আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ), ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জুনদাব ইবনু সুফইয়ান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ঈদুল আযহায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি অন্য কোন কাজ না করে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। সালাত শেষে সালাম ফিরলেন। অতঃপর তিনি কুরবানীর গোশত দেখতে পেলেন, যা তার সালাত আদায়ের আগেই যাবাহ করা হয়েছিল। তারপর তিনি বললেন, যে লোক সালাত আদায়ের আগে তার কুরবানীর পশু যাবাহ করেছে, সে যেন এর জায়গায় অন্য একটি পশু যাবাহ করে। আর যে ব্যক্তি যাবাহ করেনি সে যেন আল্লাহর নাম নিয়ে (বিসমিল্লা-হ বলে) যাবাহ করে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯০৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... জুন্দাব ইবনু সুফইয়ান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ঈদুল আযহায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি মানুষের সাথে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) শেষ করে একটি বকরী দেখতে পেলেন, যা সালাতের আগেই যাবাহ করা হয়েছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সালাতের আগে যে লোক যাবাহ করেছে, সে যেন এর জায়গায় অন্য একটি বকরী যাবাহ করে। আর যে যাবাহ করেনি সে যেন এখন আল্লাহর নাম নিয়ে যাবাহ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯০৫, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) আসওয়াদ ইবনু কায়স (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং তারা আবূল আহ্ওয়াস (রহঃ) এর হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯০৬, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... জুন্দাব বাজালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি ঈদুল আযহার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করছিলেন। অতঃপর তিনি খুতবাহ দিতে গিয়ে বলেন, যে লোক সালাত সম্পন্ন হওয়ার আগে যাবাহ করেছে সে যেন এর জায়গায় আরেকটি (পশু) যাবাহ করে। আর যে যাবাহ করেনি, সে যেন এখন আল্লাহর নামে যাবাহ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯০৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মামা আবূ বুরদাহ (রাযিঃ) সালাতের আগে কুরবানী করলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটা গোশতের বকরী। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছে ছয় মাসের একটি বকরীর বাচ্চা রয়েছে। তিনি বললেন, সেটি যাবাহ করো। তুমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য তা ঠিক হবে না। অতঃপর তিনি বললেন, যে লোক সালাতের আগে যাবাহ করল, সে শুধু নিজের জন্যই যাবাহ করল (অর্থাৎ আল্লাহর জন্য হলো না)। আর যে লোক সালাতের পর যাবাহ করল, তার কুরবানী পূর্ণ হয়ে গেল এবং সে মুসলিমদের শরীআত অনুযায়ী কাজ করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯০৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তার মামা আবূ বুরদাহ্ ইবনু নিয়ার (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যাবাহ এর আগে যাবাহ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আজকের দিনে গোশত খোঁজা ভাল নয়। তাই আমি আমার পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বীয় গৃহের লোকদেরকে খাওয়ানোর উদেশে দ্রুত কুরবানী করেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আবার কুরবানী করো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছে একটি দুধেল বকরী আছে, যেটি গোশতের (মাপে) দুটি বকরীর চেয়েও ভাল। তিনি বললেন, দুটির কুরবানীর মধ্যে এটিই তোমার উত্তম কুরবানী হবে। আর তুমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য ছয় মাসের বকরী যথেষ্ট হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯১০, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ...... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) কুরবানীর দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের লক্ষ্য করে খুতবাহ দিলেন এবং বললেনঃ সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায়ের আগে কেউ যেন যাবাহ না করে। বারা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমার মামা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আজকের দিনে তো গোশত খোঁজা ভাল নয়। অতঃপর বর্ণনাকারী হুশায়ম (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের উপরোল্লিখিত বাক্য বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯১১, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আমাদের মতো সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করে, আমাদের কিলামুখী হয় এবং আমাদের মতো কুরবানী করে, সে যেন সালাতের পূর্বে যাবাহ না করে। পরে আমার মামা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো আমার ছেলের পক্ষ থেকে কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেন, সেটা তো এমন জিনিস, যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য জলদি করে (যাবাহ করে) ফেলেছ। তিনি বললেন, আমার কাছে (এমন) একটি বকরী আছে, যা দুটি বকরীর চেয়েও উত্তম। তিনি বললেন, তুমি সেটা কুরবানী করো। কারণ সেটাই তোমার উত্তম কুরবানী হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯১২, ইসলামিক সেন্টার)
(…) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজকের দিনে আমাদের প্রথম কাজ হলো সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করা। তারপর আমরা ফিরে গিয়ে কুরবানী করব। যে লোক এরূপ করলো সে আমাদের সুন্নাত পালন করলো। আর যে লোক (সালাতের আগে) যাবাহ করলো, সেটা কেবল গোশত (খাওয়ার জন্য) হলো, যা সে নিজের পরিবারের জন্য অগ্রিম ব্যবস্থা করলো। সেটা কুরবানীর কিছুই হলো না। আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাযিঃ) পূর্বেই কুরবানীর নিয়্যাতে যাবাহ করে ফেলেছিলেন। তাই তিনি বললেন, আমার কাছে একটি ছয় মাসের বকরীর বাচ্চা আছে যা এক বছরের বাচ্চার চেয়েও হৃষ্টপুষ্ট। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সেটিই কুরবানী করো। তোমার পরে আর কারো জন্য এটা যথেষ্ট হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯১৩, ইসলামিক সেন্টার)