কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও হান্নাদ ইবনু সারী (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে সর্বাধিক উত্তম তারাই যারা আমার যুগের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকেরা (অর্থাৎ সহাবাগণ)। তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী সংযুক্ত যুগের লোক (অর্থাৎ তাবিঈগণ)। তারপর তাদের সংযুক্ত যুগ (অর্থাৎ তাবি তাবিঈন)। অতঃপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা শপথের পূর্বে সাক্ষী দিবে এবং সাক্ষীর পূর্বে শপথ করবে। আর হান্নাদ তার হাদীসেالْقَرْنَ (যুগ বা সময়) কথাটি বর্ণনা করেননি এবং কুতাইবাহ বলেছেন, ثُمَّ يَجِيءُ أَقْوَامٌ "অতঃপর অনেক সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হবে"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…) উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল-হানযালী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলো, সর্বোত্তম লোক কে? তিনি বললেন, আমার যুগের লোক। তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী যুগ, তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী যুগ। তারপর এমন এক সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হবে, যাদের সাক্ষীর পূর্বেই শপথ ত্বরান্বিত হবে এবং শপথের পূর্বেই সাক্ষ্য সংঘটিত হবে। ইবরাহীম বলেছেন, আমাদের শৈশবে লোকেরা আমাদেরকে শপথ ও সাক্ষাদান হতে বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৪০, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... আবূল আহওয়াস ও জারীরের সানাদে মানসূর হতে অবিকল বর্ণিত। তবে তাদের উভয়ের হাদীসে سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করা হয়েছিল) বর্ণনা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৪১, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল-হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর সানাদে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ সর্বোত্তম লোক আমার যুগের লোক (অর্থাৎ সাহাবীগণ)। তারপর তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থাৎ- তাবিঈগণ। তারপর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট (অর্থাৎ তাবি তাবিঈন)। তারপর তিনি বলেন, তৃতীয় অথবা চতুর্থটি সম্বন্ধে আমি অজ্ঞাত। তিনি (রাবী) বললেন, তারপর তাদের পরবর্তীতে এমন লোক আসবে, যাদের কেউ কেউ শপথের পূর্বে সাক্ষী দেবে এবং সাক্ষ্যের পূর্বে শপথ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৪২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৰ্বোত্তম লোক তারা, যাদের মাঝে আমি আদিষ্ট হয়েছি (অর্থাৎ সহাবাগণ)। তারপর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন (অর্থাৎ তাবিঈ)। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। তারপর তিনি তৃতীয়টি বর্ণনা করেছেন কিনা মনে নেই। রাবী বলেন, তারপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে, যারা মোটা-সোটা হওয়া পছন্দ করবে এবং এবং সাক্ষ্য দিতে ডাকার আগেই সাক্ষ্য প্রদান করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম আমার যুগের লোকেরা। তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী যুগ। তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী যুগ। ইমরান (রাযিঃ) বলেন, আমার স্মরণে নেই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তার যুগের পর দু' যুগের নাকি তিন যুগের কথা বলে বর্ণনা করেছেন। তারপর তাদের পরবর্তীতে এমন এক জাতির উদ্ভব হবে যারা সাক্ষ্য প্রদান করবে অথচ তাদের নিকটে সাক্ষ্য তলব করা হবে না। আর তারা খিয়ানাত করতে থাকবে এবং আমানতদারী রক্ষা করবে না। তারা মানৎ করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না। আর তাদের দেহে মোটা-সোটা হওয়া প্রকাশ পাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) এর সূত্রে এ সানাদে অবিকল বর্ণিত। আর তাদের অর্থাৎ- ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ, বাহয ও শাবাবাহ বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেনঃ “আমার স্মরণে নেই যে, তিনি কি তার যুগের পরে দু' যুগ কিংবা তিন যুগের কথা বর্ণনা করেছেন কি না?” শাবাবাহ বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি যাহদাম ইবনু মুদরাব হতে শুনেছি। তিনি আমার নিকটে ঘোড়ার পৃষ্ঠে সওয়ার হয়ে এক বিশেষ দরকারে এসেছিলেন। তারপর তিনি আমাকে হাদীস শুনান যে, তিনি ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) হতে শুনেছেন। আর ইয়াহইয়া ও বাহয বর্ণিত হাদীতে বর্ণনা রয়েছে- يَنْذُرُونَ وَلاَ يَفُونَ "তারা মানৎ করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না।" আর বাহয বর্ণিত হাদীসে ইবনু জাফার এর বর্ণনানুযায়ী يُوفُونَ শব্দটির বর্ণনা রয়েছে। (শাব্দিক পার্থক্য থাকলেও হাদীসের মূল কথা একই)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক উমাবী (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়নের সানাদে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি বর্ণিত। এ বর্ণনায় রয়েছে, এ উম্মাতের সর্বোত্তম হলো তারাই, যাদের মাঝে আমি আদিষ্ট হয়েছি (অর্থাৎ- সহাবাগণ)। আবূ আওয়ানাহ্ বর্ণিত হাদীসে বর্ধিত রয়েছে যে, তিনি বলেন, আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত, তিনি তৃতীয়টি বর্ণনা করেছেন কিনা? ইমরান থেকে যাহদাম বর্ণিত হাদীসের অর্থানুসারে। কাতাদাহ্ (রহঃ) এর সানদে হিশাম বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অতিরিক্ত রয়েছে যে, يَحْلِفُونَ وَلاَ يُسْتَحْلَفُونَ অর্থাৎ- “তারা শপথ করতে থাকবে কিন্তু তাদের নিকট শপথ চাওয়া হবে না।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও শুজা ইবনু মুখলাদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করল, সর্বোত্তম লোক কে? তিনি বললেনঃ সে যুগ, যাতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। এরপর দ্বিতীয় যুগ, তারপর তৃতীয় যুগ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৪৮, ইসলামিক সেন্টার)