ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে পার্থক্য এতটুকু যে, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব তার বর্ণনাতেكَإِذْنِهِ এ শব্দটা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... বুরায়দাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু কায়স অথবা বলেছেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) (আবূ মূসা) আল আশ'আর-কে দাউদ এর মতো মিষ্টি কণ্ঠ দান করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২১, ইসলামীক সেন্টার)
দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ..... আবূ মূসা (আল আশ'আরী) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মূসা (রাযিঃ) কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ গতরাতে আমি যখন তোমার কুরআন পাঠ শুনছিলাম তখন যদি তুমি আমাকে দেখতে তাহলে খুব খুশী হতে। তোমাকে তো দাউদ এর মতো সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল আল মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের বছরে সফরকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সওয়ারীতে বসে সূরাহ আল ফাতহ পড়ছিলেন। আর কিরাআতে তিনি তারজী' (দ্বিরুক্তি) করছিলেন। মু'আবিয়াহ ইবনু কুররাহ বলেছেন আমি যদি আমার পাশে অধিক মাত্রায় লোকজনের জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা না করতাম তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে কিরআত করেছিলেন সেভাবে কিরআত করে তোমাদেরকে শুনাতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1854 — Sahih Muslim 6:282
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُغَفَّلٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ عَلَى نَاقَتِهِ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفَتْحِ . قَالَ فَقَرَأَ ابْنُ مُغَفَّلٍ وَرَجَّعَ . فَقَالَ مُعَاوِيَةُ لَوْلاَ النَّاسُ لأَخَذْتُ لَكُمْ بِذَلِكَ الَّذِي ذَكَرَهُ ابْنُ مُغَفَّلٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের দিন আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উটনীর পিঠে বসে সূরাহ আল ফাতহ পাঠ করেছেন। মু'আবিয়াহ ইবনু কুররাহ বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল তারজী’সহ (সূরাহ আল ফাতহ) পাঠ করে শুনলাম। মু'আবিয়াহ বলেছেন, লোকজন জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে 'আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণ করে যেভাবে (সূরাহটি পাঠ করে) শুনিয়েছেন আমিও সেভাবে শুনাতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী এবং উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে খালিদ ইবনু হারিস বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেনঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সওয়ারীতে বসে সূরাহ আল ফাতহ পড়তে পড়তে পথ অতিক্রম করছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৫, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। সে সময় তার কাছে মজবুত লম্বা দু'টি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এ সময়ে একখণ্ড মেঘ তার মাথার উপরে এসে হাজির হ’ল। মেঘ খণ্ডটি ঘুরছিল এবং নিকটবর্তী হচ্ছিল। এ দেখে তার ঘোড়াটি ছুটে পালাচ্ছিল। সকাল বেলা সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে ঐ বিষয়টি বর্ণনা করল। এসব কথা শুনে তিনি বললেনঃ এটি ছিল (আল্লাহর তরফ থেকে) রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন পাঠের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৬, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) [শব্দগুলো ইবনুল মুসান্না-এর] ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে বা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৭, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিবকে বলতে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর উভয়েই পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তারা تَنْقُزُ শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও হাজ্জাজ ইবনুশ শাইর (রহঃ) [তাদের শব্দগুলো প্রায় কাছাকাছি] ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একরাতে উসায়দ ইবনু হুযায়র তার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলেন। এমন সময় তার ঘোড়া লাফঝাপ দিতে শুরু করল। তিনি(কিছুক্ষণ পর)পুনরায় পাঠ করতে থাকলে ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ দিতে শুরু করল।(কিছুক্ষণ পরে) তিনি আবার পাঠ করলেন এবারও ঘোড়াটি লাফ দিল। উসায়দ ইবনু হুযায়র বলেন- এতে আমি আশঙ্কা করলাম যে, ঘোড়াটি (শায়িত ছেলে) ইয়াহইয়াকে পদপিষ্ট করতে পারে। তাই আমি উঠে তার কাছে গেলাম। হঠাৎ আমার মাথার উপর সামিয়ানার মতো কিছু দেখতে পেলাম। তার ভিতরে অনেকগুলো প্রদীপের মতো জিনিস আলোকিত করে আছে। অতঃপর এগুলো উপরের দিকে শূন্যে উঠে গেল এবং আমি আর তা দেখতে পেলাম না। তিনি বলেছেনঃ পরদিন সকালে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! গতকাল রাতে আমি আমার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মজীদ পাঠ করছিলাম। এমতাবস্থায় আমার ঘোড়টি হঠাৎ লাফঝাপ দিতে শুরু করল। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু হুযায়র! তুমি কুরআন পাঠ করতে থাকতে। ইবনু হুযায়র বলেন, আমি পুনরায় পাঠ করলাম। ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ শুরু করে। আবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু হুযায়র! তুমি পাঠ করতে থাকতে। আমি পাঠ করে সমাপ্ত করলাম। ইয়াহইয়া ঘোড়াটির পাশেই ছিল। তাই ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করে ফেলতে পারে আমি আশঙ্কা করলাম (এবং এগিয়ে গেলাম)। তখন আমি মেঘপুঞ্জের মতো কিছু দেখতে পেলাম যার মধ্যে প্রদীপের মতো কোন জিনিস আলো দিচ্ছিল। এটি উপর দিকে উঠে গেল এমনকি তা আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব শুনে বললেন। ওসব ছিল মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ)। তারা তোমার কুরআন শ্রবণ করছিল; তুমি যদি পড়তে থাকতে তাহলে ভোর পর্যন্ত তারা থাকত। আর লোকজন তাদেরকে দেখতে পেত। তারা লোকজনের দৃষ্টির আড়াল হত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৯, ইসলামীক সেন্টার)