কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... আবূ মূসা আল আশ'আর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মু’মিন আল কুরআন মাজীদ পাঠ করে তার উদাহরণ হ’ল কমলালেবু যা স্বাদে ও গন্ধে উত্তম। আর যে মু’মিন আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হ’ল খেজুর যার সুগন্ধ না থাকলেও স্বাদে মিষ্ট। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হ’ল রায়হানাহ ফুল যার সুগন্ধি আছে এবং স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হ'ল হানযালাহ (মাকাল) যার কোন সুগন্ধি নেই এবং স্বাদও খুব তিক্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩০, ইসলামীক সেন্টার)
হাদ্দাব ইবনু খালিদ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উভয়ে কাতাদাহ (রহঃ) থেকে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হাম্মাম বর্ণিত হাদীসে الْمُنَافِقِ শব্দটিকে الْفَاجِرِ শব্দ দ্বারা বদল করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩১, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ঐসব মালাকগণের সাথে থাকবে যারা আল্লাহর অনুগত, মর্যাদাবান এবং লেখক। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তার জন্য কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও বারবার পড়ে সে ব্যক্তির জন্য দু'টি পুরস্কার নির্দিষ্ট আছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩২, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... উভয়ে কাতাদাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে এ কথাটি আছে "আর যে ব্যক্তি তার জন্য কঠোর ও কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও কুরআন তিলাওয়াত করে তার জন্য দু'টি পুরস্কার আছে।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদ্দাদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাকে তোমার সামনে কুরআন পড়ে শুনাতে আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবনু কা'ব বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ তা'আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- হ্যাঁ, আল্লাহ তা'আলা আমার কাছে তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক বলেন, এ কথা শুনে উবাই ইবনু কাব কাঁদতে শুরু করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ মহান আল্লাহ তোমার সামনে আমাকে (সূরাহ) لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا পড়ার জন্য আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবনু কাব বললেনঃ তিনি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি (হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক) বলেন, এ কথা শুনে তিনি (উবাই ইবনু কাব) কেঁদে ফেললেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1866 — Sahih Muslim 6:294
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُبَىٍّ بِمِثْلِهِ .
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) কে লক্ষ্য করে অনুরূপ বলেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শারবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন পাঠ করে শোনাও। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে কুরআন পাঠ করে শোনাব? কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ অন্যের নিকট থেকে আমার কুরআন শুনতে ভাল লাগে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন- তাই এরপর আমি সূরাহ আন নিসা পাঠ করলাম। যখন আমি এ আয়াত فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا "হে নবী! একটু চিন্তা করুন তো সে সময় এরা কি করবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব"- (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ৪১) তিলাওয়াত করা হলে আমি মাথা উঠালাম অথবা কেউ আমার পার্শ্বদেশ স্পর্শ করে ইঙ্গিত দিলে আমি মাথা উঠালাম এবং দেখতে পেলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (চোখ থেকে) অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1868 — Sahih Muslim 6:296
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَمِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ، جَمِيعًا عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَزَادَ هَنَّادٌ فِي رِوَايَتِهِ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ " اقْرَأْ عَلَىَّ " .
হান্নাদ ইবনুস সারী ও মিনহাজ ইবনুল হারিস আত তামীমী (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এই একই সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হান্নাদ তার বর্ণনায় এ কথা বৃদ্ধি করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়ানো অবস্থায় একদিন আমাকে বললেনঃ আমাকে (কুরআন) পাঠ করে শোনাও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-কে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাও। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) বললেন- আমি আপনাকে কুরআন পড়ে শোনাব? অথচ কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি অন্যের মুখ থেকে কুরআন পাঠ শুনতে ভালবাসি। হাদীস বর্ণনাকারী ইবরাহীম বলেনঃ অতঃপর তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) সূরাহ্ আন নিসার প্রথম থেকেفَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا "হে নবী! একটু ভেবে দেখুন তো সে সময় এরা কী করবে যখন আমি প্রত্যেক উন্মাতের মধ্যে থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব"— (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ৪১) এ আয়াত পর্যন্ত তাকে পড়ে শুনালেন। এতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেঁদে ফেললেন। বর্ণনাকারী মিস’আর বলেছেনঃ মা’ন আমার কাছে হাদীসটি জাফার ইবনু আমর ইবনু হুরায়স তার পিতা হুরায়স-এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, এ আয়াত পাঠের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি যতক্ষণ তাদের মধ্যে আছি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের জন্য সাক্ষী। কিংবা বর্ণনাকারী মিস'আর-এর সন্দেহ যে, তিনি বলেছেন, "যতক্ষণ তাদের মাঝে ছিলাম।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৯, ইসলামীক সেন্টার)