার চেহারায় শোকের ছাপ ফুটে উঠল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি দরজার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তাদের লাশ দেখছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! জাফার এর স্ত্রীগণ অথবা তার পরিবারের মহিলার কান্নাকাটি করছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গিয়ে তাদেরকে কাঁদতে নিষেধ করার জন্য আদেশ করলেন। লোকটি গিয়ে ফিরে এসে জানাল যে, তারা তার কথা শুনছে না। তখন দ্বিতীয়বার তাকে আদেশ করলেন যেন গিয়ে তাদেরকে নিষেধ করে। লোকটি গিয়ে আবার ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! তারা আমাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার মনে হয় এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এবার গিয়ে তাদের মুখে কিছু মাটি ঢেলে দাও। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাককে ভূলুষ্ঠিত করুক। আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে যে আদেশ করেছেন, তা তুমি পালন করছ না বা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিরক্ত করা থেকেও রেহাই দিচ্ছ না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৯, ইসলামীক সেন্টার)